somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুর্নীতিবাজ কোকোর ভয়ানক চেহারা

০৬ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"আরাফাত রহমান যদি এতই দুর্নিতি করত, তাহলে চিকিৎসার অভাবে মারা যেত না আর ভাড়া বাসায় থাকতোনা। অথচ বাংলার মেম্বার চেয়ারম্যানেদর ও বিদেশে একটি করে বাড়ি আছে অনেকেরই।"-আজ তৃনমূলের এক কর্মীর উদ্ধৃতি দিয়েই শুরু করলাল। একজন সন্তানহারা মায়ের কষ্ট বর্ননা করার মত ভাষা আমার জানা নেই এবং তা যদি হয় অকাল মৃত্যু তবে তা শুধু যার যায় সেই বুঝে। আসলে আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা আজও এই ঘুনে ধরা সমাজে এমন একজন মানুষকে আমাদের নেত্রী হিসেবে পেয়েছি যে কিনা ছিল নিতান্তই সাধারন একজন গৃহবধু এবং একজন সাবেক সেনাকর্মকর্তা ও প্রেসিডেন্টের বিধবা স্ত্রী। ঐ সাবেক সেনাকর্মকর্তা ও প্রেসিডেন্ট যিনি কিনা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এবং দেশের গনমানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে ৭৫ পরবর্তীতে অস্হিতিশীল বাংলাদেশে জাসদের কর্ণেল তাহের ও ইনু গংদের স্বশস্ত্র আন্দোলন তথা গনযুদ্ধের প্রতেক্ষ্য পরোক্ষ ফলাফল স্বরূপ শেখ মুজিবের স্বপরিবারের হত্যার মাধ্যমে শুরু হওয়া জাতিকে নেতৃত্বশূন্য ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী তৎকালীন উচ্চপর্যায়ে সেনা কর্মকর্তারা মধ্যে পরস্পরিক বিরোধকে উস্কে দিয়ে সেনাবাহনীকে মেরুদন্ডহীন করার মিশনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে জাতির ক্রন্তিকালে জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা তথা বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির কলংকিত অপবাদ থেকে বের করে আনেন। ঐ সাবেক সেনাকর্মকর্তা ও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশেবহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও এদেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্হিতিশীলতার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধুনিক বাংলাদেশে রূপদানের সফল রূপকার ঐ তৎকালীন বাংলাদেশের সার্থক ও সফল রাষ্ট্রনায়ক এবং যিনি এ যাবৎকালের বাংলাদেশে সর্বাধিক জনপ্রিয় নেতা হিসাবেই প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে কুচক্রী মহলের প্ররচনায় কিছু বিপদগামী সেনা সদস্যদের দ্বারা ১৯৮১ সালের ৩০ শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে শাহাদাৎ বরন করেন।
এই বাংলাদেশে সর্বাধিক জনপ্রিয় নেতা ঐ প্রেসিডেন্টের বিধবা স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রাজনীতিতে আসার আগ পর্যন্ত বেগম জিয়া একজন সাধারণ গৃহবধু ছিলেন। মূলতঃ দুই পুত্রকে লালন পালন ও ঘরের কাজ করেই সময় কাটাতেন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীনও রাজনীতিতে বেগম জিয়ার উপস্থিতি ছিল না।
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৬৯ সালের মার্চ পর্যন্ত করাচিতে স্বামীর সাথে ঢাকায় চলে আসেন। স্বামীর সাথে কিছুদিন জয়দেবপুর থাকার পর চট্টগ্রামে স্বামীর পোস্টিং হলে তার সঙ্গে সেখানে এবং চট্টগ্রামের ষোলশহর একালায় বসবাস করেন। মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা এবং স্বাধীনতার যুদ্ধে সক্রিয় হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে বেগম খালেদা জিয়া আত্মগোপন থেকেই পালিয়ে ১৬ মে নৌপথে ঢাকায় চলে আসেন। বড় বোন খুরশিদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত থাকেন। ২ জুলাই সিদ্ধেশরীতে জনাব এস আব্দুল্লাহর বাসা থেকে পাক সেনারা তাকে দুই ছেলে সহ বন্দী করে। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দী ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তিনি মুক্তি পান।
রাজনীতিতে বেগম জিয়া মূলতঃ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মিদের আহ্ববানে তিনি ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল এরশাদ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। বেগম জিয়া এর বিরোধিতা করেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে পার্টির চেয়ারপার্সন নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বেই মূলতঃ বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়।
উপরে উল্লেখিত বিবরনটুকু এজন্য বললাম শহীদ জিয়া দেশ ও জাতির জন্য জীবন উৎসর্গ করছে এবং বেগম জিয়া স্বামীর দেশপ্রেমের প্রতি শ্রদ্ধা স্বরূপ এবং আমাদের আহবানেই সাড়া দিতেই রাজনীতিতে আসা। এর প্রতিদানে আজ এই জিয়া পরিবারের এই অবস্হার জন্য দায়ী বিএনপিরই দূর্নীতিগ্রস্হ ও বেঈমান কতিপয় সিনিয়ার নেতারই যারা দলে থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এই জিয়া পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে এবং যারা শহীদ জিয়ার সন্তানদের সান্নিধ্যের সুযোগে তাঁদের নাম ভাঙ্গিয়ে পিয়ন নিয়োগ থেকে শুরু করে সব ধরনের তদবীর করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা ঐ নেতারা তো আজ বেশ আছে আর রাজনীতিতে বেগম জিয়া হারিয়েছে শহীদ জিয়াকে দেওয়া রাষ্ট্রীয় সম্মানস্বরূপ জিয়া পরিবারের একমাত্র মাথা গোজার আবাসটুকু, শাররীক নির্যাতনের শিকার হয়ে হারিয়েছে নির্বাসিত অবস্থায় এক সন্তান এবং আজ বেঁচে থাকা অপর একমাত্র সন্তানও শাররীক নির্যাতনের শিকার হয়ে নির্বাসিত আর ৭০ বছর বয়সে আজ সংসারহারা এবং পরিবারের সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন ও একা। তবু কত কি আশা করি বা বলি। আপনারাও ভেবে দেখবান এই বয়সে আপনাদের বাবা মা আপনাদের সংসারের জন্য কতটুকু করতে পারে?
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×