somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইরান বনাম ইজরাইল আমেরিকা যুদ্ধ; কার কি লাভ?

২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



২০০৬ থেকে আহমাদিনেজাদ ইজরাইলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে, আমেরিকা ২০০২ থেকে ইরানে হামলার প্ল্যান করছে, নেতানিয়াহু ৪০ বছর ধরে স্বপ্ন দেখছেন ইরানে হামলা করার। তো এ যুদ্ধ তো হওয়ার ই ছিলো।
তো সবাই যে এই যুদ্ধের জন্য অপেক্ষা করছিল, এই যুদ্ধে কার কি লাভ?

ইজরাইল:
ইজরাইল নিজেকে রিজিওনাল সুপার পাওয়ার মনে করে, ভবিষ্যতে পৃথিবীর একমাত্র সুপার পাওয়ার হতে চায় (সেটা আর এক গল্প)। রিজিওনাল হেজিমনি প্রতিষ্ঠায় তার একমাত্র বাধা ইরান। তো ইরান কে তো কুপোকাত করতেই হবে। এর পর কি? বৃহত্তর ইজরাইল প্রতিষ্ঠা, সামনে তুরষ্ক ও পাকস্তান কিছুটা বাধা হতে পারে, ওগুলিও পর্যায়ক্রমে শেষ করা হবে।
এটা তো গেলো ইজরাইলের লাভ, এর বাইরে নেতানিয়াহুর ব্যাক্তিগত কিছু লাভও আছে।

আমেরিকা:
আমেরিকার লাভ সম্পূর্ন অর্থনৈতিক। আমেরিকা ইরানে রেজিম পরিবর্তন করতে চায় যাতে আমেরিকান কোম্পানিগুলি সেখানে তেল গ্যাসের ব্যবসা করতে পারে। ইরান ইউয়ান এ চিনের কাছে তেল বিক্রি করে যা ডলারের আধিপত্যে আঘাত। যদিও ইরান এই দুই ক্ষেত্রেই শেষ মুহুর্তে ছাড় দিয়ে যুদ্ধ এড়াতে চাচ্ছিল। আমেরিকার আরো কিছু লাভ আছে। ইরানের তেল গ্যাসের উপর নিয়ন্ত্রন নিতে পারলে শুধু রাশিয়া ছাড়া মোটামুটি তেল গ্যাসের বড় একটা মজুদ তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে ( ভেনেজুয়েলা তাদের নিয়ন্ত্রণে)। এতে করে চীনের তেল ক্রয়ের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে। চাইলেই তারা চীনের সরবরাহ লাইনে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারবে যা তাদের চীনের উপর একটু ভারী বার্গেইনিং চিপ প্রদান করবে। চাইলে তেলের সাপ্লাইয়ে বিঘ্ন সৃষ্টি করে চিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে। আর একটা লাভ হচ্ছে সিরিয়া ভেনেজুয়েলার পর চীন রাশিয়ার আরো একটি বন্ধুর পতন ঘটানো।
এছাড়াও ট্রাম্পের ব্যক্তগত লাভ ও আছে। এপষ্টিন :D
আর ইজরায়েলের ব্ল্যাক মেইলিং থেকে রক্ষা পাওয়া।

ইরান:
যদিও ইরান জান প্রান দিয়ে এই যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করেছে, তবুও এই যুদ্ধ জিততে পারলে ইরানের খুব বড় লাভের সুযোগ আছে। তার মধ্যে অন্যতম অত্র অঞ্চলে ইরান প্রুভেন রিজিওনাল পাওয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আরব দেশ গুলির উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। আমেরিকাকে মিডলইস্ট থেকে বিতারিত করতে পারবে যা ইজরাইলেও দূর্বল করবে। এতে ইরান ও তার প্রক্সি গ্রুপগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ও তাদের আরো শক্তিশালী করবে। আমেরিকাকে এই অঞ্চল থেকে বিতারন মানে আরব দেশগুলির উপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ ভেংগে পরবে আর তেলের উপর নিয়ন্ত্রন হারাবে। যা ডলারের আধিপত্য হ্রাস করবে এবং ইরানকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে সুযোগ দেবে।

চীন ও রাশিয়া:
চীন ও রাশিয়া যদিও এই যুদ্ধে সরাসরি যোগ দেয়নি তবুও তাদের লাভের অংক ও অনেক বড়। আমেরিকা হারলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল গ্যাসের উপর আমেরিকা নিয়ন্ত্রন হারাবে যে শূন্যস্থান চীন পূরন করবে। ডলারের জায়গা ইউয়ান দখন করবে। আমেরিকার অর্থনীতি দূর্বল হবে, চীন আরো শক্তিশালী হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চীন বিশ্বে একক সুপার পাওয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।
অন্যদিকে রাশিয়ার ও লাভ। যুদ্ধ যতদিন চলবে ইউক্রেনের দিকে কারো নজর থাকবে না। আমেরিকা হারলে ইউক্রেন তো যাবে সাথে পূর্ব ইউরোপ এমনকি পশ্চিম ইউরোপ ও রাশিয়ার সাথে যুক্ত হয়ে আমেরিকা বিরোধী জোট করতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:২২
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শততম পোস্টে আমিই একমাত্র ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৩৫

আমার শততম পোস্টে আজ আমিই একমাত্র ব্লগার। জানালা দিয়ে পশ্চিমের স্বচ্ছ আকাশে শুকতারা দেখছি।
নিউইয়র্ক সময় অনুযায়ী এখানে রাত ১০.৪৬ মিনিট, তারিখ ১১ই মে ২০২৬
তাপমাত্রা +৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস
বাংলাদেশ তারিখ ১২ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৪৬ঃ দ্যা গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং

লিখেছেন কিরকুট, ১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:০৬

১৯৪৬ সালের আগস্ট। ব্রিটিশ ভারত তখন স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। কিন্তু স্বাধীনতার স্বপ্নের ভেতরেই জমতে শুরু করেছে বিভাজনের কালো মেঘ। ধর্ম, রাজনীতি ও ক্ষমতার হিসাব এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের দিকে এগোচ্ছিল। সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×