somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তাহার সমীপে......(পর্ব ৪)

২৫ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ৩:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরদিন সকালে দ্রুত নাস্তা সেরে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো মেঘা। নিচে পার্কিং এ দেখলো অয়ন গাড়ির দিকে এগুচ্ছে। সে ভাবলো, সেরেছে.. এখন এর সাথে দেখা হওয়া মানে সর্বনাশ। উলটা পালটা কিছু বলে বসবে, মেঘার মেজাজ টা খারাপ হয়ে যাবে। এমনিই সকাল থেকে দাঁতে ব্যথা অনুভূত হচ্ছে তার। সে চেষ্টা করলো অয়ন কে উপেক্ষা করে যাওয়ার।

"পরী, এতো তারাহুরো করে কই যাও? " ব্যর্থ মেঘার প্রচেষ্টা, অয়ন তাকে ধরে ফেলেছে।

"কোথাও না" উত্তর দেয় মেঘা।

"আমার উপর এখনও রাগ করে আছো পরী? আচ্ছা বাবা সরি। আমি বুঝিনি তুমি এতোটা রাগ করবে। দুষ্টামি করাছি, সিরিয়াসলি!!! "

মেঘা কিছু বললো না, দাড়িয়ে রইলো।

"কী ব্যপার? গালে হাত দিয়ে আছো কেনো? কোনো সমস্যা? " জিগেস করে অয়ন মেঘাকে।

"এমনি, কিছু হয়নি," উত্তর দেয় মেঘা আস্তে করে।

"উহু, কিছু তো একটা হয়েছেই। দারাও, তোমার দাঁতে ব্যথা নাকি? " অয়ন বলে।
এইযে, সেরেছে। এখন তো ভালো বিপদ। মনে মনে ভাবলো মেঘা।

"হা করো " মেঘাকে বলে অয়ন।
মেঘা ঘাবরে যায়। দাঁতের ব্যপারে ডাক্তার, কবিরাজ বড়ো ভয় পায় সে।

"কি ব্যপার? হা করো? " ধমক দিয়ে বলে মেঘাকে অয়ন।
মেঘা বেচারি নিরুপায়। অয়ন নাছোরবান্দা। তার কথামতো কাজ না করলে মেঘারই বিপদ। সে কষ্ট করে হলেও অয়নের কথা মতো কাজ করলো।

"হম্, আক্কেল দাঁত। যাক ঘাবড়নোর কিছু নেই, সেরে যাবে। কাগজ কলম দাও তো।" বলে অয়ন।

"কেনো? " জিগেস করে মেঘা

"উফ্, কেনো অহেতুক কথা বারাও পরী? যাও তোমার দিতে হবে না।" অয়ন তার গাড়ির ভেতর থেকে কাগজ কলম বের করে তাতে কিছু লিখতে শুরু করলো।

"এই নাও, এগুলো খেতে হবে, টাইম, কোয়ানটিটি দেয়া আছে, ওভাবেই খাবে। ঠিক আছে? " কাগজটা দেয় সে মেঘার হাতে।
মেঘা কাগজটা হাতে নিয়ে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকে।

" পরী, এদিকে তাকাও, তোমার খারাপ হবে এমন কিছু আমি কোনোদিন করবো না। আর তুমি তোমার খারাপ করবে তা আমি হতে দেবো না। " বলে চলে গেলো অয়ন।

মেঘা দাড়িয়ে রইলো সেখান....... নির্বাক হয়ে...
ফার্মাসি তে গিয়ে অয়নের পরামর্শ অনুযাই ঔষধ কিনে নিলো সে। অফিস তার ছুটি মন্জুর করেছে। ৭দিনের ছুটি পেয়েছে সে।
ভার্সিটি ছুটি। গ্রীষ্মকালীন অবকাশ। বাসায় ফিরে আসলো সে।

"আম্মু কফি পাঠাও রুমে। " বলে সোজা রুমে চলে গেলো সে।

রুমে ঢুকে ব্যগটা রেখে বিছানায় শুয়ে পরলো সে... চোখ বন্ধ করে চুপচাপ শুয়ে রইলো সে।
"খালা, কুফি।" বুয়ার টোকা পরলো দরজায়।
"ভেতরে এসে রেখে যাও, " বুয়াকে বললো সে।

বুয়া ভেতরে এসে কফি রেখে গেলো। কফি খেয়ে মা কে রান্নাঘরে সাহায্য করতে গেলো মেঘা।

"আম্মু কি রান্না করবা আজকে? " মেঘা জিগেস করে।

"দাঁত ব্যথা, কথা বলিস না" মেঘার মা বলে।

"আম্মু, দাঁত ব্যথা নতুন হচ্চে না। আচ্ছা, পাশের ব্লকের ফ্ল্যাটে যারা থাকে, চেনো নাকি কাউকে? " বলে মেঘা।

"হম্, খুব ভদ্র পরিবার। মিষ্টার মিসেস হাবিব। একটাই ছেলে, কি লক্ষী ছেলে। ডাক্তার, দেখতেও কি সুন্দর। আহাঃ এরকম ছেলেই তো সব বাবা মা চায়। "

ভদ্র না ছাই..মনে মনে বলে মেঘা। মেঘার মা মুগ্ধ মিষ্টার ও মিসেস হাবিব এর ছেলে দেখে, বুঝতে পারে মেঘা।

"আম্মু, আমি হয়তো কাল ফুপির বাসায় যাব। বিয়ে বাড়ি, কি কাজ টাজ আছে টা দেখতে হবে। মমো ফোন দিয়ে মাথা খারাপ করে ফেলছে।" বলে মেঘা।

"ঠিক আছে যা, কিন্তু কাজ করে আবার নিজে অসুস্থ হয়ে যাস না আবার " বলে মেঘার মা।

দুপুরে খাবার শেষে মেঘা ঔষধ খেয়ে নিলো। টিভির সামনে বসে কিছুক্ষন টিভি দেখে সে। অরুপ এর সাথে দুষ্টামি করে। বিকেল গড়িয়ে এলো এভাবে।
অনেকদিন পর বিকেলটা আজ মেঘা বাসায় কাটাচ্ছে। তার প্রচন্ড ইচ্ছে হলো ছাদে যেতে। ছাদে সে একটা দোলনা রেখেছে। সেই দোলনায় দোল খেতে টার অনেক ভালো লাগে।
ছাদে গেলো মেঘা, গাছগুলো প্রায় মরতে বসেছে। বুয়া কাজ প্রচন্ড ফাকি দিচ্ছে ইদানিং। গাছগুলোয় পানি দেয়না। মেঘা গাছগুলোয় পানি দিলো। পানি দেয়া শেষে দোলনায় বসে দোল খেতে লাগলো সে। রবীন্দ্রনাথের কবিতার একটা বই সাথে করে নিয়ে এসেছিলো সে। দোলনায় বসে কবিতার বইএর পাতা উলটাচ্ছে সে। হঠাৎ বইটা বন্ধ করে উঠে দারালো সে।


" তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
গাঁথিয়াছে গীতহার,
কত রূপ ধরে পরেছ গলায়,
নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। "
চোখ বন্ধ করে আবৃতি করে সে..


"যত শুনি সেই অতীত কাহিনী,
প্রাচীন প্রেমের ব্যথা,
অতি পুরাতন বিরহমিলনকথা,
অসীম অতীতে চাহিতে চাহিতে
দেখা দেয় অবশেষে
কালের তিমিররজনী ভেদিয়া
তোমারি মুরতি এসে,
চিরস্মৃতিময়ী ধ্রুবতারকার বেশে।"

মেঘার আবৃতি খন্ডিয়ে আবৃতি করে কেউ একজন..
মেঘা পিছনে ফিরে তাকায়। অয়ন মেঘার দিকে তাকিয়ে আছে হাসিমুখ

" আমরা দুজনে ভাসিয়া এসেছি
যুগল প্রেমের স্রোতে
অনাদিকালের হৃদয়-উৎস হতে। "

আবৃতি করে অয়ন। মেঘা মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অয়নের দিকে।


" আমরা দুজনে করিয়াছি খেলা
কোটি প্রেমিকের মাঝে
বিরহবিধুর নয়নসলিলে,
মিলনমধুর লাজে—
পুরাতন প্রেম নিত্যনূতন সাজে।"
আবৃতি করে মেঘা।


" আজি সেই চিরদিবসের প্রেম
অবসান লভিয়াছে
রাশি রাশি হয়ে তোমার পায়ের কাছে।
নিখিলের সুখ, নিখিলের দুখ,
নিখিল প্রাণের প্রীতি,
একটি প্রেমের মাঝারে মিশেছে
সকল প্রেমের স্মৃতি—
সকল কালের সকল কবির গীতি।"
অয়ন আবৃতি করে....

" wow!! তুমি কবিতা পরো? তোমার personalityর সাথে যায়না কিন্তু একদমই। তাও রবীন্দ্রনাথের কবিতা। " মেঘা বলে অয়নকে

" কেনো? রবীন্দ্রনাথ কি তোমার একার জন্যে কবিতা লিখতেন? যদিও এত চমৎকার কবিতা হয়তোবা তোমার মতই কোনো সুন্দরী কে নিয়ে লিখেছেন সে। " বলে অয়ন।

মেঘা লজ্জা পায়। "তুমিতো দেখছি অনেক কিছু পারো। ডাক্তার, গীটার বাজাও, আবার আবৃতিও করো। "

"আজকাল শুধু good look মেয়েদের impress করার enough না, they want more." অয়ন বলে

"তাই নাকি? তার মানে এসব তুমি শুধু মেয়েদের impress করার জন্য করো? i mean এইযে গান, আবৃতি, গীটার এসব? " জিগেস করে মেঘা।

"correction!!! মেয়েদের না, মেয়েকে। আর আমি যাকে impress করতে চাই i think already সে impressed। " হাসিমুখে বলে অয়ন।

"বুঝলাম না " বলে মেঘা।

" কিছু না। কবিতা আবৃতি করছো, কথা বলছো, তার মানে দাঁতের ব্যথা এখন under control, তাই তো? " জিগেস করে অয়ন।

" হ্যাঁ, under control। ব্যথা বেশ কমেছে। " বলে মেঘা।

"see? i told you তোমার খারাপ হবে এমন কিছু আমি কখনো করবো না। আচ্ছা, তুমি থাকো তাহলে, আমি বাইরে যাবো একটু। দেখা হবে। নিজের খেয়াল রেখো। " বলে অয়ন চলে যেতে থাকে।

" অয়ন............" পিছু ডাকে মেঘা।
অয়ন পিছনে ফিরে মেঘার দিকে তাকায়।
"thank you..." হাসি মুখে বলে মেঘা।

"যাক, i'm happy, finally হাসিমুখে তুমি আমার সাথে কথা বললে। হাসলে তোমাকে অসম্ভব সুন্দর লাগে।" বলে চলে গেলো অয়ন।

মেঘা কিছুক্ষন আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো। গোধূলির নিরবতা হয়তো নিজের ভেতর ধারন করতে চেয়েছিলো সে।

রাতে খাবারের পর রুমে এসে ফেসবুকে লগইন করে সে। ফ্রেন্ডরিকোয়েস্ট গুলো দেখে সে। নওশাদ হাবিব....এখনও র‌য়েছে পেন্ডিংএ। মেঘা একসেপ্ট করে রিকোয়েস্টটি। মিনিট পাঁচেক পর তার কাছে চ্যট মেসেজ আসে।

" Mehzabin Naz Chowdhury...nice name. hi there :) " লেখে অয়ন।

"thank you. hello :)" রিপ্লাই করে মেঘা।

" finally u got my heart safe frm getting broken"

"and that is how?" লেখে মেঘা।

"khub shohoj, if a beautiful girl rejects me, my heart will get broken" লেখে অয়ন

"i see. tumi to experienced. :p" লেখে মেঘা

"experienced about what?"

"ummmm 101 formula of impressing a girl. "

"101? :-o matro? dhett. eto kom formula amar hote pare na." লেখে অয়ন।

"oh sorry, ami eshob bepare ekdom e novice kina, :-/"

"megha, come to balcony right now" লেখে অয়ন।
***Nowshad isn't online now***


চলবে......
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×