ও-তে “ওড়না” ওড়না চাই;
ঔ-তে “ঔষধ” ঔষধ খাই।
এ বছর প্রথম শ্রেনীর পাঠ্যবইয়ের ১২ নাম্বার পৃষ্ঠায় কোমলমতি শিশুদেরকে বর্ণ পরিচয় অধ্যায়ের অক্ষর জ্ঞান সূচিতে “ও” অক্ষর চেনানোর উপকরন হিসেবে ও-তে “ওড়না” ব্যবহার করা হয়েছে। আর শব্দটির জন্য বাক্য তৈরী করা হয়েছে “ওড়না চাই”। আর ঔ -এর জন্য “ঔষধ” বাক্য তৈরী করা হয়েছে “ঔষধ খাই”। অর্থাৎ বাচ্চারা ছড়ার মতো মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে পড়বে ও-তে ওড়না, ওড়না চাই; ঔ-তে ঔষধ, ঔষধ খাই।
পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে একটা ফ্রি পরামর্শ দেই। আপনারা ধ-তে “ধর্ষক” যুক্ত করে দিন। বাক্য হবে “র্ধষককে ঘৃণা করি”। পরের অক্ষর ন-তে হবে “নাটক”। বাক্য হকে “আইনের নাটক বন্ধ করি”। বাচ্চারা ছড়া মিলিয়ে পড়বে ধ-তে ধর্ষক, ধর্ষককে ঘৃণা করি; ন-তে নাটক, আইনের নাটক বন্ধ করি।
একটি শিক্ষা ব্যবস্থায় কোমলমতি শিশুদের জন্য এই ধরনের শব্দ দিয়ে পরিচিতি কখনোই কাম্য নয়। বাচ্চাদের সব সময় শিক্ষা দিতে হবে কমন বিষয় দিয়ে। কখনো তাদেরকে জেন্ডার বৈষম্য প্রকাশ পায় এমন শব্দের সাথে পরিচয় করানো ঠিক না, এই যে শব্দ ‘ও’ তে ওড়না চাই, এখন এই বাক্য দিয়ে তারা কী শিখবে? একটি মেয়ে শিখবে, এই কাপড়টি মেয়েদেরকে পরতে হবে, আর ছেলেটা শিখবে এই কাপড়টি মেয়েদের জন্য বরাদ্দ। এই বিষয় থেকে শুধুমাত্র জেন্ডারভিত্তিক শারীরিক পরিচয় বেরিয়ে আসে।
বাচ্চারা ছোটবেলাায় যা পড়বে মনের মধ্যে তো তাই গেথে যাবে; তাই না?
অনুলিপি - আফরিন শরীফ বিথী।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১০:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



