somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রামসাগর।

০৬ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রামসাগর কোন সাগর নয়, এটি আকার ও সৌন্দয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় দীঘি। দিনাজপুর শহর থেকে ৫ মাইল দক্ষিনে অবস্থিত এ দীঘিটি শুধু জলাধার বা ‌ঐতিহাসিক কীর্তি নয়, এক বিশাল প্রাকৃতিক সৌন্দয়ের অধিকারি অর্থাৎ একটি মনোরম পার্ক। পলাশী যুদ্ধের অনতিপূর্বে দিনাজপুরের বিখ্যাত রাজা রামনাথ দীঘিটি খনন করান এবং তার নামেই এর নামকরণ করা হয়।
পাশ্ববর্তী গ্রামগুলোর পানির চাহিদা পূরণের জন্য দীঘিটি খনন করা হয়। বলা হয় যে সেসময় (১৭৫০-১৭৫৫) এ অঞ্চলে প্রচন্ড খরা ও দুর্ভিক্ষ চলছিল ‌এবং রাজা রামনাথ "কাজের বিনিময়ে খাদ্য" কর্মসূচীর মাধ্যমে মানুষদের সাহায্য করেন এবং দীঘিটি খনন করান। এতে প্রায় ১৫ লক্ষ শ্রমিক অংশ নেয় এবং সেসময়ের মূদ্রায় মোট ব্যয় দাড়ায় ৩০,০০০ টাকা।



রামসাগর নামের দীঘিটির চারপাশে সবুজ গাছ-পালায় ভরা। দীঘিটি উত্তর দক্ষিন লম্বা। দীঘিটির জলভাগের দৈর্ঘ্য ১০৩১ মিটার, প্রস্থ ৩৬৪ মিটার ও গভীরতা ৯ মিটার। দক্ষিন দিকের চেয়ে উত্তর দিকের গভীরতা বেশি। দীঘির প্রধান পাকা ঘাট পশ্চিম পাড়ের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত যা সুপ্রশস্থ। এই ঘাট এর দৈর্ঘ্য ১৫০ ফুট প্রস্থ ৬০ ফুট। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিন দিকেও একটি করে ঘাট রয়েছে, কিন্তু এই ঘাটগুলি আকারে ছোট।

দীঘির চারদিকে বেশকিছু উচুঁ-উচুঁ টিলা ছিল, তবে এই উচুঁ পাহাড় গুলোর সব আজ আর দেখা যায় না। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এর উচু পাহাড়গুলি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। উত্তর-পূর্ব কোনের সবচে উচুঁ পাহাড়টি আজও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। এই পাহাড়টির উচ্চতা সমতল থেকে ৪০ ফুট উচুঁ। দীঘির উত্তর দিকে একটা ধংসম্তপ দেখা যায়, এটা নিয়ে মনুষের নানা প্রশ্ন-নানা কৌতুহল। কেউ বলে এটা মন্দির আবার কেউ বলে রাজার বিশ্রামাগার। দীঘির পশ্চিম পাড়ের ঠিক বিপরীতে একটি ছোটখাট কৃত্রিম চিড়িয়াখানা আছে এবং তাতে চিত্ত বিনোদনের নানা সামগ্রী রয়েছে। উত্তর কোন ও চিড়িয়াখানার মাঝখানে একটি মসজিদও রয়েছে। দীঘির চারদিকে লোকজন হাঁটার জন্য ইট বিছান পথ,মানুষ বসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় সুব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসে রামসাগরের প্রাকৃতিক সৌন্দয় উপভগের জন্য, আবার অনেক মানুষ আসে বনভোজনের জন্য। রামসাগরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন, চোখে না দেখলে।

রামসাগর পর্যটন বিভাগের তত্বাবধানে রয়েছে। পর্যটন কর্পোরেশন এর শ্রী বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ও একটি মনোরম ও আধুনিক বিশ্রামাগার স্থাপন করেছে।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

(আবার ফিরে যাই ঝুমতলি)

লিখেছেন সুলতানা শিরীন সাজি, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ৮:১৮

রেললাইন বয়ে যায়।ভোরের প্রার্থনার বিপুল শক্তি।অন্ধকারকে আলো দিতে দিতে সকাল এগোয়! এমন সকাল এলেই ঝুমতলি যেতে ইচ্ছে করে! কুয়াশাঘেরা এক স্টেশনের রেললাইন ধরে হেঁটে যেতে ইচ্ছে করে। কালো রং শাড়িতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে দিনের বেলা ভ্রমণ ........

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ১০:২৮


ঢাকা - বরিশাল/বরিশাল - ঢাকা নৌপথে দিনের বেলা বিগত বছরগুলোতে শুধু মাত্র গ্রীন লাইন জাহাজ কোম্পানির দুটি জাহাজ চলাচল করতো। যাত্রী সল্পতায় একটা জাহাজ বন্ধ করে, এক জাহাজেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুর মোবাইল এপ্লিকেশনের ইউজার ইন্টারফেস কেমন হতে পারে !

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১:২১



কয়েক দিন ধরে একটা অনলাইন কোর্সে ফটোশপ এবং ইলাস্ট্রেটরের বিভিন্ন টুলসের ব্যবহার শিখছি। তবে শিখতে গিয়ে যা টের পেলাম তা হচ্ছে আমার ভেতরে ক্রিয়েটিভি শূন্য। যাই হোক, সেখানকার একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Four Beautiful Ladies, বাংলাদেশী মডেলিং জগতে যাদের তুলনা ছিল শুধুই তারা - ওরা চারজন (পেছনে ফিরে দেখা)

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:১৫



মাঝে মাঝে এমন হয় যে, একটা দীর্ঘ এক ঘন্টার নাটকের চাইতে ৩০ সেকেন্ড বা এক মিনিট এর একটা বিজ্ঞাপন আমাদের মনে অনেক গভীর দাগ কেটে যায়। আর নব্বই এর দশকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারায়ণগঞ্জে নয় ঘন্টা

লিখেছেন আবদুল্লাহ আফফান, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:৪২


দিনটা অন্যান্য দিনের মতোই শান্ত। তবুও অন্যদিনের চেয়ে আলাদা। সংক্ষিপ্ত সফরে নারায়গঞ্জে যাচ্ছি। সকাল ১০টায় বাসা থেকে বের হলাম। হোটেলে নাস্তা খেয়ে কমলাপুরের নারায়ণগঞ্জ প্লাটফর্ম থেকে টিকেট কাটলাম। ট্রেন ছাড়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×