
এ ভাবেই নিজের শরীরের উপর নির্যাতনের বর্ণনা ব্যক্ত করলেন ১১ বছর বয়সী হ্যাপী। গত বছর ৫ সেপ্টেম্বর ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন ও তার স্ত্রীর উপর শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়। রাজধানীর কালশী এলাকা থেকে রোববার রাতে হ্যাপি নামের শিশু গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে পল্লবী থানার পুলিশ। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। মেয়েটি পুলিশকে জানিয়েছে, সে ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেনের বাসায় কাজ করে।
পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকির বলেন, রাত পৌনে ১০টার দিকে কালশীর সাংবাদিক কলোনি এলাকা থেকে হ্যাপিকে উদ্ধার করে পুলিশ। ক্রিকেটার শাহাদাতের বাসা মিরপুর থানা এলাকায়। কিন্তু মেয়েটি কোনোভাবে সাংবাদিক কলোনি এলাকায় চলে যায়। সেখান থেকে লোকজনের ফোন পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মিরপুর থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে শাহাদাত হোসেন রোববার গণমাধ্যমকে বলেন, মেয়েটিকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি। সে পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছে। সকাল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। এ কারণে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর থানায় তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
হ্যাপীর সারা শরীরে নির্যাতনের চিত্র ফুঁটে উঠে, চোখ,নাক-মুখ ফুলে উঠে। পায়ে ফ্রাকচার দেখা দেয়। হ্যাপীর ভাষায় - ‘ভাইয়া শাহাদাত আমার পেটে লাত্থি দিয়ে বলে সুজিতে হলুদ মরিচ কেন মিশিয়েছিস?’
এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে। অথচ আজ এক বছর পর তার ফলাফল কি পেলাম? বেকসুর খালাস পেলেন ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন। তার নাকি কোন দোষ ই নাই। পড়ে গিয়ে নাকি ওর এই অবস্থা হইছে। আমার হাসি পায় এ সমস্ত খবরগুলো পরলে। হ্যাপীর উপর কি অমানবিক নির্যাতন হয়েছিল তা আমরা সবাই জানি, তবুও তারা ছাড়া পায় কি ভাবে? অথচ বাংলাদেশে এ সব একেবারে ডাল ভাতের মত সস্তা হয়ে গেছে। আমরা দেখেছি রাজন হত্যাকে কিভাবে হত্যা করেছে। অথচ দেখি নাই আসামিদের কি বিচার হইছে। আমরা দেখেছি ছোট্ট একটা শিশুর পায়ু পথ দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে, অথচ সেই আসামি এখন কোথায় আছে তাও জানি না। এই ভাবে প্রতি নিয়ত অপরাধীরা অর্থ বা প্রভাব খাঁটিয়ে আইনের ফাঁক দিয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছে, আর আমরা শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি। আর কত রাজন মরলে, আর কত হ্যাপী অত্যাচারিত হলে আইনের রক্ষাকর্তাদের মন গলবে? সু শাষন পাবে এ দেশের মানুষ ? সেদিন কবে আসবে ? আমরা কি সেদিন দেখতে পাব?
সূত্র : বিভিন্ন সংবাদ পত্র
#দুখু_মিয়া
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



