আরবি ‘শাফায়াত’ শব্দের অর্থ হচ্ছে সুপারিশ। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে একাধিক আয়াতে তার প্রিয় নবী ও অলিদের সুপারিশ করার ক্ষমতা প্রদান করেছেন। আল্লাহতায়ালা পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করেছেন, আল্লাহতায়ালার অনুমতি সাপেক্ষে নবী এবং অলি-আল্লাহরা আল্লাহতায়ালার প্রিয় ব্যক্তিদের জন্য সুপারিশ করতে পারবেন এবং আল্লাহতায়ালা তাদের সুপারিশ কবুল করবেন। পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের প্রতি লক্ষ্য করুন, যাতে আল্লাহতায়ালা তার প্রিয়নবীকে (সা.) উম্মতের শাফায়াতের ক্ষমতা প্রদান করেছেন, ‘নিজেদের অবাধ্যতার পর ওরা আপনার নিকট এসে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে এবং আপনি ওদের জন্য ক্ষমা চাইলে তারা আল্লাহকে ক্ষমাকারী ও দয়ালু হিসেবে পাইবে (সূরা নিসা : ৬৪)’।
হাফেজ ইবনে কাছির তার বিখ্যাত তাফসিরে উপরোক্ত আয়াত শরিফের তাফসির করতে গিয়ে আবু মানসুর আস্সাব্বাগ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত একটি বিখ্যাত ঘটনার বর্ণনা করেন। হযরত উৎবির (রাঃ) বলেন," আমি রাসুলের (সাঃ) রওজা পাশে বসে ছিলাম। এমন সময় সেখানে এক বেদুঈনের আগমন ঘটে। সে বলে " আস্সালামু আলাইকুম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আল্লাহ তাআলার এই আয়াতটি (উপরোক্ত) শুনেছি। তাই আমি আপনার সামনে স্বীয় পাপের জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট ক্ষমা প্রার্থণা ও আপনার শাফায়াত কামনা করছি। অতঃপর তিনি এই কবিতাটি পাঠ করেন,
" হে ঐসবের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি! যাদের অস্থিগুলো প্রোথিত হয়েছে প্রান্তরে এবং সেগুলোর সুবাসে পর্বত ও প্রান্তর সুরভীত হয়েছে। সে কবরের জন্য আমার জান উৎসর্গিত হোক, যে কবরে আপনি অবস্থানকারী। ওতে রয়েছে পবিত্রতা, দানশীলতা ও ভদ্রতা।"
অতপর বেদুঈন চলে যায় ও আমার চোখে নিদ্রা চেপে আসে। আমি স্বপ্নে দেখি যে, রাসুলুল্রাহ (সাঃ) আমাকে যেনো বলছেন, যাও, ঐ বেদুঈনকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তার পাপ মার্জনা করেছেন।" ( তাফসীর ইবনে কাসির, খন্ড-৪, পৃষ্ঠা- ৪৬৬, )
হজরত আবদুর রহমান জামী (রহ.) তার বিখ্যাত শাওয়াহেদুন নবুয়ত কিতাবে উল্লেখ করেন, ‘হজরত আলী (রা.) বলেন, আমরা যখন রাসূল (সা.)-এর দাফনকার্য সম্পাদন করছিলাম তখন এক বেদুঈন এসে নবীজীর (সা.) কবরে আছড়ে পড়ল এবং নিজ মাথায় মাটি নিক্ষেপ করতে করতে বলতে লাগল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা.), আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘যদি তারা নিজেদের ওপর জুলুম করে অতঃপর আপনার কাছে এসে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে তাহলে আল্লাহ তাদের অপরাধ মার্জনা করবেন (সূরা নিসা : ৬৪)। এখন আমি আপনার দরবারে এই উদ্দেশ্যে উপস্থিত হয়েছি। কিন্তু আপনি তো আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এখন আমি কোথায় যাব? তখন কবর থেকে আওয়াজ এলো- ‘যাও তোমাকে ক্ষমা করা হয়েছে’। হজরত আলী (রা.) বলেন, ওই আওয়াজ উপস্থিত সবাই শুনতে পেয়েছিল। (শাওয়াহেদুন নবুয়ত, মদিনা পাবলিকেশন্স পৃ. ১৪৩-১৪৪)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

