বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপধ্যায় একবার জনৈক ইংরেজের কাছে চাকুরির ইন্টারভিউ দিতে যান। ইংরেজ ভদ্রলোক বঙ্কিম চন্দ্রের বাংলা জ্ঞান পরখ করার জন্যে প্রশ্ন করেন, আচ্ছা বলুন তো দেখি, বিপদ আর আপদের মধ্যে পার্থক্য কি ?
বঙ্কিমচন্দ্র খানেকটা ভেবে উত্তর দেন, ' দেখুন, একবার নৌকা করে পদ্মা পাড়ি দেওয়ার সময় নদীতে তুমুল ঝড় উঠেছিল। সেটা ছিল আমার জন্যে নিঃসন্দেহে একটা বিপদ। '
‘ আর এখন বাঙালি হয়ে আপনার মত এক ইংরেজের কাছে আমার বাংলা জ্ঞানের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। এটা হলো আমার জন্যে একটা মস্ত বড় আপদ। '
আজ মুসলিম জাতির সম্মুখে বিপদের শেষ নেই। এসবের মাঝে আবার নিত্য নতুন আপদ সৃষ্টি হচ্ছে।
আজ নিউমার্কেট গিয়েছিলাম ব্যাক্তিগত কাজে। ওখানে বায়তুন নুর শপিং কমপ্লেক্স চত্ত্বরে ওয়াজ মাহফিল ছিল। প্রধান অতিথি নুরুল ইসলাম ওলিপুরী। কিছুক্ষণ উনার বক্তব্য শুনে আমি অবাক হলাম; সামান্য মতপার্থক্যের কারণে কাউকে কাফের বলে ফতোয়া দিতে বাকি রাখেনি ভ্রান্ত আকীদার এই লোকটি। ড. জাকির নায়েক নাকি গন্ডমূর্খ, কাফের। তাই যদি হয়, তাহলে দাওয়াতি মিশনে গন্ডমূর্খরাই সফল। কারণ ড. জাকির নায়েকের লেকচার শুনে হাজার হাজার বিধর্মী ইসলাম গ্রহণ করেছে ; আর ওলীপুরীর মতো জ্ঞানীরা (!) সমাজে শুধু ফিতনা সৃষ্টি করার ক্ষেত্রেই সফল। ড. জাকির নায়েক নাকি সহীহ শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারেন না। আরে মিয়া, তুমি তো শুদ্ধভাবে কথাই বলতে পারো না ! অন্যের চেহারার উপর প্রশ্ন তোলার আগেই আয়নায় নিজের চেহারাটা একবার দেখে নেওয়া উচিত।
সুতরাং, ইংরেজদের কাছে বাংলা জ্ঞানের পরীক্ষা দেওয়া যেমন বঙ্কিমচন্দ্রের জন্যে বড় এক আপদ, তেমনি নুরুল ইসলাম ওলিপুরীর মতো কাঠমোল্লাদের মুখে শ্রদ্ধেয় ড. জাকির নায়েক স্যারের সমালোচনা শুনতে হবে, এটাই হচ্ছে আমাদের জন্যে মস্ত বড় একটা আপদ...
- Muhammad Shafiqul Islam

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




