somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামু ব্লগে আমার কিছু পর্যবেক্ষন এবং মন্তব্য

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আস্তিকতা-নাস্তিকতা-প্রগতিশীলতা-গোঁড়ামি-সুশীলতা-রক্ষনশীলতা সম্পর্কিত হাজারো পোস্ট পড়ার পরে একটি বিষয় বুঝতে পারলাম যে, সকলেই মুখোশধারী । মুক্তমন-ধার্মিকতার ধ্বজাধারী বঙ্গসন্তানেরা যুক্তি-আবেগ-যুক্তিখন্ডন-আবেগ-যুক্তিখন্ডন এরকম একটি ধারায় আলোচনা চালান, অবশেষে গালাগালির আশ্রয় নেন । খুব কম পোস্টই পেলাম, যেখানে গালাগালি নেই । কেউই নিজের ভিত্তি সম্পর্কে প্রমাণ হাজির করতে পারেন না । কিছুক্ষন কাদা ছোড়াছুড়ি করে অবশেষে অশ্লীল গালির বহর বইয়ে দেন ।

যারা আস্তিক, তাদের পক্ষে কোনদিনই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্যের প্রমাণ দেখানো সম্ভব নয় । আর যারা নাস্তিক, তারাও কখনই শুধুমাত্র বিজ্ঞানের মাধ্যমে সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুজে পাবেন না । কারন বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত নতুন দিক উন্মোচন করছে এবং এই নতুন দিকগুলোর সাহায্যে অতীতের বিভিন্ন বিষয়কে নতুন ভাবে পরিমার্জিত করছে ।

ঈমানের মূল কথা হল বিশ্বাস । যারা প্রমাণ ছাড়াই বিশ্বাস করেন, এবং পরবর্তীতে বিশ্বাসের সাথে বিজ্ঞানের মিল খুজে পেতে চান, তারা এটি করতেই পারেন । হয়তোবা মনে শান্তি পান, সৃষ্টিকর্তার মহিমায় মুগ্ধ হয়ে আরও গভীরভাবে তাঁর উপাসনা করেন ।

অপরদিকে যারা প্রমাণ ও ব্যাখ্যার উপর ভিত্তি করে নিজের জ্ঞানকে সমুন্নত করেন, তারা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্যের প্রমাণ খোঁজেন । কিন্তু তারা এটি লক্ষ্যই করেন না যে, আস্তিক ব্যক্তির ধ্যান ধারনার মূল ভিত্তি হল বিশ্বাস, যার সাথে প্রমাণের কোন সম্পর্কই(আমার দৃষ্টিতে) নেই । তবে কেন তারা আস্তিকদের বিভিন্নভাবে হেয় করেন ? তাঁদের বিশ্বাস নিয়ে কেন তারা খেলা করেন ? হাঁ আপনাদের কাছে ধার্মিকদের অনেক রীতিনীতিই হয়তোবা অচল, নিষ্ঠুর , অশ্লীল বলে মনে হয় । আপনি এসবের বিরোধিতা করতে পারেন, চেষ্টা করতে পারেন তাদেরকে বিজ্ঞানের আলোর পথে আনতে । কিন্তু সবকিছু জেনে,শুনে ও বুঝে যদি আস্তিক ব্যক্তি আস্তিকই থাকতে চান, তাহলে কেন তাকে গালিগালাজ করবেন ? আদৌ দরকার আছে কি ? গাধা না হয় গাধাই থাকুক । গাধা ছাড়াও তো মানবজাতির অগ্রযাত্রা বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে । তাদের গাধাই( এ ব্লগে এদের ছাগু বলা হয়) থাকতে দিন । আপনারা সভ্যতার উন্নয়নের কাজ করতে থাকুন, বাধা এলে রুখে দাঁড়ান । ভ্যা ভ্যা ম্যা ম্যা থেমে গেলে আবার নিজেদের কাজে লেগে পড়ুন । ব্যস । ল্যাঠা চুকে গেল । যে আস্তিকেরা নিজের গণ্ডির মাঝে ধর্মালোচনা করেন, একে অপরকে ধর্মের ভাল দিক দেখানোর কাজ করেন, তাদের কে কেন অনর্থক খোঁচাবেন ?

আর অনেক আস্তিক আছেন যারা ধর্মের আলোকে বিজ্ঞান ব্যাখা করেন, নাস্তিকদের কে ধর্মের পথে, শান্তির পথে আনার জন্য চেষ্টা করে যান । হয়তোবা তাদের মাঝে জিঘাংসা থাকে না, তারা সুধুই ধর্মের বিধি মানার জন্য এই কাজ করেন । আচ্ছা করতে দিন । যদি নাস্তিকরা ধর্মের পথে আসতে না চান, তাহলে কেন তাদের ধরে টানাটানি করেন ? তারা থাকুক তাদের মত । আপনি তো আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন ঠিকমতই ।

তবে, কথা আছে । নিজেদের ধ্যান ধারনা অন্যদের মাঝে ছড়ানোর সময় যদি কেউ অন্যদের গালাগালি করে, জ্ঞান বুদ্ধি ইত্যাদি নিয়ে অসম্মানমূলক কথা বলে ( যে কাজটি নাস্তিকরা অতি অতি অত্যধিক মাত্রায় করেন ) তাহলে তাদের ছেড়ে দেবেন না । এদের শাস্তি পাওয়ার দরকার আছে । অসভ্যকে ভদ্র বানানোর জন্য প্রথমে ভাল ব্যবহার করতে হয়, তাকে বুঝাতে হয় । যদি না বোঝে, ছেড়ে দিলেই ঝামেলা শেষ । কিন্তু ওই অসভ্য যদি আপনাকে বিনা উস্কানিতে আক্রমন করে, তবে ছেড়ে দেবেন কেন ? অসভ্যকে বুঝিয়ে দেবেন, যে সে নিম্নমানের কীট । তাকে পিষে ফেলুন ।

আস্তিক-নাস্তিক, সুশীল-কুশীল,আওয়ামী-বিএনপি-জামাত
( জামাতিদের খেদানোই উচিত। তাহলে আস্তিকদের সওয়াব হবে, নাস্তিকরা দেশের উপকার করবে) সবার ক্ষেত্রেই এসব প্রযোজ্য । তবে, আমার পর্যবেক্ষন যা বলে, তা থেকে দেখে যাচ্ছি যে, সুশীল-প্রগতিশীল, বিজ্ঞানমনস্করাই অতি আক্রমন করেন, নিজেদের জাহির করেন, অন্যদের ছাগু-গাধা-সেকেলে এবং উচ্চারণের অযোগ্য সব শব্দের ব্যবহার তুলনামুলকভাবে বেশী করেন ।

এই পরিস্থিতির পরিবর্তন একান্ত কাম্য । এসব দেখতে একটুও ভাল লাগে না । X(

অতি সাম্প্রতিক একটি পোস্টেই এর প্রমাণ পাওয়া যায় । বাংলার দামাল ছেলেরা কু-হাওয়াকে সু-বাতাস দিয়ে পরিবর্তনের ইতিহাস গড়তে জানে

এখানে কি বিষয়ে কথা বলা হয়েছে, আর ২-১ টি মন্তব্যে কোথায় চলে যাওয়া হয়েছে । কেনরে ভাই ? কি দরকার ? /:)

অফটপিকঃ আমি মুসলিম এবং ইসলামের নিয়মনীতি মেনে চলার চেষ্টা করি
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ৮:৩৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই যোদ্ধা!

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৭


এই লোকটির নাম আল আমিন। সে বিশেষ একটি দলের হয়ে জুলাই মঞ্চে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেয় মাঝেমধ্যে। এর সম্পর্কে গুরুতর একটি অভিযোগ উঠেছে, সে নাকি ৫ আগস্ট দিবাগত রাতে ময়মনসিংহের দাপুনিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×