somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন উগ্র বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদীর আস্ফালন

০৬ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“বাংলাদেশীদের এখনি সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এ দেশে কারা রাজনীতি করবে-পাকিস্তানের দালাল না ইন্ডিয়ার দালাল না শুধুমাত্র খাঁটি বাংলাদেশীরা। বাংলাদেশে একমাত্র সাচ্চা বাংলাদেশী ছাড়া আর কারো রাজনীতি করার অধিকার নেই। কারন রাজনীতির পথ ধরেই দেশের শান্তি, গনতন্ত্র ও ভবিষ্যত নির্মাণ হয়। তাই পাকিস্তানি ও ইন্ডিয়ান দুই দালাল চক্রের হাত থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে এদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা ছাড়া বাংলাদেশীদের জন্য আর কোন পথ নেই। একজন পাকিস্তানি দালালের গাড়িতে পতাকা তুলে দেয়া,আর একজন ইন্ডিয়ান দালালের গাড়িতে পতাকা তুলে দেয়ার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। এরা লাগামহীনভাবে দেশকে হেয় করে ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের সার্থ রক্ষা করার কারণেই সাধীনতার ৪৪ বছর পার করেও বর্তমান বাংলাদশের এই করুন অবস্থা। এদের কারনেই আজ আমাদের জাতিয়তাবাদ খন্ডিত হয়েছে। জাতিয় ঐক্যের সকল পথ আজ বন্ধ।
এই দেশের সন্তান হয়েও এরা জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে চিরস্থায়ী ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য জনগনের সাথে প্রতারনা করে ভীনদেশীদের দোসর হিসেবে কাজ করছে। তাই এই ভীনদেশীদের দালাল রাজনৈতিক চক্র এ দেশের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ করা মানে দেশের জন্য মহাবিপদ ডেকে আনা। কোন দেশপ্রেমিক বাংলাদেশী এই অনুপ্রবেশকারীদের ছাড় দিতে পারে না।
বাংলাদেশ জন্মের বিরোধীতা করে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ও তাদের এদেশীয় দালালরা যেভাবে মানবাধিকার কে গুম করেছিল তেমনিভাবে সাধীনতার পর বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে করদ রাজ্য বানিয়ে রাখতে গত ৪৪ বছর যাবত ইন্ডিয়া ও তাদের এদেশীয় দালালরা তাই করছে। এবং গত ৬/৭ বছর যাবত বাংলাদেশীদের উপড় জুলুম চরম আকার ধারন করেছে। এই দুই সময়েই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ ও আক্রান্ত হয়েছে বা হচ্ছে শুধুমাত্র বাংলাদেশ আর বাংলাদেশীরা।
আজ বাংলাদেশীদের অন্যায়ভাবে গুম-খুন-গুলি-হামলা-মামলা-আটক-অপহরন-অত্যাচার-নির্যাতন করা হচ্ছে এবং এর পিছনে কাজ করছে ইন্ডিয়ার বিশাল এক দালাল চক্র। যখন যেভাবে দরকার সেভাবেই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদীদের দমন করছে তারা। অবস্থা এমন এক যায়গায় এসে দাড়িয়েছে যে দেশের সকল রাস্ট্রীয় সুযোগ- সুবিধা কিছু বিশেষ দালাল শ্রেনীর লোকজন ও তাদের অনুসারীরা কুক্ষিগত করে রেখেছে আর অবশিষ্ট বাংলাদেশীরা তৃতীয় শ্রেনীর নাগরিকের মর্যাদা পাচ্ছে। এই দালাল চক্রের কারনেই দেশের সংসদ, প্রশাসন, আইন-বিচার, আইন প্রয়োগকারী বাহিনী সহ সকল অংগ প্রতিসঠান আজ অকার্যকর হয়ে পরেছে। যার কারনে বর্তমান আন্তর্জাতিক অংগনে বাংলাদেশের মান-সম্মান-ভাবমূর্তির সূচক ক্রমাগত নিম্নমুখী। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই দুনিয়ার বুকে অকার্যকর দেশ হিসাবে পরিচিত হয়ে বাংলাদেশ তার মর্যাদা হারাবে !!
এই দালাল চক্রের কারনেই দেশের জাতিয় নিরাপত্তা অরক্ষিত অবস্থায় ছিল যার সুযোগে বিডিআর বিদ্রোহের নামে আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর ৫৭ জন সেনা অফিসার হত্যা করা হয়েছে। তাই এই দালাল চক্র বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সাধীনতা ও সার্বভৌমত্তের জন্য চরম হুমকি হয়ে উঠেছে।
কোন বিশেষ দেশের তাঁবেদার রাজ্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশীরা মুক্তিযুদ্ধ করেনি। সাধীনতার পরপর দেখা গেছে ইন্ডিয়ান সৈনিকরা এদেশ থেকে ফিরে যাওয়ার সময় প্রচুর ধন-সম্পদ সাথে করে নিয়ে যাওয়ায় যে সকল মুক্তিযোদ্ধারা এর সমালোচনা করেছিল তাদের ওনেকেই গুম-খুন-অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এমনকি মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডারকেও এই কারনে জেলে যেতে হয়েছিল। সেই ৭২-৭৫ এর প্রেতাত্মারা আবারও বাংলাদেশীদের ঘাড়ের উপর চেপে বসেছে। এখন শুধু ঘাড় মটকানো বাকি আছে।
তাই দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীরা মাসের পর মাস যে লড়াই করছে, এই দালাল চক্রকে নির্মূল না করা পর্যন্ত তা আর থামাবে না। দেশের জন্য প্রয়োজনে গুমের বদলা গুম, খুনের বদলা খুন, গুলির বদলা গুলি দিয়ে এই দালাল চক্রকে সমুচিত জবাব দিতে হবে। দেশের রাস্ট্র ও সরকারের ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে এদের যখন যেভাবে দরকার সেভাবে উপড়ে ফেলতে হবে। আর সরকারের সকল অংগ প্রতিসঠান থেকে এই দালাল চক্রের সদস্যদের খুজে খুজে বের করে শিকড় সহ উটপাটন করতে হবে।
যতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশীরা এ কাজে সফল না হবে ততদিন চলবে এই দালাল মুক্ত করার সংগ্রাম। বাংলাদেশ দালালমুক্ত হবেই।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×