somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

লোকমানুষ
ফুটপাতের ধুলোয় লেপা এক টুকরো রোদ, বাসার কোণে জমে থাকা অলস সকালের মতো। জীবনের হিসাব নিকাশে পেন্সিলে-টানা অঙ্ক, কখনো হার, কখনো জয়— সবই সামান্য এক ইতিহাস। এই তো আমার গল্প, সবার মতোই অসম্পূর্ণ, তবু স্বাদে ভরা।

বিকেলের রঙে হারানো দিনগুলো

১৩ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১০:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মনিটরের পর্দায় যখন ছবিটি ভেসে উঠল, তখন মনে হল যেন কেউ আমার ভেতরের স্মৃতির দরজাটা আস্তে করে খুলে দিচ্ছে। চোখের সামনে ভেসে উঠলো সেই শৈশবের বিকেলগুলো- যখন গরমের দুপুর গুলিতে ভাতঘুম দিয়ে বিকেলের আগে আগে উঠতাম। তারপর বিকেল নামতে শুরু করলে যেতাম খোলা মাঠের দিকে। চারপাশে শুধু বিস্তীর্ণ সবুজ, দূর-সুদূরে অল্প কয়টিা বাড়ি আর ওপরে অনন্ত নীল আকাশ। মনে হতো, যদি কোনোভাবে ওই আকাশে উঠার সিঁড়িটা খুঁজে পেতাম! ভাবতাম নিশ্চই আকাশের একটা গোপন রাস্তা আছে, যা কেবল আমার চোখে ধরা পড়ে না!

প্রতিদিন বিকেলে ঝাঁকে-ঝাক পাখি উড়ে যেত দক্ষিণ দিগন্তে। তাদের দেখেই মনে হতো, তারা নিশ্চয়ই কোনো অদ্ভুত জগতে যাচ্ছে- যেখানে মানুষের অনুমতি নেই, শুধু ডানাওয়ালাদের রাজ্য সেখানে। আমার কৌতূহল ছিল আকাশের চেয়েও বড়; ভাবতাম, একদিন আমিও এমন দুটো ডানার মালিক হবো, উড়ে যাবো তাদের সঙ্গে, তাদের সেই গোপন রাজ্যে!

তবে বিকেলের প্রতি আমার ছোট্ট একটা অভিমানও ছিল। কেন হঠাৎ করেই ঝুপ করে সন্ধ্যা নেমে আসে? এত সুন্দর আলো, এত রঙ, এত বাতাস, বাতাসের শন‍্‍-শন‍্‍ -সবকিছু এত তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায় কেন? কি হতো সন্ধ্যাটা কম হলেও বিকেলটা আরও একটু বড় হলে? কি হতো এই মুক্ত বাতাসে আরও একটু সময় পেলে? মনে হতো, নিষ্ঠুর প্রকৃতি ইচ্ছে করেই আমার বিকেলের সময়টা কমিয়ে দিচ্ছে।

কিন্তু কবে যেন সেই বিকেলগুলো হারিয়ে গেলো, বুঝতেই পারিনি। পড়াশোনা, ব্যস্ততা, জীবনের দৌড়ঝাঁপ- সব মিলে বিস্তীর্ণ মাঠগুলোও ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে গেলো কালের গহ্বরে। যে মাঠে দাঁড়িয়ে আকাশের রঙ বদলানো দেখতাম, সেখানে এখন শুধু ইট-কংক্রিটের দেয়াল। এলোমেলো মুক্ত বাতাসের তোড় এখন আর শন‍্‍-শন‍্‍ গান শোনায় না। আকাশ আছে, কিন্তু তার ম্লান রঙ এখন আর হৃদয় রাঙ্গায় না; আলো আছে, কিন্তু তাতে সেই শৈশবের যাদু এখন অনুপস্থিত।

এই নগরে এখন বিকেল মানেই মানুষের ক্লান্ত মুখ, গাড়ির অসহনীয় শব্দ, ধোঁয়া আর ছুটে চলা মানুষের ভিড়, কোলাহল, আর ময়লার গন্ধ। পাখির ঝাঁকের দেখা এখন আর মেলে না, দেখা যায় কেবল কাটা তারের মাঝে আটকে থাকা কিছু ঘুড়ি, আর দূর আকাশে উড়তে থাকা চিল অথবা কোন বাড়ির উঁচু ছাদের কার্নিশে ক্লান্ত কাক। আমার ভেতরে এই বিকেল গুলিতে এক অদ্ভুত শূন্যতা কাজ করে- মনে হয়, আমি শুধু আকাশটাই হারাইনি; বরং নিজেকেও হারিয়েছি টুকরো টুকরো সময়ের সাথে।

তবুও, মাঝে মাঝে মনে অদ্ভুত এক ইচ্ছা জাগে। যদি একদিন কৈশরের সেই দিনগুলোতে ফিরে যাওয়া যেত! আবার যদি সেই বিস্তৃত মাঠে দাঁড়িয়ে রঙ ভরা আকাশের নিচে পাখির অদৃশ্য সেই রাজ্যের পানে গন্তব্য নিয়ে গল্প বানাতে পারতাম। যদি পারতাম শন‍্‍-শন‍্‍ শব্দের তোড়ে বাতাসে হাত মেলে খোলা মাঠে এলোমেলো ছুটতে। যদি আবার জমা রাখতে পারতাম প্রকৃতির কাছে আমার ছোট ছোট সেই অভিমান আর অভিযোগ গুলো!

বিকেলের রঙ গুলো হয়ত আজও একই আছে, কিন্তু আমি জানি- শহরের আকাশে সেগুলোর দেখা পাওয়া আর সম্ভব নয়। শুধু মনেই রয়ে গেছে মুক্ত মাঠের এক কোনায় দাঁড়িয়ে বিস্ময়ভরা দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে দেখা একখণ্ড রঙিন আকাশ। যেখানে আমি এখনো দাঁড়িয়ে আছি- এক জেদি স্বপ্নবাজ শিশু হয়ে, ডানা গজানোর অপেক্ষায়।


ছবি-সূত্রঃ r/painting
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১০:৪০
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আদর্শের মুখোশ, নাকি অনলাইন প্রোপাগান্ডা: 'ন্যায়পরায়ণ' সাজার আড়ালে আসল রূপ কোনটা?

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২২



ধর্ম, নৈতিকতা আর আদর্শের মুখোশ পরে যখন ভেতরে ভেতরে চরম অবক্ষয় চলে, তখন সাধারণ মানুষ হিসেবে মুখ বুজে মেনে নেওয়া কঠিন!
ধর্ষণের অভিযোগ এআই (AI) দাবি করা কিংবা অনৈতিক ঘটনাকে ‘দ্বিতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুখী শিক্ষার্থীরাই ভালো শিক্ষার্থী, ওরাই সবচেয়ে মেধাবী

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৩৮

​আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থায় আমরা ‘মেধা’ শব্দটিকে জিপিএ-৫, গোল্ডেন মেডেল কিংবা পরীক্ষার খাতার নম্বরের ফ্রেমে বন্দি করে ফেলেছি। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কোচিং, প্রাইভেট আর মুখস্থ বিদ্যার যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মওলা

লিখেছেন আরমান আরজু, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:১৪

মাহরাম নয়, এমন পুরুষকে কি একজন স্ত্রীলোক নিজের স্তনের দুধ পান করাতে পারবেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন:... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×