স্কুল থেকে পরীক্ষা দিয়ে এসেছি মাত্র, বাসায় ঢুকতেই আবার পরীক্ষার সম্মুক্ষিন, মাষ্টার একটা! পাড়ার সব ছেলেরা খালে ডুবাতে যাচ্ছে আমিও প্রস্তুত চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘর থেকে বেরুবো অমনি হাজির কোথায় যাচ্ছ? জ্বর, ঠান্ডা লাগাতো চাও পরীক্ষা চলছে যাওয়া যাবে না, হুমম দারোয়ান একটা! শিতের সকাল জোস করে ঘুমাচ্ছি ওফফ লেপ মুরি দিয়ে আরামের ঘুম! হঠাৎ সটাং করে গায়ের লেপটা একটানে সরিয়ে ফেলে চিৎকার এত বেলা করে ঘুম রেজাল্ট এবার খারাপ করলে পড়ালেখাই বন্ধ করে দেবো! ডাইনি একটা! খাবার খেতে বসেছি সব খাবারের স্তুপ আমার প্লেটে, ছোট বোনেরা এর আগেও মৃদু প্রতিবাদ করেছিলো সব ছেলেকেই খাওয়ানো হচ্ছে! ওরা এমনিতেই কম খায় বেশি দিলেও প্লেট থেকে ফেরৎ আসতো। খাবার নিয়ে হাসপাস করছি খেতে পারছিনা, চোখ রাঙ্গানী শরীরটা রেখেছোতো রবিউল বডি বানিয়ে না খেলে চলবে! বাবুর্চি একটা। ক্লাস এইটে অংক পরীক্ষায় ফেল মারলাম তাহার কানে পৌছা মাত্র সব বই আটক হলো ঘোষনা আসলো আমাকে আর পড়ালেখা করতে হবে না। কিছুটা খুশি হলাম, পরক্ষনেই মাথায় রাজ্যের চিন্তা মাথায় আসলো। উনি প্রায়ই আমাকে বলতেন পড়ালেখা করে বড় চাকুরী করবি, বাড়ি হবে গাড়ী হবে আরো কত কি! কাঁদতে কাঁদতে তার পায়ে পরে গেলাম আর ফেল করবো না আমি পড়ালেখা করেবো বই ফেরত চাই। বই ফেরত পেলাম তবে হুমকি আবার ফেল মারলে বই আর দেয়া হবে না! সৈর শাসক একটা! স্কুলে স্যারের ধোলাই খেয়ে এসেছি, হাতে মেরেছে পুরো হাত জুরে গভীর দাগ পড়ে আছে। খেতে বসেছি ফুল হাতার শার্ট পড়ে খাচ্ছি। কি ব্যপার গরমের মধ্যে ফুল হাতার শার্ট পড়ে খাচ্ছ কেন ? ভয়ে আমি পগারপার ধোলাই বুঝি আবার খাবো স্কুলে পড়া পারিনি এ অপরাধে দ্বিতীয় বার! আমি আমতা আমতা করছি, আচ্ছা ঠিক আছে হাতাটা ভাজ করে নাও। আদেশ পালন করলাম, তাহার চিৎকার কিরে তোকে কে এমন অমানবিকভাবে মেরেছে। তিনি কাঁদছেন জড়িয়ে ধরে, আর প্রলাপ বকছেন। আমিও কাঁদছি, চোখের জলে ভেসে যাচ্ছি, মায়াবিনি একটা। হ্যা তিনটিা কে সে হলো মা, মা এবং মা। একটা বিজ্ঞাপনে শুনি এতো মা, মা করে কি হবে মা আমাদের কি দিয়েছে! কি দেয়নি মা, একজন ভালো মা ভালো সন্তানে দেশ ভরিয়ে দিলে সে দেশের উন্নতি নিশ্চিত! যাদের মা নেই তারা বোঝে মায়ের অভাব। মা আছে বলেই আমার সুখের কথা ভেবে এখন একটা বউ আন বউ আন করে মাথা খেয়ে ফেলছেন। মাঝে মাঝে ইট পাথরের ঢাকা শহরে থাকতে থাকতে মা, বাবাকে ভূলেই যাই! তখনই নচিকেতার বৃদ্ধাশ্রম গানটা শুনি। নিজেকে ফিরে পাই। কতবার যে এ গানটা শুনে কেঁদেছি। তোমার কারনে আজ আমি এতদূর এসিছি, মা ও মা আজ এই দিনে তোমায় সালাম
তিনি এবং তার জন্যই এই আমি!!
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
স্কুল থেকে পরীক্ষা দিয়ে এসেছি মাত্র, বাসায় ঢুকতেই আবার পরীক্ষার সম্মুক্ষিন, মাষ্টার একটা! পাড়ার সব ছেলেরা খালে ডুবাতে যাচ্ছে আমিও প্রস্তুত চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘর থেকে বেরুবো অমনি হাজির কোথায় যাচ্ছ? জ্বর, ঠান্ডা লাগাতো চাও পরীক্ষা চলছে যাওয়া যাবে না, হুমম দারোয়ান একটা! শিতের সকাল জোস করে ঘুমাচ্ছি ওফফ লেপ মুরি দিয়ে আরামের ঘুম! হঠাৎ সটাং করে গায়ের লেপটা একটানে সরিয়ে ফেলে চিৎকার এত বেলা করে ঘুম রেজাল্ট এবার খারাপ করলে পড়ালেখাই বন্ধ করে দেবো! ডাইনি একটা! খাবার খেতে বসেছি সব খাবারের স্তুপ আমার প্লেটে, ছোট বোনেরা এর আগেও মৃদু প্রতিবাদ করেছিলো সব ছেলেকেই খাওয়ানো হচ্ছে! ওরা এমনিতেই কম খায় বেশি দিলেও প্লেট থেকে ফেরৎ আসতো। খাবার নিয়ে হাসপাস করছি খেতে পারছিনা, চোখ রাঙ্গানী শরীরটা রেখেছোতো রবিউল বডি বানিয়ে না খেলে চলবে! বাবুর্চি একটা। ক্লাস এইটে অংক পরীক্ষায় ফেল মারলাম তাহার কানে পৌছা মাত্র সব বই আটক হলো ঘোষনা আসলো আমাকে আর পড়ালেখা করতে হবে না। কিছুটা খুশি হলাম, পরক্ষনেই মাথায় রাজ্যের চিন্তা মাথায় আসলো। উনি প্রায়ই আমাকে বলতেন পড়ালেখা করে বড় চাকুরী করবি, বাড়ি হবে গাড়ী হবে আরো কত কি! কাঁদতে কাঁদতে তার পায়ে পরে গেলাম আর ফেল করবো না আমি পড়ালেখা করেবো বই ফেরত চাই। বই ফেরত পেলাম তবে হুমকি আবার ফেল মারলে বই আর দেয়া হবে না! সৈর শাসক একটা! স্কুলে স্যারের ধোলাই খেয়ে এসেছি, হাতে মেরেছে পুরো হাত জুরে গভীর দাগ পড়ে আছে। খেতে বসেছি ফুল হাতার শার্ট পড়ে খাচ্ছি। কি ব্যপার গরমের মধ্যে ফুল হাতার শার্ট পড়ে খাচ্ছ কেন ? ভয়ে আমি পগারপার ধোলাই বুঝি আবার খাবো স্কুলে পড়া পারিনি এ অপরাধে দ্বিতীয় বার! আমি আমতা আমতা করছি, আচ্ছা ঠিক আছে হাতাটা ভাজ করে নাও। আদেশ পালন করলাম, তাহার চিৎকার কিরে তোকে কে এমন অমানবিকভাবে মেরেছে। তিনি কাঁদছেন জড়িয়ে ধরে, আর প্রলাপ বকছেন। আমিও কাঁদছি, চোখের জলে ভেসে যাচ্ছি, মায়াবিনি একটা। হ্যা তিনটিা কে সে হলো মা, মা এবং মা। একটা বিজ্ঞাপনে শুনি এতো মা, মা করে কি হবে মা আমাদের কি দিয়েছে! কি দেয়নি মা, একজন ভালো মা ভালো সন্তানে দেশ ভরিয়ে দিলে সে দেশের উন্নতি নিশ্চিত! যাদের মা নেই তারা বোঝে মায়ের অভাব। মা আছে বলেই আমার সুখের কথা ভেবে এখন একটা বউ আন বউ আন করে মাথা খেয়ে ফেলছেন। মাঝে মাঝে ইট পাথরের ঢাকা শহরে থাকতে থাকতে মা, বাবাকে ভূলেই যাই! তখনই নচিকেতার বৃদ্ধাশ্রম গানটা শুনি। নিজেকে ফিরে পাই। কতবার যে এ গানটা শুনে কেঁদেছি। তোমার কারনে আজ আমি এতদূর এসিছি, মা ও মা আজ এই দিনে তোমায় সালাম
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন
তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর (Lighthouse)
বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"
"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।