somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তাহারা দেখেনি তোমার কীর্তি কতোটা অমলিন.........চট্টলার রাজপথ শোধ্ করতে পারবেনা তোমার ঋণ.........

২৩ শে মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৪:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উদয়ের পথে শুনি কার বাণী,
"ভয় নাই, ওরে ভয় নাই--
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান
ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।'

বংগবন্ধুর ডাকে আন্দোলন সংগ্রামে
অংশ নিতে গিয়ে পাক বাহিনির কাছে
গ্রেফতার হন অসংখ্যবার। মুক্তিযুধ্যে
অংশ নিতে গিয়ে আই এস আইয়ের
চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমী সদরদপ্তরের
কাছে গ্রফতার হয়ে অমানুষিক
নির্যাতনের শিকার হন দীর্ঘ চার মাস।
পাক বাহিনির নির্যাতনের চিহ্ন
আজও তার শরিরে বয়ে
বেরাচ্ছেন। তার গ্রেফতারের খবরে
ততদিনে ভারতের একটি মুক্তিযোদ্ধা
শিবিরে শহিদ ক্যাম্প খোলা
হয়েছিলো। বেচে থাকার কথা ছিলোনা
তার। শহিদ ভেবে বাবা ছেলের নামে
দিয়ে ছিলো ফাতেহা।
এরিমাঝে
একদিন মানসিক রোগীর নাটক করে
চট্টগ্রাম কারাগার থেকে পালিয়ে
বেরোন । পারি জমান
ভারতে। সেখানে সশস্ত্র প্রশিক্ষন
শেষে সক্রিয়ভাবে সম্মুখসমরে অংশ
নেন। ছিলেন ভারত-বাংলা
যৌথবাহিনীর মাউন্টেন ডিভিশনের
অধিনে।
তিনি কে বলুনতো?
চট্টগ্রামের নাম নিলেই যার ছবি চোখে ভেসে উঠে
যার ভয়ে এখনো স্বাধীনতার বিপখ্খ শক্তি হামাগুড়ি খায়
চট্টলার সিংহপুরূষ হাজারো শোষিত মানুষের আশার শেষ আশ্রয়স্থল এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী
অধিনে।
দেশ স্বাধিনের পর বংগবন্ধুর নির্দেশে
জহুর আহমদ চৌধুরির নেতৃত্বে ঝাপিয়ে
পরেন নতুন সংগ্রামে। বংগবণ্ধুর খুবই
কাছের আর আদরের ছাত্রনেতা ছিলেন
মহিউদ্দীন। কিন্তু তৎকালিন সময়ে প্রবল
ক্ষমতাশালি হয়েও ক্ষমতার মোহ একচুলও
স্পর্শ করেনি তাকে।
কিছুদিন না যেতেই ষড়যন্ত্রকারীদের
হাতে নিহত হন বংগবন্ধু। অল্পের জন্য
মহিউদ্দিন ধরা পরা থেকে বেচে যান,
মৃত্যু বরন করেন সাথি মৌলভি সৈয়দ।
পালিয়ে গিয়ে ভারতে
প্রতিবিপ্লবীদের সাথে যোগ দেন। লক্ষ্য
সামরিক জান্তা, খুনি মোশতাককে
সামরিক ভাবেই পরাস্ত করা। কিছুদিন
পরেই দলের নির্দেশে পন্হা পরিবর্তন
করে আবার সক্রিয় হন প্রকাশ্য
রাজনিতিতে।
দেশে এসেই একের পর এক হুলিয়া।
সামরিক বাহিনির হাতে নিষ্পেশন,
নির্যাতন, আর একের পর এক কারাভোগ।
তখন মহামান্য স্বৈরাচার জিয়া
ক্ষমতায়। মুক্তিযোদ্ধাদের উপর জিয়ার
দমন, বংগবন্ধু হত্যাকান্ডে গোপন
ষড়যণ্ত্রের ভুমিকা, প্রতিবাদি করে
তোলে মহিউদ্দিন কে। দলের নির্দেশে
চলে বৈপ্লবীক প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ।
তরুন ছাত্রনেতা মহিউদ্দিনের জুজু তে
সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা তটস্হ। মাঝে
আওয়ামি লীগের ভেতরেই
ষড়যন্ত্রকারীরা তৎপর হয়ে উঠলো।
বংগবন্ধু কন্যা আজকের জননেত্রী শেখ
হাসিনার ভুমিকাকে নগণ্য করতে তাকে
ঠেকাতে শত্রুরা উঠেপরে বসলো।
অদম্য
সাহসী মহিউদ্দীন চট্টগ্রাম থেকে
ঢাকায় গিয়ে দলবল নিয়ে বংগবন্ধু কন্যার
জন্য ঝাপিয়ে পরলেন। সব বাধা অতিক্রম
করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দলের
কান্ডারীর দায়ীত্ব নিতে সহয়তা
করলেন।
তারপর আসলো স্বৈরাচারি সামরিক
জান্তা এরশাদ। তারই শাসনামলে
চট্টগ্রামে স্বয়ং জান্তা প্রধানকে
অবান্চিত ঘোসনা করে চক্ষুসুল হন
সরকারের। ফলে আবারও রাজনৈতিক
বন্দি। ততদিনে চট্টগ্রামের আপামর
জনতার নয়নমনি হয়ে উঠেন মহিউদ্দীন
চৌধুরি।
পরবর্তীতে নব্বইয়ের গনআন্দোলনে
অগ্রণী ভুমিকা রেখে গণতান্ত্রিক
প্রগতিশীল শক্তির অন্যতম সুপুরষ বলে
বিবাচিত হন সর্ব মহলে। রাজাকার আর
সাম্প্রদায়ীক শক্তিকে ক্রমাগত পরাস্হ
করে, একানব্বইয়ের ঘুর্নিঝড়ে দুস্হ জনতার
পাশে দারিয়ে, অসহযোগ আন্দোলনে
খালেদার সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম
করে, গরিব-দুঃখি-শ্রমিকের অধিকারের
কথা বলে মহিরুহে পরিনত হন আজকের
মহিউদ্দীন।
এতকিছুর পরও থেমে থাকেননি এই উদ্যমী
জননেতা। গনমানুষের তথা চট্টগ্রামের
উন্নয়নের লক্ষ্যে ক্রমাগত ছুটে চলেছেন।
উপেক্ষা করেছেন রক্তচক্ষু। চালিয়ে
গেছেন উন্নয়নের চাকা। উরিয়ে চলেছেন
অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল রাজনীতি
আর মুল্যবোধের পতাকা।
সর্বশেষ নির্যাতিত হন রাজনিতি
পরিশোধনের নামে নেমে আশা
সামরিক শকুনের ওয়ান ইলেভেনের
শাসনামলে। ষাটোর্ধ বয়সে কারান্তরিন
ছিলেন দীর্ঘ দুই বছর। এরমধ্যেই নির্মম
ভাবে ইন্তেকাল করেন আদরের মেয়ে
ফওজিয়া সুলতানা টুম্পা। নানান
টালবাহানা করে টুম্পাকে মৃত্যু
অবধারিত জেনেও দেখতে দেয়নি
অনির্বাচিত সরকার নামক ভদ্রবেশি
আরেক নব্য সামরিক জান্তা। শতচেস্টা
আর মানসিক নির্যাতন করেও টলাতে
পারেনা সরকার মহিউদ্দীনকে একটুও।
দুর্নিতিবাজদের সাথে এক করেও
পারেনি দোষী সাব্যস্ত করতে। বারবার
তারা পরাজিত হয়েছে এই সংগ্রামী
মানুষের পাহারসম ব্যক্তিত্বের কাছে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×