somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট গল্প প্রিতিমা অরবিন্দু....... ?

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ভোর ৫:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিটা দেখে অবাক হলো প্রিতিমা । আজ কতদিন পরে প্রিতিমার বুকের বামপাশটায় হঠাৎ ঘুমিয়ে থাকা একটা ব্যাথা যেন লাফ দিয়ে উঠলো । ওটা প্রিতিমাদের বিয়ের ছবি ছিল । প্রিতিমার জীবনে অরবিন্দু ঝড়ের মত হঠাৎ করে ছুঁটে আসা একটুকরো ঝড় ছিল।

প্রিতিমাদের গ্রামের বাড়ি বরিশাল ছিল। প্রিতিমা সে বছর ইন্টার সেকেন্ট ইয়ারের ছাত্রী । তার পড়া লেখায় যেমন ছিল মেধা তেমন ছিল রূপ বুদ্ধি ভরপুর পরিপূর্ণ এক দীপ্তময়ী মেয়ে ।প্রিতিমা আর অরবিন্দুর সম্পক গড়ে উঠেছিল প্রিতিমার এক বান্ধবীর
গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ।তবে তাদের বেশিদিন দুরত্ব সম্পকে থাকতে হয়নি ! তাদের সম্পক গড়ে ওঠার এক বছরের মাথায়
বিয়ে হয়েছিল ।

খুব ভালো চলতেছিল প্রিতিমা আর অরবিন্দুদের সংসার। অরবিন্দু একটি ছোট ব্যবসা করতো । বিয়ের এক বছরের মাথায় অরবিন্দু আর প্রিতিমার কুল জুড়ে আসলো বড় মেয়ে রুবি । রুবির যখন বয়স চার পেরুলো তখন আবার প্রিতিমা আর অরবিন্দুর কুল জুড়ে তাদের ছোট মেয়ে কিউট তিশিমার পৃথিবীতে আগমণ ঘটল।

হঠাৎ করে দেশের পরিস্থিতির সাথে সাথে অরবিন্দুর ব্যবসার পরিস্থিত খারাপ হতে থাকলো একটি পর্যায় বছর দু-একের ভিতরে এতটা খারাপ হলো
যে সংসার চালাতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছিল । বেশ কিছুদিন তার পরেও কষ্টে সংসার চলতেছিল ।

প্রিতিমা আর অরবিন্দুর ,মা-বাবা,ছাড়াও বাড়িতে ছোট ভাই বোন তাদের লেখা পড়ার খরচ সব মিলিয়ে প্রিতিমা যখন দেখল স্বামী অরবিন্দু সংসার চালাতে হিমসিম খেয়ে যাচ্ছে…………………..অন্যদিকে প্রায় আট মাসের বাড়ি ভাড়া আটকে গেছে, স্বামী অরবিন্দু সেই কোন সকালে বেরিয়ে যায় কাজের উদ্ধেশে আর বাড়িতে ফিরেন মাঝ রাতে,সারাদিন কি খান কি খান না কোথায় থাকেন সারাদিন তার কিছুই জানে না প্রিতিমা । ফোন করলেও প্রায় সময় অরবিন্দু ফোন রিসিব করেন না । অভাব অনটন যেন তাদের সুখের সংসারটাকে গ্রাস করতে উঠেপরে লেগেছে। স্বামীর সে দূরসহ কষ্ট আর ভালো লাগছিলনা প্রিতিমার কাছে।

তখন প্রিতিমা তার এক বান্ধবীর সাথে পরামর্শ করে একটি চাকুরি নিলেন । কয়েক মাস চাকুরি পার হয়ে গেল …………বাড়িওয়ালাকে আগামি মাস
বলতে বলতে পুরো এক বছরের ভাড়া জমে গেল । একদিন সকালে বাড়িওয়ালা এসে অরবিন্দুকে খুব অপমান করলো ভাড়া না দেয়ার দায়ে ।
অনেক কষ্টে বাড়িওয়ালাকে রাতে বাসায় ফিরে টাকা দিবেন বলে মানিয়ে অরবিন্দু বাসা থেকে বের হলেন ।প্রিতিমাও অফিসে চলে গেলেন ।
প্রতিদিনের মত বিকেল পাঁচটায় প্রিতিমা বাসায় ফিরলেন । দেখতে দেখতে রাত বারোটা বেজে গেলো কিন্তু স্বামী অরবিন্দুর কোন খবর নাই ।এর
মধ্যে বাড়িওয়ালা লোকটা তিনবার এসে ঘুরে গেছেন অরবিন্দুর দেখা না পেয়ে প্রিতিমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে গেছেন আর বলেছেন আজকে
সমস্ত টাকা না দিতে পারলে পুরো ফ্যামেলীকে জেলের পাঠাবে ।

অপেক্ষা করতে করতে প্রিতিমা কখন যে খাবার টেবিলে মাথা হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল তা সে বলতে পারে না । হঠাৎ মোবাইল ফোনের শব্দে তার ঘুম ভেঙ্গে গেল । ফোন রিসিব করলো । হ্যালো অরবিন্দু ? অপর প্রান্ত থেকে জী না আসলে আমরা আপনার কাছ থেকে এ ফোনের মালিক সম্পর্কে কিছু জানতে চেয়েছিলাম ।আপনারা কারা তাছাড়া ফোন আপনাদের হাতে কেন ? অরবিন্দু কোথায় ? আসলে দেখুন আমরা পুলিশের লোক
আমরা হাসপাতাল থেকে বলছি । এই ফোনের ডায়াল লিস্টে আপনার নাম্বারটি প্রথমে দেখছি তাই আমরা আপনাকেই ফোন দিয়েছি ।
আসলে উনি আপনার কে হন ? জী উনি আমার স্বামী হন,কিন্তু কেন বলুনতো ? আর ওই বা হাসপাতালে কেন ? আসলে আমরা উনাকে রাস্তার পরে থাকতে দেখে তুলে হাসপাতালে আনি আর এখানে আনার পর ডাক্তার বলেছেন উনি অনেক আগেই স্টক করে পৃথিবী থেকে ………..?
এ কথা শোনার পরে প্রিতিমা চারদিক কেমন যেন অন্ধকার দেখতে ছিলেন ……..। প্রিতিমা হাসপাতালে যান স্বামীর মুখ শেষ দেখার জন্য।


সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ভোর ৫:২৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×