
জীবনটা একটা ছন্দময় গতিতেই চলছিলো অনিমেষের। খুশি মতো ঘুরছিলো, ফিরছিলো .... নীতি নৈতিকতার নিরীখে ভালো লাগে এমন সব কিছুই এন্জয় করে চলছিলো সে। কেনো অতীত কালে কথা বলছি সেটা একটু পরেই জানবেন। সে ভাবছিলো বয়স কি থেমে আছে নাকি ! বয়স তো বেড়েই চলেছে ...কিন্তু তার তো কোন লক্ষণ দেখি না। তবে মাঝে মাঝেই সে ভাবে কোন না কোন এক সময় তো ঠিকই চোখ দুটো মুদে যাবে ....চির দিনের জন্য। কখন কোথায় কিভাবে হবে সেটাই হলো ভাগ্যের নির্ধারণ।
বেশ কিছুদিন ধরেই পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা ...। অনিমেষ ভেবেছিলো এমনিতেই হয়তো সেরে যাবে। কিন্তু না ... সারছে না। বউয়ের গুতাগুতি আর প্যানপ্যানানিতি শেষ মেষ গেলো ডাক্তার সাহেবের কাছে। ভদ্রলোক কিছু টেষ্ট দিলেন। গতকাল সেই রিপোর্ট পেয়ে অনিমেষ গেলো ডাক্তারের কাছে।
সর্বনাশ !! রিপোর্ট দেখে ডাক্তার সাহেব বল্লেন ...এ তো দেখি কেঁচো খুড়তে সাপ ....!! এ কি অবস্থা !!! কোলেষ্টেরল অনেক হাই, সুগারের মাত্রা মার্জিন ছুঁই ছুঁই ...... ইউরিক এসিড সহনীয় মাত্রার বাইরে সবে পা রাখছে .... !! ..... এসব কারণেই তো মানুষ হঠাৎ করেই হার্ট এটাকের সম্মুখীন হয়। এক্ষুনী নিয়মের মাঝে নিজেকে বাঁধুন ....। এটা অবশ্য ঠিক যে ইদানিং হঠাৎ করে হার্ট এটাকে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে ....। অনেক আত্মিয় স্বজনের মুখেই শুনা যাচ্ছে এভাবে বিনা নোটিশে মানুষের চলে যাওয়ার খবর।
ডাক্তারের কথায় অনিমেষ বুঝলো ....আর সবার মতো তারও বয়স বাড়ছে। কিছুদিন আগেই সে তার বাবাকে নিয়ে এই ডাক্তার সাহবেরে কাছে এসেছিলো অনিমেষ চিকিৎসার জন্য। বাবারও একই রকম ব্যাথা ছিলো। পরীক্ষায় দেখা গেলো ওনারও একই রকম সমস্যা। তখন নিজেকে দূর্দান্ত সুস্থ্য সবল মানুষ ভেবেছিলো। ভেবেছিলো বাবা বুড়ো মানুষ, এমন তো হতেই পারে ....... বাবার সাথে তার বয়সের বিস্তার ফারাক .... বাবার বয়সের কাছাকাছি আসার পরই না হয় শরীর নিয়ে ভাববো। কিন্তু তা আর হলো না .... রোগ এখন বাবা ছেলেকে সম পর্যায়ে নিয়ে আসলো।
আমার এই পোষ্টের উদ্দেশ্য কিন্তু অনিমেষের অবস্থার বর্ণনা করা নয়। আমার উদ্দেশ্য হলো সকল সহ ব্লগার যারা আছেন, যাদের বয়স ৪০ ছুয়েছে বা ছুঁবে, তারা একটু সচেতন হোন। প্রয়োজনে স্বউদ্যোগে কিছু কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করান। নিজেকে ও পরিবারকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখতে স্বচেষ্ট হোন .....
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



