somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিবিরের কাজ শিবির করছে ; তাই আমাদেরকে করতে হবে আমাদের কাজ

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা সচেতন ; কিন্তু এখন প্রয়োজন শিবিরের রাজনীতি আইন করে নিষিদ্ধ করা ।

শিবিরের জন্ম ইতিহাস
১৯৭১ সালে জামাতের ছাত্র সংগঠন ছিলো ইসলামী ছাত্র সংঘ। রাজাকার এবং বুদ্ধিজীবিদের হত্যার জন্য বিশেষ খুনী স্কোয়াড আল বদরদের সদস্যরা ছিলো এই ছাত্র সংগঠনের। স্বাধীনতার পর তারা পলাতক থাকে, পুনর্বাসিত হয় জিয়ার সেনাশাসনের সময়। ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংঘ নাম পাল্টে রাখে ছাত্র শিবির।

এখন একাত্তর নয় ; আমরা এখন স্বাধীন ; তারপর ও আমাদের মরতে হবে জামায়াত শিবিরের হাতে ।এখনো একাত্তরের বিভীষিকা ঘটবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে . শিবিরের কাজ শিবির করবে ; তারা আমাদের রগ কাটবে, মানহলে ঢুকিয়ে রাখবে , চাপাতি- রামদা মধ্যযুগীয় অস্রের দ্বারা ছিন্ন- ভিন্ন করবে সহজ সরল বাঙালির দেহ ।
মূলত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তারের জন্যই তারা এখানকার মেধাবী ছাত্র ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাদের হত্যার কৌশল নেয়
শিবিরের হত্যা গুলো :
১. শিবিরের হত্যার রাজনীতির প্রথম শিকার চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত এজিএস ও ছাত্রলীগ নেতা তবারক হোসেন। ১৯৮১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাসে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় তাকে।
২. তিন বছর পর চট্টগ্রাম কলেজের সোহ্রাওয়ার্দী হলের ১৫ নম্বর কক্ষে শিবিরেরকর্মীরা ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ও মেধাবী ছাত্র শাহাদাত হোসেনকে জবাই করে হত্যা করে।শাহাদাতের বড় ভাই নির্মাণ ঠিকাদার সাখাওয়াত হোসেন সাক্কু কালের কণ্ঠকে বলেন, 'শাহাদাতের হত্যার পর আমরা যাতে মামলা না চালাই সে জন্য শিবিরের তরফ থেকে পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।'
৩. ১৮ হাজার ছাত্রছাত্রীর দেশের অন্যতম এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দখলদারিত্ব বজায় রাখার জন্য ১৯৯০ সালের ২২ ডিসেম্বর শান্তিপূর্ণ এক মিছিলে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় ছাত্রমৈত্রী নেতা ফারুককে।
৪. ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ মুছা।
৫. পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয় ছাত্রনেতা ফরিদের। '
৬. ১৯৮৪ সালের ২৮ মে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা মহব্বত আলীর ছেলে শাহাদাত হোসেন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার শেষ ব্যবহারিক পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ঘুমাতে যান। তাঁর রুমমেটরা ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁকে ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে নির্মমভাবে হত্যা করে। শাহাদাতের সহপাঠী ও বর্তমানে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আতিক জানান, শিবিরকর্মী হারুন রেয়াজউদ্দিন বাজার থেকে নতুন ছুরি কিনে এনেছিল শাহাদাতকে জবাই করার জন্য। এ কথা হারুন আদালতে স্বীকার করেছে।
৭. ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এনামুল হকের ছেলে ও ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ মুছাকে শিবিরকর্মীরা নৃশংসভাবে হত্যা করে।
৮. ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট দখল করার জন্য শিবির ক্যাডাররা ছাত্র সংসদের ভিপি মোহাম্মদ জমির ও কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফরিদউদ্দিন আহমদকে গুলি করার পর পায়ের রগ কেটে হত্যা করে।
........শিবিরের নৃসংস্রতার কাছে এগুলো কিছু নমুনা মাত্র।

আরো কিছু ভয়াবহতা
১.চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় ছাত্রসমাজের তৎকালীন সভাপতি চট্টগ্রামবিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সাবেক ভিপি নাজিমউদ্দিন সাংবাদিকদের ২৯ বছর আগের তবারক হত্যাকাণ্ডের বীভৎস বিবরণ দেন। তিনি বলেন, 'কিরিচের এলোপাতাড়ি কোপে মুমূর্ষু তবারক যখন পানি পানি করে কাতরাচ্ছিল তখন এক শিবিরকর্মী তার মুখে প্রস্রাব করে দেয়।'
২.আশির দশকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে 'সিরাজুস_সালেহীন' বাহিনী সৃষ্টি করে শিবিরের তা-বলীলায় দেশজুড়ে রীতিমতো আতঙ্কের জন্ম দিয়েছিল।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের ওপর হামলা, রগকাটা, জবাই করে হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনার জন্যে ছাত্র শিবির গড়ে তোলে 'সিরাজুস সালেহীন' ।
৩.১৯৮৬ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহ্রাওয়ার্দী হলের চত্বর থেকে ভাত খেয়ে রিকশাযোগে আলাওল হলে ফেরার সময় জঙ্গল থেকে প্রথমে গুলি করা হয় জাতীয় ছাত্রসমাজের তৎকালীন সভাপতি আবদুল হামিদকে। তারপর ডান হাতের কবজি কেটে দেয় শিবিরকর্মীরা।বিনা দোষে হাতের কর্মক্ষমতা হারানোর সে গ্লানি তিনি এখনো বয়ে চলেছেন।
৪."কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিবির ক্যাডাররা আমাকে চাপাতির বাঁট আর লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে বলে, 'তুই যদি ছাত্রলীগ ছেড়ে শিবির করিস, তাইলে তোর রগ কাটা হবে না।' আমি কোনো উত্তর না দিলে তারা চাপাতি ও ছুরি দিয়ে আমার হাত ও পায়ে আঘাত করে। তীব্র যন্ত্রণায় আমি চিৎকার করে উঠি। অসহ্য যন্ত্রণায় সারা শরীর অবশ হয়ে আসছিল। একপর্যায়ে তারা আমাকে আমার সাদা চাদরটি দিয়ে ঢেকে চলে যায়। এরপর কোনোমতে মোবাইল ফোন বের করি। কথা বলতে গিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।" এভাবেই শিবিরের নির্মম নিপীড়নের বর্ণনা দিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফিরোজ মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান (২৪)।
..............
ধর্মের নামে তারা যে রাজনীতি করছে সেটি কোনো মানুষ করতে পারে না।

তাকলাগানো কিছু কথা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ভিত্তিক ম্যারিল্যাল্ড বিশ্ববিদ্যালয়। একইভাবে ভারতের ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিট ম্যানেজমেন্ট নামে আরও একটি প্রতিষ্ঠনও ছাত্র শিবিরকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে ২০০০ সাল থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের বিভিন্ন কর্মকা-ের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছে। এই দু'টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইন্টিলেইজেন্স (আইএসআই)সহ ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফেডারেশন অফ অর্গানাইজেশন (আইআইএফএসও) এবং ওয়ার্ল্ড এসেম্বলি অফ ইয়থ (ডবিস্নউএএমওয়াই)র সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, ছাত্র শিবিরের সঙ্গে নিষিদ্ধঘোষিত উগ্র জঙ্গি সংগঠন হরকাত উল জিহাদ ই-ইসলামী এবং জামা'আতুল মোজাহেদীন'র যোগাযোগ রয়েছে। এসব সংগঠন আবার জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও সম্পৃক্ত। ২০০১ সালে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া রোহিঙ্গা বিচ্ছন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (আরনোর) চিফ অফ স্টাফের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সম্পৃক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে।কক্সবাজারের তৎকালীন পুলিশ সুপারের কাছে উখিয়া সার্কেলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার এন পালিত'র পাঠানো এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআইএফএসও এবং ডবিস্নউএএমওয়াই'সহ জঙ্গি সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারেটি আর্গানাইজেশন (আরএসও)র সঙ্গে শিবিরের সম্পর্ক রয়েছে।আইআইএফএসও এবং ডবিস্নউএএমওয়াই'সহজঙ্গি সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারেটি আর্গানাইজেশন (আরএসও)র সঙ্গে শিবিরের সম্পর্ক রয়েছেগোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, আরএসও'র কাছ থেকে পাওয়া গোলাবারুদ শিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাডারদের হাত ঘুরে সারা দেশে পৌঁছে দেয়া হয়।গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ সামসুজ্জোহা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫০০'র বেশি জিহাদি বইপত্র উদ্ধার করে। উদ্ধার করা এসব বই ছিল ওয়ার্ল্ড এসেম্বলি অফ মুসলিম ইয়থ(ডবিস্নউএএমওয়াই) এর।

শিবিরের কাজ শিবির করে যাচ্ছে কিন্তু আমাদের কাজ আমরা করছি না;
এরপর কি আমরা চুপ করে থাকব .....



৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×