কলেজের ইংরেজী পাঠ্যসূচীতে একটি গল্প ছিলো। এস,টি কোলরিজের এনসিয়েন্ট মেরিনার। লেখাটি মূলত ছিলো একটি পদ্য। তাকে পরবর্তিতে গল্পে রুপান্তর করা হয়। গল্পটি এরকম যে, একটি জাহাজ কয়েকজন নাবিক নিয়ে একটি মহাসাগরে চলতে থাকে। জাহাজটি সাগরের বুকে চলতে থাকলে এলবাট্রস নামক এক প্রকার বিশাল ডানার পাখি ঐ জাহাজের উপর উড়ে এসে বসে। সেই পাখি ছিলো পবিত্রতার প্রতিক। কেউ কখনোই সেই পাখিকে হত্যা করতো না। কিন্তু ভুল বশতঃ এক নাবিক সেই এলবাট্রাস পাখিকে হত্যা করে।
তার পর শুরু হয় ঐ জাহাজীদের দূর্বিশহ জীবন। জাহাজটি এক সময় কঠিন বরফে আটকা পড়ে। দিনের পর দিন আটকে থাকা জাহাজের খাবার সহ অন্যান্য রশদ সামগ্রী ফুরিয়ে যায়। গল্পটির একটি সুপরিচিত ডায়লগ ছিলো এই রকম
ওয়াটার ওয়াটার এভরি হয়্যার, বাট দেয়ার ওয়াজ নট এ ড্রপ টু ড্রিঙ্ক ..... অর্থাৎ সর্বত্রই পানি আছে, কিন্তু পান করার মতো এক ফোটা পানিয় নাই ..... এমন দূর্বিষহ পরিস্তিতিতে একে একে সব নাবিকই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, তবে যে নাবিকটি পাখিকে হত্যা করেছিলো, সেই নাবিকটি বেচে থাকে। সে মৃত্যু যন্ত্রণায় কষ্ট পেতে থাকে, এই যন্ত্রণার অবসানের জন্য মৃত্যুকে সে কামনা করতে থাকে, কিন্তৃ মৃত্যুও তাকে ঘৃণা করে আলিঙ্গন করেনি। পাখিটা হত্যা করে সে যে পাপ করেছে, তাতে সে অভিশপ্ত জীবন যাপন করতে থাকে .... একপর্যায়ে সে ক্ষমা প্রার্থণা করে, তার প্রার্থণা মঞ্জুর হয় .... একদিন ভোরে রোদ ওঠে, বরফ গলে পানি তৈরী হয়, জাহাজ আবার চলতে শুরু করে ....এবং নাবিকটি জাহাজ নিয়ে গন্তব্যে পৌছায় .....
গল্পটি পড়ানোর সময় ম্যাডাম প্রশ্ন করেছিলেন , কেউ কি বলতে পারো, সব নাবিক মারা গেলো অথচ যে অপরাধ করেছিলো, সে কেনো মরলো না?
সবাই তখন উত্তর করেছিলাম, মরে গেলে তো বেচেই যেতো ...পাপের প্রায়শ্চিত্ত তো আর হতো না ......
নবাব সিরাজ উদ দৌলার সাথে বেঈমানি করে মীর জাফর কিন্তু বাংলার মসনদে টিকে থাকতে পারেনি, প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই তাকে টিস্যু পেপারের মতো ফেলে দিয়েছিলো ইংরেজ সরকার .... ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে ..... যারা বোঝার তারা বাঁচে ..... যারা বোঝে না, তারা যন্ত্রণা ভোগ করে .. .. .. আপনি আমি শেষের দলে মনে হয়!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


