somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভোট ডাকাত লীগের কাছে গণতন্ত্র গুরুত্বহীন

০২ রা মে, ২০১৫ সকাল ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভোট দিতে হলে আ.লীগকেই দিতে হবে

তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির আনুষ্ঠানিক ভোট বর্জনের পর তা আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে স্বীকার করেছেন দলটির নেতারা। তাঁরা বলেছেন, দুপুরের পরে নির্বাচন একতরফা হয়ে যাবে, সেটা তাঁরা ভাবতেই পারেননি।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য এ প্রসঙ্গে বলেছেন, বিএনপির মাঝপথে নির্বাচন বর্জন তাঁদের অবাক করেছে। দুইটার দিকেও যদি বিএনপি নির্বাচন বর্জন করত তাহলে তাদের অনেক কাউন্সিলর প্রার্থী জয়ী হতে পারতো। তিনি মনে করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ভোটারদের বুঝিয়েছে, ভোট দিতে হলে আওয়ামী লীগকেই দিতে হবে। অন্যদের ভোট দিয়ে লাভ নাই। কারণ অন্য কেউ ক্ষমতায় আসবে না। নির্বাচনে হারতে হারতে বিএনপি এক সময় জাসদ কিংবা মুসলিম লীগ হয়ে যাবে বলে তাঁরা মনে করেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন।
আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় তিনজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, সিটি নির্বাচনের আগে কর্মীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল—‘তিন সিটি নির্বাচনেই তাঁদের জিততেই হবে। সেইভাবে প্রচারণা চালাও।’ সেইভাবে প্রচার চলছিল। দলের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও কাজ করছিল। ওই তিন নেতা স্বীকার করেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের সব আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলদের প্রতি তাঁদের সমান নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এ কারণে উত্তর-দক্ষিণের অধিকাংশ ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। এরপরে আবার নির্বাচনের দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপির ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। তখন বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে উত্তর ও দক্ষিণের আওয়ামী লীগের সমন্বয় কমিটির নেতাদের কাছে কাউন্সিলরদের ফোন আসতে থাকে। তাঁরা জানতে চান, এখন তাঁরা কী করবেন? তখন সমন্বয় কমিটির কোনো কোনো নেতা তাঁদের সমর্থক কাউন্সিলরদের বলেন, তোমাদের যা ইচ্ছা তাই কর। ওই তিন নেতা আরও বলেন, তাঁদের কাছে কাউন্সিলরা ফোন করে এমন কথা বলেন যে নির্বাচন ব্যাপারটা হরিলুট।
নির্বাচনের দিন শেষ পর্যন্ত সবকিছু আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল কি না জানতে চাইলে ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারের প্রধান সমন্বয়ক ফারুক খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আপনি দেখবেন মেয়র সমর্থকদের মধ্যে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। যা দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে তা কাউন্সিলরদের সমর্থকদের মধ্যে।’
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ১২টার পর তাঁদের কাছে খবর আসে কোনো কেন্দ্রে এখন আর বিএনপি-সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের কোনো এজেন্ট নেই। পরে বিএনপির ভোট বর্জনের ঘোষণার পর সবকিছু তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাঁর মতে, বিএনপির ভোট বর্জনের ঘোষণার পর চাইলেও তাঁরা অনিয়ম এড়াতে পারতেন না।
গত বুধবার সিলেটের কাজিরবাজার সেতুর নির্মাণকাজ পরিদর্শন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির নীরব ভোট বিপ্লবের ডাক দেওয়া ও নীরবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা রহস্যজনক।’
বিএনপির সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস দক্ষিণের ৫৭টি ওয়ার্ডের ২৬টি কেন্দ্রের অনিয়মের কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে তিনটি অভিযোগের চিঠি দেন। আর ঢাকা উত্তরের প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের অন্যতম নির্বাচন সমন্বয়কারী আবদুল্লাহ আল হারুন জানান, তাঁরা সকাল সাড়ে ১০টায় থেকেই রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রথম অভিযোগ দেন। দুপুরের মধ্যেই তাঁরা অন্তত ২২টি অভিযোগ জমা দিয়ে সেগুলোর স্বীকৃতিপত্রও নেন। পরে ইসি আর অভিযোগ না নেওয়ায় ৩০টি অভিযোগ ফ্যাক্স করেন। নির্বাচন বয়কটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার উত্তর ও দক্ষিণের কোনো পক্ষই ইসিতে আর অভিযোগ দেননি তাঁরা। এ ছাড়া পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন কেন্দ্রের অনিয়মের অভিযোগ এসেছে।
নির্বাচনের দিনের ঘটনায় জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আওয়াল, দক্ষিণের মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, সহস্র নাগরিক কমিটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অনিয়মের তদন্ত চেয়েছেন।
আওয়ামী লীগের ওই তিন নেতার মতে, হয়তো বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত হবে। তবে বিজয়ী কারও প্রার্থিতা বাতিলের মতো ঘটনা ঘটবে না।
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×