প্রথমেই বলে রাখি, শেখ হাসিনা খুব একরোখা মানুষ। যা বলেন করে ছাড়েন।
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শেষ। নির্বাচনে কি হয়েছে এই নিয়ে বিশদ কিছু বলার নেই। সবাই তা দেখেছে - জেনেছে। কিন্তু দেখা আর জানাটাই কি সব?
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিএনপি কি করবে ?
বিএনপি করতে পারে -
১.তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ।
২.২/৩ দিন হরতাল।
৩.কয়েক মাসের অবরোধ - অসহযোগ ।
১ করে কোন লাভ নেই। ২-৩ অলরেডি করা হয়ে গেছে। ফলাফল শুন্য।
কিন্তু কিছুই কি করার নেই ?
আছে। আবার লেখা প্রথম লাইনে ফেরত যান - শেখ হাসিনা খুব একরোখা মানুষ। যা বলেন করে ছাড়েন।
কিন্তু এই শেখ হাসিনাকেও তার শাসনামলে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে ফেরত আসতে হয়েছে। কখন ?
মনে পড়ে আড়িয়াল বিলে শেখ মুজিবের নামে বিমান বন্দর স্থাপনের ঘটনা ? এলাকার মানুষ যখন দেখেছে তাদের রুটি-রুজি-বাসস্থান হুমকির মুখে তখন তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় মাঠে নেমে এসেছিল। সেদিনও , পূলিশ বা দালাল মিডিয়া - বুদ্ধিজীবিরা হাসিনার সাথেই ছিল। কিন্তু হাসিনাকে তার অবস্থান থেকে মাথা নিচু করে ফিরে আসতে হয়েছিল। সে ঘোষণা দিয়েছিল - জনগণ না চাইলে আড়িয়াল বিলে বিমান বন্দর হবে না।
বলা ভাল ঘোষনা দিতে বাধ্য হয়েছিল।
বিএনপির এখন যে অবস্থা , তাতে এই মুহুর্তে আর একটা সফল আন্দোলন করার সমর্থ তার নেই। বিএনপির দরকার একটা ব্রিদিং স্পেস। লজ্জা লাগলেও বলতে বাধ্য হচ্ছি, বিএনপির এই মুহুর্তে আওয়ামী লীগের সাথে একটা নেগোসিয়েশনে আশা উচিত।
বিএনপি আওয়ামী লীগকে বলবে ( একই সাথে তার বিদেশী বন্ধুদের) - আগামী ২০১৯ সাল পর্যন্ত তারা আর কোন সরকার পতনের আন্দোলন করবে না। বিনিময়ে আওয়ামী লীগও বিএনপির নেতাকর্মীদের নাম নতুন করে কোন মামলা দিয়ে হয়রানি করবে না। আগামী ২-৩ বছরে বিএনপি দলের নেতাকর্মীদের মামলাগুলি মিমাংসা করে নেবে। দল গুছিয়ে নেবে। বেশ অনেকগুলি আগাছা ছাটাই করবে। এবং জামাতের ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্তে আসবে। একই সাথে বিএনপি আন্দোলন করবে স্থানীয় ইস্যু নিয়ে, যে ইস্যু সরাসরি মানুষের রুটি-রুজি-বাসস্থান এর সাথে সম্পর্কিত। যত বেশি বিএনপির সাথে সাধারণ মানুষের মিশ্রন ঘটবে , যত বেশি বিএনপি সাধারণ মানুষের ইস্যু আপন করে নেবে , তত বেশি সাধারণ মানুষ বিএনপির ইস্যু , বিএনপিকে আপন করে নেবে।
আপনি আমার পেটের ভাত , পরার কাপড় আর মাথার উপরের ঘরের চালের জন্য রাস্তায় নেমে গুলি খেলে আমিও আপনার নিরপেক্ষ ভোটের অধিকারের জন্য গুলি খাব।
এই সত্যিটা বিএনপিকে এখন বুঝতে হবে।
জিয়াউর রহমান দলটা গড়েছিলেন মাইলের পর মাইল জমির আইলে, কাদামাটিতে হেঁটে।
এসি করা রুমে বসে নয়
কালেক্টেড

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


