প্রথম মোবাইল ফোন কিনেছিলাম সেই ইউনিভার্সিটির শেষ সেমেস্টার পরীার শেষে। সেটা বোধহয় অগাস্ট 2002 ছিল। মডেল নাম্বারটা মনে নেই তবে মোটোরোলা - ফোল্ডিং টাইপ- ছিল। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির কারনে দিনে দিনে চারপাশে অনেক আকর্ষনীয় মডেলের সেট দেখলেও আমি সেই পুরোনো সেটটিকেই হাতের মুঠোয় সযতনে রাখতাম ।
গত বছর ডিসেম্বরে কিছু সঙ্গত কারনে অনেক কিছু পালটে ফেলতে চাইলাম। শুরুটা মোবাইল দিয়েই করলাম। একদিন ইষ্টার্ণ প্লাজা চলে গেলাম। এবার ঠিক করে গিয়েছিলাম নকিয়ার অথবা সিমেন্স এর কোন মডেল কিনব এবং ফোল্ডিং সেট কিনবনা। প্রথমেই একটা দোকানের ডিসপ্লেতে দুইটা মোটোরোলা সেট পছন্দ হয়ে গেল। আমি তখনও নকিয়ার অথবা সিমেন্স এর সেট কেনার দৃঢ় অঙ্গিকারাবদ্ধ। কিন্তু আর সবকটা দোকান ঘুরে আমি এক সময় সেই প্রথম দোকানটাতেই এসে ঢুকলাম। আমি দু'মুঠোতে দুইটা মোবাইল ফোন হাতে দাঁড়িয়ে ফাংশন বুঝতে মোনোযোগী। একটি সেট -এ ক্যামেরা থাকায় তা আমাকে আকৃষ্ট করল। কিনত্দ ু পরোনে যখন শুনলাম অন্য সেটটিতে এফ.এম রেডিও সিস্টেম আছে সিদ্ধানত্দ নিতে এক মূহুর্ত দেরী করলাম না। জ্যামে আটকে পরা মুড়ির টিনের মত বাসে প্রতিদিন বিরক্ত এই আমি একটু যেন ছন্দের আহ্বান পাই। ব্যাস, আর দেরী না করে আমি ছোট, হালকা, কালো রঙের, ফোল্ডিং মোটোরোলা ডবি্লউ 220 এর মালিক হয়ে গেলাম।
CD কিনে বাঙলা গান শোনা হয়না অনেক দিন। টেলিভীষন চ্যানেলগুলোতে সব গান শোনানো কিনবা দেখানো হয়না। আসা-যাওয়ার পথে বড় বড় সাইনবোর্ডে 98.4 এফ.এম. আর 89.6 এফ.এম. একটু নস্টালজিক করে তোলে। ছোটবেলায় দেখেছিলাম রেডিওর জনপ্রিয়তা । বড় হতে হতে সেই রেডিওকে হারিয়েও যেতে দেখেছি।
মাঝে প্রায় মাস সাতেক আমি কুয়ালালামপুর ছিলাম । ওখানে বাসে আসা-যাওয়ার সময় রেডিও শুনতাম। নামাযের সময় রেডিওতে আযান শুনে দেশের কথা মনে হতো। সকালে আমার মালয় হোস্টেলমেটদের কাস অথবা কাজে যাওয়ার সময় রেডিও শুনতে দেখতাম। একটূ-আধটু মালে ভাষা জানতাম বলে কখনো কখনো বুঝতেও পারতাম; নয়তবা ওরাও মাঝে মাঝে বুঝিয়ে দিত।
আমি খুব অবাক হয়ে ভাবতাম আমরা রেডিওকে এত পেছনে ফেলে এসেছি কেন ! বলাবাহুল্য, তখন আমি নতুন শুরু হওয়া দুটো রেডিও স্টেশন - রেডিও ফুর্তি, রেডিও টুডে ু সম্পর্কে অবহিত ছিলাম না। দেশে ফিরে আসার পর পত্রিকায় পড়ে আর সাইনবোর্ড দেখে বেশ উৎসাহী ছিলাম।
সুতরাং, সঙ্গত কারনেই মোবাইলটির সাথে সখ্যতা হতে আমার মোটেই দেরী হলোনা। গনত্দব্যস্থল অফিস অথবা বাসা যাই হোকনা কেন, বাস এ উঠেই দুকানে Ear Piece দুটো গুঁজে খুব সহজেই নিজেকে যান্ত্রিক কোলাহল থেকে আলাদা করে ফেলি। আমি অস্থির থাকতাম অফিস শেষ করে কখন মোবাইল এর রেডিও অপশনটা চালু করব! দীর্ঘ জ্যামে যখন সবার ভ্রু কুঞ্চিত, আমি তখন রেডিওতে তাহসান এর "বিন্দু আমি, তুমি আমায় ঘিরে..." অথবা বাপ্পার "আজ তোমার মন খারাপ মেয়ে, তুমি আনমনে..." শোনাতে মগ্ন; কিনবা আমার অঙ্গুলী ব্যতিব্যসত্দ 98.4 এফ.এম. আর 89.6 এফ.এম এর টিউনিং এ।
বেশ ভালই কেটে যাচ্ছিল ...
(অপোয় থাকুন 2য় পর্বের )
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



