"কি হয়েছে? সিএনজি খারাপ হয়ে গেছে? " জিগেস করে অয়ন।
"নাহ্, সিএনজি রাস্তায় দাড়া করিয়ে হাওয়া খাচ্ছি" বিরক্তির কন্ঠে বলে মেঘা।
"হাহাহাহা.. good sense of humor. no worries, চলো তোমাকে লিফ্ট দেই। "
মেঘার ইচ্ছা হচ্ছিলো অয়ন কে গাড়ির ভেতর থেকে বের করে আচ্ছা করে কিছু কথা শুনিয়ে দিতে। মেঘা মাথা নেড়ে শুধু না বললো।
" উফ্ চলো তো, i insist, please? "
মেঘা অবশেসে রাজি হলো। এক অর্থে সে বাধ্য ছিলো রাজি হতে। কারন রাস্তায় একা যাওয়াটা বেশ বিপদজনক। অয়ন মেঘার দিকে তাকালো, মেঘা বিরক্ত। সে মেঘাকে বললো_
" আজ শুনলাম তোমাকে। তোমরা RJরা, তোমাদের কথা বলার style এতো awkward. একদম fake লাগে শুনতে। অযথা বকবকানি তাও এতো ঢং করে।"
মেঘা অপ্রস্তুত হয়ে গেলো।
"আর তোমার RJing তো আরো পিকুলিয়ার। কথা বলো নাকি ছড়া পড়ো ধরা মুশকিল। হাহাহাহাহা..." অট্টহাসি হেসে ওঠে অয়ন।
অয়নের হাসিতে মেঘা বেশ অপমানিত এটা বুঝতে পারে অয়ন। সে হাসি থামিয়ে বলে.. "bye the way, আমি একজন Dentist। internship চলছে, ইনশাল্লাহ্ ২ মাসের ভেতর তা শেষ হয়ে যাবে। তুমি??"
"BBA করছি, 10th semester চলছে। " মেঘা জবাব দেয়।
"cool. তবে তো বেশ মজা করো তুমি, তোমার বন্ধুরা। আমাকে দেখো, বেহাল অবস্থা। medical life ও একটা life হলো. boring cases, boring stuff, god" অয়ন বলে।
বাসায় চলে আসে মেঘা ও অয়ন। গাড়ি পার্ক করে অয়ন মেঘা কে বলে-
"you welcome"
"sorry? " বিব্রত মেঘা জবাব দেয়।
"relax। তুমি তো আমাকে thank you বলবেই, দেড়ি করছো, তাই আমিই বলে দিলাম you welcome। as simple as that"
"thank you" বলে মেঘা
"see?? " ঠোটের এক কোনায় ছোট একটা হাসি নিয়ে বলে অয়ন।
"bye" বলে মেঘা লিফ্ট এর দিকে চলে যায়।
অরুপ কে সকালে অপমানের জন্য সারাদিন অপরাধবোধ করেছে মেঘা। তাই বাসায় ফেরার পথে অরুপের পছন্দের pastry shop থেকে pastry কিনে আনে সে। অরুপ খুব খুশি pastry পেয়ে। অরুপ কে খুশি দেখে মেঘাও খুশি।
রাতে খাবার টেবিলে সবাই একত্রে খাবার খাচ্ছে। মেঘার বাবা মুস্তাফিজ চৌধুরি মেঘার দিকে প্রশ্নের কামান ছুড়ে মারে-
"তোমার তো last semester চলছে, তাই না? "
"last এর আগেরটা বাবা" উত্তর দেয় মেঘা।
"হমমম তারপর কি করবে decide করেছো? HSBC ব্যাংকে....."
"বাবা please, not again।" বাবা কে থামিয়ে দেয় মেঘা।
"শুরুটাই যদি শুপারিশ দিয়ে করতে হয় তো পড়ালেখার কি দরকার ছিলো? please বাবা let me handle this my way" মেঘা বলে
বাবা মুখ গোমড়া করে খেতে থাকলো। মেঘার খারাপ লাগলো। ইস্!! এতোটা বাজে করে না বললেও হতো, ভাবলো মেঘা।
"উফ বাবা, এতো চিন্তার কি আছে? এখনো একটা semester বাকি, তারপর internship, তারপর job। আমি চাই আমি আমার যোগ্যতাতে চাকরি পাই। তাছাড়া আমি তো এখন একটা job করছিই।"
"ওই তোতা পাখির মত বকবকানিও একটা কিছু হলো? " মেঘার বাবা বলে।
"wow বাবা। একটা সুযোগ ও তুমি ছারতে চাও না আমার কাজকে criticize করার, তাইনা?" " anyway, i'm done। আমি রুমে গেলাম। আম্মু বুয়াকে বলো আমাকে কড়া করে এক কাপ কফি দিতে, আর হ্যাঁ, রুমে যেনো নক করে ঢোকে।" বলে মেঘা তার রুমের দিকে চলে যায়। মা, বাবা খেয়ে উঠে গেলো। বুয়া টেবিল গুছিয়ে ফেললো। অরুপ আগেই ঘুমিয়ে গেছে।
রাত ১১টা। যথারিতী নিয়ম, মেঘা ল্যাপটপটা অন করলো। এখন টার ফেসবুকিং এর সময়। ফেসবুকে তার একটা ফ্যানপেজ আছে, RJ Megha. প্রায় ৭,০০০ ফ্যান রয়েছে তাতে। সে তার এ্যাকাউন্টে লগইন করলো। নোটিফিকেশান ১৩টি, মেসেজ ৮টি, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ৯টি। সকাল পর্যন্ত ৮টি ছিলো, নতুনটা কে আবার, ভাবলো মেঘা।
সে দেখলো নতুন একটি নাম, _ নওশাদ হাবিব
ফটো যা দেয়া তা মেঘা চিনতে পারছেনা। মেঘা রিকোয়েস্ট টি একসেপ্ট করলো না, পেন্ডিং রেখে দিলো। ফেসবুক এ্যাকাউন্টটি নিতান্ত তার ব্যক্তিগত। পরিবার, আত্বীয়, বন্ধু বান্ধবি ও কলিগরা ছাড়া কাউকে সে এ্যাড করে না।
বন্ধুদের সাথে চ্যাট করতে করতে প্রায় রাত সারে ১২টা বেজে গেলো। সে ল্যাপটপ বন্ধ করে বিছানায় হেডফোন কানে লাগিয়ে শুতে যাবে ঠিক তখনই গীটার এর শব্দ তার কানে এলো। গীটার মেঘার খুব ভালো লাগে। প্রায়ই সে শোনে মাঝরাতে গীটারের শব্দ, কিন্তু টা কোথা থেকে আসে মেঘা জানেনা, জানার চেষ্টাও করেনি কখনও। মেঘা শুনতে পেলো চমৎকার কন্ঠে একটা গান...
"আজ তোমার মন খারাপ মেয়ে, তুমি আনমনে বসে আছো, আকাশ পানে দৃষ্টি উদাস, আমি তোমার জন্য এনে দেবো মেঘ থেকে বৃষ্টির ঝিড়িঝিড়ি হাওয়া...সে হাওয়ায় ভেসে যাবে তুমি..." মেঘার অনেক পছন্দের একটা গান। খুব স্পষ্ট শুনছে সে। মেঘা দৌড়ে বারান্দায় গেলো। অয়ন গাচ্ছে। বারান্দার ফ্লোরে বসে, চশমা চোখে, গীটার কোলে।
মেঘা অয়নের দিকে তাকিয়ে রইলো। চাঁদের আলোতে কি অসম্ভব সুন্দর লাগছে তাকে দেখতে। ওর হাসিটা অসাধারণ।
"মেঘা! ঘুমাওনি? " অয়ন বললো মেঘাকে।
মেঘা বেশ বিব্রত হলো। অয়ন বুঝেছে মেঘা এতক্ষন তাকেই দেখছিলো।
"ওহ্ হ্যালো, ম্যাম, আপনাকে বলছি। ঘুমাননি কেনো? "
"কি করে ঘুমাবো? ঘুমাতে যাচ্ছিলাম, তখনই ছাগলের মতো ব্যা ব্যা শুরু করলে" বললো মেঘা।
"ওহ্ তাই? এত্তক্ষন যে বিভর হয়ে আমাকে শুনলেন, আমি কথা বললাম আর ছাগলের ব্যা ব্যা হয়ে গেলো? বাহ্!! মেয়ে মানুষ আসলেই double faced."
"তো তুমিই সে? রোজ গীটার বাজিয়ে বিরক্ত করো।" জিগেস করে মেঘা
"নাহ্, রোজ যা গীটার বাজায় সে আমি না। আমি মাঝে মাঝে বাজাই। আর এই পুরো সোসাইটি তে i'm the only Guitarist...the hansome bachalor, you know.! " মুচকি হেসে জবাব দেয় অয়ন।
"খালি কলশি বাজে বেশি যাকে বলে। যাই হোক, তো তোমার ব্যা ব্যা শেষ হলে আমি এবার কি ঘুমাতে পারি? "
"oh sure your highness. please, do have a sound sleep. goodnight" হাসিমুখে বলে অয়ন।
মেঘা তার রুমে চলে আসে। রুমে ঢুকে অদ্ভুত লাগলো মেঘার। তার খুব ইচ্ছে হলো অয়নকে Thanks দিতে। সে বিছানায় শুয়ে পরলো। সে মনে মনে ভাবলো...অয়নের সাথে সে একটু বেশিই খারাপ ব্যবহার করে। নাহয় একটু রসিকতা করে। কিন্তু এটাতো খারাপ কিছু না। এসব ভাবতে ভাবতে মেঘা ঘুমিয়ে পরলো।
পরদিন সকালে নাস্তা করে অফিসের উদ্দেশে বের হয়ে গেলো সে।
"পরী...এই পরী...." কেউ ডাকছে। মেঘা শুনলো কিন্তু তাকালো না।
"এইযে RJ মেঘা জী," অয়ন সামনে এসে দাড়ালো।
"এইযে তোমাকে এতখন ধরে ডেকে যাচ্ছি পরী পরী জবাব দিলে না কেন? " অয়ন জিগেস করে মেঘাকে।
"কারন আমার নাম পরী না" মেঘা জবাব দেয়।
"ঠিক আছে, কিন্তু আমি ডিসাইড করেছি তোমাকে পরী বলে ডাকবো।" বলে অয়ন।
মেঘা গেটের দিকে হাটতে শুরু করে।
"আরে আরে পরী আমার কথা শেষ হয়নি এখনো। তুমি আমার রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করোনি কেনো? " বলে অয়ন
"কিসের রিকোয়েস্ট?" অবাক হয়ে প্রশ্ন করে মেঘা।
"কিসের আবার, ফেসবুকে নওশাদ হাবিব। উফ্, তোমার শরীরও মোটা, তোমার মাথাও মোটা," বলে অয়ন।
মেঘা রেগে বললো "আমি মোটেও মোটা না, bulky "
" ওহ্ bulky!! কিন্তু মেঘা, লাউ আর কদু খুব কি ভিন্ন কিছু হাহাহাহাহা"
অট্টহাসিতে হাসতে শুরু করে অয়ন।
মেঘার প্রচন্ড রাগ হয়, সে এক মুহুর্ত দেরি না করে বের হয়ে যায়।
অফিসে গিয়ে আজ মেঘা কফি চাইলো না, তার মন খুব খারাপ। নাহয় সে একটু bulky, তাই বলে এভাবে বলাটা মোটেও উচিৎ হয়নি অয়নের। মেঘার চোখে পানি চলে এলো। চোখ মুছে শো্ এর জন্যে তৈরি হয়ে গেলো সে।
"good morning Dhaka!!!! চলে এসেছি মেঘা নতুন একটি দিনে নতুন ধামাকা নিয়ে......" মেঘার শো চলছে।
শো শেষে মেঘার মোবাইলে একটা কল আসলো। মেঘার কাজিন মমো ফোন করেছে।
"hello???" মেঘা কল ধরে।
"ঐ ফাজিল মেয়ে তুই কবে আসবি বল।" ভাবি বধু মমো বলে
"আরে আসবো তো। আমার ছুটি approve হোক, এখনো এক সপ্তাহ বাকি আছে।"
" এক সপ্তাহ!!! মাত্র এক সপ্তাহ!!! কতো কাজ বাকি এখনো। তোকে নিয়ে শপিংএ যাবো বললাম না? আলপনা করা হয়নি, তুই না এলে কে দেখবে এগুলো? " বলে মমো।
"আরে আসবো, টেনশান নিস না। ফাহাদ ভাইয়া কেমন আছে? "
"as usual, ভালোই আছে। তোর কথা জিগেস করলো আজ"
"হম্, আচ্ছা শোন, আমি ভার্সিটি যাবো এখন। আমি বাসায় গিয়ে তোকে ফোন করছি।"
"okay but please, তারাতারি আসিস। মেহেদি লাগাইনি তুই লাগিয়ে দিবি তাই"
"আচ্ছা মেরি মা, এখন রাখলাম। bye! " হেসে ফোন কেটে দেয় মেঘা।
এভাবেই ব্যস্তমূখর আরেকটি দিন কাটে মেঘার..................
চলবে....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




