
২০০৬ থেকে আহমাদিনেজাদ ইজরাইলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে, আমেরিকা ২০০২ থেকে ইরানে হামলার প্ল্যান করছে, নেতানিয়াহু ৪০ বছর ধরে স্বপ্ন দেখছেন ইরানে হামলা করার। তো এ যুদ্ধ তো হওয়ার ই ছিলো।
তো সবাই যে এই যুদ্ধের জন্য অপেক্ষা করছিল, এই যুদ্ধে কার কি লাভ?
ইজরাইল:
ইজরাইল নিজেকে রিজিওনাল সুপার পাওয়ার মনে করে, ভবিষ্যতে পৃথিবীর একমাত্র সুপার পাওয়ার হতে চায় (সেটা আর এক গল্প)। রিজিওনাল হেজিমনি প্রতিষ্ঠায় তার একমাত্র বাধা ইরান। তো ইরান কে তো কুপোকাত করতেই হবে। এর পর কি? বৃহত্তর ইজরাইল প্রতিষ্ঠা, সামনে তুরষ্ক ও পাকস্তান কিছুটা বাধা হতে পারে, ওগুলিও পর্যায়ক্রমে শেষ করা হবে।
এটা তো গেলো ইজরাইলের লাভ, এর বাইরে নেতানিয়াহুর ব্যাক্তিগত কিছু লাভও আছে।
আমেরিকা:
আমেরিকার লাভ সম্পূর্ন অর্থনৈতিক। আমেরিকা ইরানে রেজিম পরিবর্তন করতে চায় যাতে আমেরিকান কোম্পানিগুলি সেখানে তেল গ্যাসের ব্যবসা করতে পারে। ইরান ইউয়ান এ চিনের কাছে তেল বিক্রি করে যা ডলারের আধিপত্যে আঘাত। যদিও ইরান এই দুই ক্ষেত্রেই শেষ মুহুর্তে ছাড় দিয়ে যুদ্ধ এড়াতে চাচ্ছিল। আমেরিকার আরো কিছু লাভ আছে। ইরানের তেল গ্যাসের উপর নিয়ন্ত্রন নিতে পারলে শুধু রাশিয়া ছাড়া মোটামুটি তেল গ্যাসের বড় একটা মজুদ তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে ( ভেনেজুয়েলা তাদের নিয়ন্ত্রণে)। এতে করে চীনের তেল ক্রয়ের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে। চাইলেই তারা চীনের সরবরাহ লাইনে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারবে যা তাদের চীনের উপর একটু ভারী বার্গেইনিং চিপ প্রদান করবে। চাইলে তেলের সাপ্লাইয়ে বিঘ্ন সৃষ্টি করে চিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে। আর একটা লাভ হচ্ছে সিরিয়া ভেনেজুয়েলার পর চীন রাশিয়ার আরো একটি বন্ধুর পতন ঘটানো।
এছাড়াও ট্রাম্পের ব্যক্তগত লাভ ও আছে। এপষ্টিন
আর ইজরায়েলের ব্ল্যাক মেইলিং থেকে রক্ষা পাওয়া।
ইরান:
যদিও ইরান জান প্রান দিয়ে এই যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করেছে, তবুও এই যুদ্ধ জিততে পারলে ইরানের খুব বড় লাভের সুযোগ আছে। তার মধ্যে অন্যতম অত্র অঞ্চলে ইরান প্রুভেন রিজিওনাল পাওয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আরব দেশ গুলির উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। আমেরিকাকে মিডলইস্ট থেকে বিতারিত করতে পারবে যা ইজরাইলেও দূর্বল করবে। এতে ইরান ও তার প্রক্সি গ্রুপগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ও তাদের আরো শক্তিশালী করবে। আমেরিকাকে এই অঞ্চল থেকে বিতারন মানে আরব দেশগুলির উপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ ভেংগে পরবে আর তেলের উপর নিয়ন্ত্রন হারাবে। যা ডলারের আধিপত্য হ্রাস করবে এবং ইরানকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে সুযোগ দেবে।
চীন ও রাশিয়া:
চীন ও রাশিয়া যদিও এই যুদ্ধে সরাসরি যোগ দেয়নি তবুও তাদের লাভের অংক ও অনেক বড়। আমেরিকা হারলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল গ্যাসের উপর আমেরিকা নিয়ন্ত্রন হারাবে যে শূন্যস্থান চীন পূরন করবে। ডলারের জায়গা ইউয়ান দখন করবে। আমেরিকার অর্থনীতি দূর্বল হবে, চীন আরো শক্তিশালী হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চীন বিশ্বে একক সুপার পাওয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।
অন্যদিকে রাশিয়ার ও লাভ। যুদ্ধ যতদিন চলবে ইউক্রেনের দিকে কারো নজর থাকবে না। আমেরিকা হারলে ইউক্রেন তো যাবে সাথে পূর্ব ইউরোপ এমনকি পশ্চিম ইউরোপ ও রাশিয়ার সাথে যুক্ত হয়ে আমেরিকা বিরোধী জোট করতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




