আর ঠিক কিসের জন্য অপেক্ষায় আছি আমরা ?? কাটাতার এর বেড়ার ওপোর ঝোলানো হয় ফেলানীর লাশ, জীবন্ত তিতাস এর বুকে বাঁধ দি্যে দাদা দেশের সুবিধার্থে তৈরি করা হয় রাস্তা , রাজনৈতিক মদদপুষ্ট অযোগ্য চালকের হাতে খুন হয়ে যায় দেশের রতন, আর সেই রক্তের ওপরে দাড়িয়ে ভাড়ামোর হাসি আর মন্তব্য করে অযোগ্যতর মন্ত্রি , প্রকৃতির দান নদীর পানি তাতে চোখ রানঙ্গায় প্রতিবেশী দাদা দেশ, ভাগবন্টন চালায় খেয়ালখুশী মত , আর অন্ধবধির জননেত্রী দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের দিকে কাচকলা দেখিয়ে চক্ষুলজ্জার মাথা খেয়ে যান সম্মানসূচক "ডিগ্রী" নিতে !! চালের দাম ৪০ টাকা , বাজারে আগুন, মাছে ভাত বাংগালী আজ রূপকথারই নামান্তর। রাজনৈতিক চরম উশৃংখলার নজিরবিহীন খেলা চলছে আমাদের এই দেশে। দুটি রাজনৈতিক দল ই আসলে আছে আমাদের দেশে , তা হলো সরকারপক্ষ ,আর বিরোধীপক্ষ। মুদ্রার এ-পিঠ ও-পিঠ যে দল ক্ষমতায় যায় , লক্ষ্য একটাই - ক্ষমতার অপব্যহার, জোচ্চুরি আর পকেট ভরা। অবস্থা এখন এমন যেন ষোলো কোটি মানুয বনাম হাতে গোনা রাজনৈতিক মাথারা। জিম্মী পুরো দেশটাই এখন এদের হাতে ।
মাথায় রক্ত চড়ে গেল যখন জানতে পারলাম, একটা অর্ধফোটা সপ্নকে কলিতেই পিষে মেরে ফেলা হয়েছে । জাবি ছাত্র জুবায়ের - যে কিনা স্নাতক পরীক্ষার্থী ছিল ! বাবা মা আশায় বুক বেধে অপেক্ষায় ছিলেন কবে তাঁদের কলিজার টুকরো শিক্ষাজীবন শেষে এসে পাশে দাড়াবে। সব শেষ হয়ে গেল মুহূর্তেই। আর যারা এর জন্য দায়ী তারা কারা ?? তারাও তো কোনো বাবা মার সন্তান, কারও ভাইবোন - এতটুকু বুক কাপলোনা ?? কি পাবে তারা এই রাজনৈতিক বুড়ো শয়তানগুলোর কাছ থেকে ?? এদের নোংরা খেলার ঘুটি হয়ে নিজেদের এভাবে ব্যবহার হতে দেয়া ?? এইতো মুখ ঘুরি্যে নিয়েছে - বলে দি্যেছে বুক ফুলিয়ে যে তোমরা কেউ নও। কি তাহলে তোমরা ?? এভাবে খুন করে ফেললে নিজের ভাইটা কে ?? বিবেকের সামনে কি কোনোদিন আর মুখ তুলে চাইতে পারবে ??
ঘেন্নায় লজ্জায় রাগে পাগল হই যখন দেখি এই বুড়ো ঝানু রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরা বিন্দুমাত্র ইতঃস্তত বোধ করেনা নিজেদের হীন স্বার্থর জন্য এইসব অল্পবয়স্ক জীবন সম্বন্ধে অনভিগ্ঞ ছাত্রদের কে নিজেদের নোংরা খেলায় ঘুটির মত ব্যবহার করতে। বোকার মত সাময়িক ক্ষমতার লোভে অজান্তেই এরা জড়িয়ে পড়ে রক্তের খেলায়। আর গালি দেবারও ভাষা হারিয়ে ফেলি যখন দেখি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ণধার উপাচার্য, যিনি পিতার দায়িত্বে আগলে রাখবেন সব ছাত্রদের সকল রকম বিপদ থেকে - তিনি রাজনৈতিক দাদুদের পা-চাটা সারমেয় শ্রেনীর একজন উল্লেখযোগ্য পান্ডা, যে কিনা প্রভুর লাথি ছাড়া ভোকতে জানেন না। রক্তে ভিজেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনা - এমন অবস্থাতেও যিনি বলেন - " তিনি বিশ্বাস করেন না যে "ছাত্রলীগ" এই কাজ করতে পারে" ।উনার কাছে আজ ছাত্রদের থেকেও " ছাত্রলীগ" এর দাম বেশী। আর কেনইবা হবেনা - প্রভু যে মাঝে উদার হয়ে দু- চারটা উপঢৌকন ছুড়ে মারে। লোভ সামলানো দায় তার !! লজ্জার মাথা এমনভাবে খেয়েছে এইসব চামচা গুলো যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রর মৃত্যুর পরও স্ব-ইচছায় এরা পদত্যাগ করেনা, দায়িত্বের এতবড় অবহেলার নজিরের পরও গ্যাট হয়ে আটকে থাকে গদি তে।
এবার তবে ঘাড় ধরেই নামানো হোক । শুধু এইসব চুনোপুটি চামচা নয় , ঘাড় ধরে নামানো হোক সব অযোগ্য নেতা নেত্রী দের। বন্ধ হোক এইসব বুড়ো চোরদের খেলা , চুলো্য় যাক সব রাজনৈতিক দল । পরলোকগত পিতা আর স্বামীর ধু্যা তুলে , দেশের সাধারন মানুষের অনুভূতি তে সুরসুরি দি্য়ে অনেক তো হোল স্বার্থসিদ্ধি। বহুত হয়েছে আপনাদের ভূ্যা প্রতিশ্রুতির গান - এবার থামানো হবে এইসব পুরানা বস্তাপচা গান । সহ্যের শেষসীমায় চলে গেছে। দু-বেলা ডালভাত খাওয়া না খাওয়া মানুষের যখন পিঠ থেকে যায় দেয়ালে, তখন তারা ঘুরে দাড়ায় - এখন ঘুরে দাড়াবার ই সময়। সময় নতুন গান গাইবার । তৈরি হোন আপনাদের গড়ে তোলা তাসের সাম্রাজ্যর ধ্বংস দেখতে - ১৬ কোটি মানুষের তোড়ে কোথায় ভেসে যাবেন জানতেও পারবেন না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


