"কে তোমাকে বললো আমি রাতে ঘুমাতে পারি না??" কড়া কন্ঠে উত্তর দিল মেঘা।
" কেউ বলার অপেক্ষা রাখে? এতো রাতে বারান্দায় তোমার উপস্হিতি তো তাই বলে। তাই না??? "
ছেলেটার মুখের ঐ দুষ্ট হাসিটা মেঘাকে অনেক বিরক্ত করে। সে বারান্দার শেষ মাথায় এসে বলে.." শোনো ছেলে, তোমার এসব ফালতু কথা শোনার মতো সময়, মনমানষিকতা কোনোটাই এখন আমার নেই। আমি......"
"আরে আরে আরে...." মেঘাকে থামিয়ে দেয় ছেলেটা।
"আমি কখন বললাম তোমাকে আমার কথা শুনতে?? " বলে ছেলেটা এগিয়ে আসে মেঘার দিকে।
"Whatever....!!!!." মেঘা বারান্দা থেকে রুমে চলে আসে। বিছানায় এসে টেবিল লাইট নিভিয়ে শুয়ে পরে সে। জোর করে চোখ বন্ধ করে ঘুমাবার চেষ্টা করে। ঘুমিয়ে পরে মেঘা.....
এ্যালার্ম ঘড়ির বিদঘুটে শব্দে ঘুম ভাঙে মেঘার। একি!! এতো বেলা হয়ে এলো।৮টা বেজে গেছে। মোবাইলের এ্যালার্ম বেচারা স্নু্জ করতে করতে বন্ধ হয়ে গেছে। দৌড়ে বাথরুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে গোসোল সেরে অফিস এর জন্যে তৈরি হয়ে গেলো সে। নাস্তার টেবিলে একমাত্র ছোট ভাই অরুপ কে নিয়ে নাস্তা করতে বসে গেলো সে।
"বাবার নাস্তা শেষ আম্মু? " বলে মেঘা।
"নাহ্। উনি এখোনো তৈরি হয়নি।" জবাব দেয় মেঘার মা নাসরিন আরা। স্বামীর প্রতি তার বিরক্তি বুঝতে সময় লাগেনি মেঘার।
"ওহ্, আচছা। এই অরুপ, আজ না তোর অংক পরীক্ষা?"
"হ্যাঁ আপি। আমি সব পারি।" কৌতুহলি কন্ঠে উত্তর দেয় অরুপ।
"হুমমমমমম...পারিস, ডাব্বা মারতে পারিস, আর কিছুই না. হাহাহাহাহাহা..." হেসে ওঠে মেঘা।
প্রচন্ড লজ্জা ও ক্ষোভ বাধ্য করে ছট্টো অরুপ কে নাস্তার টেবিল থেকে উঠে যেতে।
"মেঘা তুই ও না। কি দরকার ছিলো বাচচাটার সাথে সকাল সকাল এরকম ব্যবহার করার? " মেঘার মা বলে মেঘাকে।
"ধুর মা, তুমি আমাদের মাঝে বলবা না তো। দুষ্টামি ই তো করসি, তুমি হা্ওয়া দিও না। " শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করে মেঘা।
"আম্মু আমি গেলাম। আজ আসতে সন্ধ্যা হবে। বাবা আসি। " বলে মেঘা বের হয়ে গেলো বাসা থেকে।
"মেঘা দুপুরে খাবার ও ঔষধ খেয়ে নিস মা, ভুলিস না।" মেয়ে কে বলে নাসরিন আরা।
এই ঔষধ মেঘার পিছু ছারলো না। গ্যাষ্ট্রিক এর মারাত্তক রোগি সে।
নাহ্, কাজ টা ঠিক হয়নি। অরুপ বড় হচছে। তার এখন অনেক কিছুই খারাপ লাগবে। কি যেনো বলে? হ্যাঁ, self respect, ওটা তৈরি হচছে তার ভেতর।
এসব ভাবতে ভাবতে নিচে পার্কিং এ চলে এলো মেঘা। পার্কিং এ দেখা হলো রাতের সেই বিরক্তিকর ছেলেটার সাথে।তবে এখন সে বেশ গোছানো। পা থেকে মাথা পর্যন্ত টিপটপ। মাথার চুল গুলো বেশ গোছানো, হাতে এ্যাপ্রন ও স্টেথেস্কোপ।
"আরে তুমি.. ভাবিনি সকালে তোমার দেখা পাবো। তো? ঝাসির রানী, রাতে ঘুম হলো ঠিক ঠাক?" বললো ছেলেটা।
"তোমার জেনে কাজ? আর আমাকে এসব ফালতু নামে ডাকবা না। খবরদার।" রাগান্বিত কন্ঠে জবাব দেয় মেঘা।
"ওহ্ i see, তা তোমাকে কি নামে ডাকবো? তুমিই বলে দাও?"
মেঘা চুপ করে রইলো।
"okay বাবা don't feel offended. আমরা তো প্রতিবেশি, তাইনা?? আচছা যাও intro আমিই শুরু করি। hi আমি অয়ন। তুমি?"
"মেঘা" এক বাক্যে জবাব দেয় মেঘা।
"মেঘা???? হুমমমম... সুন্দর নাম। কিন্তু তোমার নামের চাইতে তুমি সুন্দর। specially তোমার চুলগুলো।" বলেই চলে গেলো অয়ন।
মেঘা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো অয়নের দিকে। চেনা নেই জানা নেই কেউ কাউকে এভাবে বলতে পারে? জানা ছিলোনা মেঘার।
অফিসের গাড়িতে করে অফিসে চলে এলো মেঘা।
"Hello listeners......শুনছেন আপনাদের very own sweet and sour মেঘ মেঘা কে........" মেঘার show on air।
লিন্ক দিয়ে মেঘা on air রুমের বাইরে এসে ছটুর কাছে এক কাপ কড়া কফি চাইলো। শো শেষ করে মেঘা কলিগ মহলে এসে বসলো।
"মেঘ মেঘা, the super hit Rj, show কেমন হলো?
"হুমমমমম....বরাবর যা হয়, কাজের মতই কাজ ছিলো। নতুন কি আর।" বলে মেঘা।
"তোকে এরকম বিদ্ধস্ত লাগছে কেনো রে? " জিগেস করে মেঘার কলিগ বান্ধবি তনিমা।
"আরে বলিস না, ঘুম ঠিক মতো হয়নি। সোসাইটি তে নতুন এক ফামিলি এসেছে। দিন রাত ঝগরা করে। এদের জালায় ঘুমানো দায়।"
হঠাৎ অয়নের কথা তার মনে এলো। কেমন যেন ছেলেটা। নির্ঘাত মাথায় সমস্যা আছে।
অফিস সেরে ভার্সিটি গেল মেঘা। ক্লাশ শেষে বন্ধুদের সাথে রেস্টুরেন্টে খেলো। ঘোরা ফেরা, আড্ডা, এভাবে দিন পার হয়ে গেলো।
সন্ধ্যা হয়ে গেলো। মেঘা বাসার কিছু দুরে, হঠাৎ সিএনজি টা খারাপ হয়ে গেলো।
প্রচন্ড রাগ হলো মেঘার। এটা নিতান্তই ফাজলামি, মনে হলো তার।রাস্তায় একটা রিক্সা নেই।হাতে ল্যাপটপ। একা হেটে যাওয়া টা মোটেও সেফ না। বাবাকে কল দিলো মেঘা। কল ধরলো না বাবা। ব্যস্ত খুব স্বম্ভবত।
মেঘা কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে পরলো।
"hey Megha. তুমি এখানে?? What a pleasant surprise!!!! "
holy shit! অয়ন। এক জালা কি কম ছিলো এখন আরেকটা এসে জুটলো, ভাবলো মেঘা।
চলবে.....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




