রাজনীতি কি জিনিষ ! জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দেয় পরিবার, সমাজ, দেশ ....! গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্রে সরকারী দল এবং বিরোধী দল উভয় দলেরই মূখ্য ভুমিকা থাকে। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারাসাম্য বজায়ে রাখার জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল থাকাটা সরকারের জন্যই বাঞ্ছনীয়। কারণ বিরোধী দল সব সময়ই সরকারের ভুল পদক্ষেপের সমালোচনা করার ব্যপারে সোচ্চার থাকে। সুতরাং শক্তিশালী বিরোধী দল থাকলে সরকারও এমনভাবে পদক্ষেপ নেয়, যেনো বিরোধী দল তাদের ভুলের কোন সুযোগ না নিতে পারে।
এমন দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করলে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার ও বিরোধী দলের ভুমিকা ব্যপক বলেই বিবেচিত হয়।
সংসদীয় গণতন্ত্রে নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠিত হয়। যে দল বেশী আসন লাভ করে, সেই দলই সরকার গঠনের সুযোগ পায়। তার অর্থ এই নয় যে সে একক - একশ তে একশ। বক্তব্যের খাতিরে বলা যায় তারা একশোতে একান্ন আর বিরোধী দল একশোতে উনপঞ্চাশ। সুতরাং একান্ন হয়ে উনপঞ্চাশকে খাটো করে দেখার, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার, অবজ্ঞা করা কোন সুবিবেচিত বিষয় নয়। বরং তাদের প্রাপ্য মর্যাদার প্রদানের মাধ্যমেই দেশ উন্নয়নে দিকে ধাবিত করা উচিৎ।
কিন্তু আমাদের দেশে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ গনতন্ত্রের চর্চা কখনোই ছিলো না। যা-ও বা ছিলো এখন তা-ও বিলীন হওয়ার পথে। নতুন নতুন পন্থায় জনগনকে জিম্মি করে চলছে নিজ নিজ স্বার্থ রক্ষার নীল নক্ষা বাস্তবায়ন।
ছোট একটা গল্প বলে লেখার ইতি টানি .....
একটি পরিবারে ছিলো বাবা মা আর তাদের দুই ছেলে। বড় ছেলে আর ছোট ছেলে। স্বভাবতই দুই ভায়ের মধ্যে সারাদিনই খুনশুটি মারামারি লেগেই থাকতো। চলতে পথে বড় ভাই ছোট ভাইকে একটি খোচা মারলে ছোট ভাই থুথু ছিটায়। থুথু খেয়ে বড় ভাই ছোট ভাইকে চড় মারে তো চড় খেয়ে ছোট ভাই বড় ভাইকে দেয় গাল। এভাবেই চলছিলো সংসারে অশান্তি। একদিন ছোট ভাই একটি প্লেট ভেঙে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলো, কারণ সে আর সহ্য করতে পারছিলো না। বড় ভাই দেখলো এই সুযোগ। রাতের আঁধারে সে ঘরের সব কাঁচের জিনিস পত্র ভেঙে চুরমার করে দিব্যি নিজের ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে থাকলো। সকালে উঠে বাবা মা দেখে বাসার সব কাচের জিনিষ পত্র ভাঙা। তারা তো রেগে আগুন। কে করেছে এই কাজ? মা বল্লো অবশ্যই ছোটটা করেছে, কারণ এর আগেও সে একটি প্লেট ভেঙেছিলো সবার সামনে। ছোটকে দেয়া হলো রাম ধোলাই। সে যতই বলে আমি এগুলো ভাঙি নাই, কে শোনে তার কথা!! এদিকে বড় ভাই তো বিছানায় শুয়ে মিটি মিটি হাসে আর ভাবে যাক ! ওর রাস্তাতেই ওকে শায়েস্তা করা গেছে ...কিন্তু এই শায়েস্তা করতে গিয়ে যে সে বাসার কত ক্ষতি করে বসলো, তার বাবা মায়ের সাজানো সংসার ধ্বংস করে দিলো, সেই খেয়াল তার নাই .... সে শুধু জানছে সে তার ছোট ভাইকে ধোলাই খাওয়াতে পেরেছে, হিংসা চারিতার্থ করতে পেরেছে, এতেই তার সুখ!! সে জানে না যে একদিন সেও বাবা হবে, তার ঘরেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে ...সেও সর্বসান্ত হতে পারে ....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


