
প্রলোভনবাজ, ফটকাবাজ, চাপাবাজদের নতুন বাটপারী শুরু হয়েছে গত দুই দিন হলো। ২০২১ নয়, ২০১৯ সালের সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে উ্ন্নীত হচ্ছি, এখন থেকে আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ।
জনগনের রোষের ভয়ে যারা নির্বাচন দিয়ে সাহস পায় না, যখন গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের আন্তর্জাতিক চাপ চরমে, অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘায়ীত করা যখন অসম্ভব হয়ে পড়ছে তখনই হঠাত এই নতুন প্রলোভন ছুড়ে দিলেন জনগনের মাঝে। সোনালী, বেসিক ব্যাংক আর শেয়ার বাজারের টাকা দল ধরে মেরে সইজ ব্যাংকে না পাঠালে ২০১৬ সালেই মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া যেত। অথচ কয়েক দিন আগেই অর্থমন্ত্রী বললো সরকারী দলের কারনেই দেশে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া যাচ্ছেনা। তাহলে কি কিভাবে হবে?
একদিকে চাল, গম আমদানী হচ্ছে, আরেক দিকে ওয়াজ ছাড়া হচ্ছে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাড়িয়ে যেখানে বলছে শেয়ার বাজার চোরেরা বিদেশে পালিয়ে গেছে তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া যাচ্ছেনা। এ থেকে কি পরিষ্কার ধারনা করা যায় না যে তারা অবৈধ ক্ষমতা ধরে রেখে আরো কয়েক হাজার কোটি টাকা সুইজ ব্যাংকে ট্রান্সফার করার শেষ সুযোগ হিসাবে অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘায়ীত করতে জনগনকে মুলো দেখানো হচ্ছে?
আমি বর্তমান সরকারের জিডিপি, প্রবৃদ্ধি, মাথাপিচু আয় কোন কোন সূচককেই গ্রহনযোগ্য বলে মনে করিনা। কেন জানেন, অর্থনীতার একটা বাংলা সূত্রও আছে, সেটা হচ্ছে রাষ্ট্র তথা অর্থনীতির উন্নয়ন তখনই হচ্ছে যখন আপনার এবং রাষ্ট্রের যে সম্পত্তি এবং সম্পদের দামও বেড়ে চলেছে তখনই বুঝবেন রাষ্ট্রের উন্নয়ন হচ্ছে। এবার মিলিয়ে দেখুন গত ৫ বছর আগের তুলনায় আপনার কোন সম্পত্তির দাম বেড়েছে আর কোনটার কমেছে? আগামী দুই এক বছরে আপনার কোন সম্পদের মূল্য বাড়বে বলে ধানরা করতে পারছেন?
সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী কেন ফেসবুক, টুইটার বন্ধ করার কথা বলছে? ধরে নিন যে এইসব স্ট্যাটাসটার জন্যেই। অবাধ তথ্য শেয়ারিং বন্ধ করতে পারলে মিডিয়া যা বলবে জনগন সেটাকে মানতে ও বিশ্বাস করতে বাধ্য। যে দেশে সরকার আর মিডিয়ায় চুমাচুমি হয় সে দেশে সরকার আর জনগনের কখনোই সত্যিকারের ভালবাসা হয় না, রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যাবহার করে সরকার ছলনা, ধোকাবাজী আর বন্দুকের নল ঠেকিয়ে ভয়ে রেখে যতদিন পারে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেষ্টা করে যায়। এখানেও সেই ব্যাবস্থায়ই চলছে।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১৫ রাত ৮:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


