somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তাহার সমীপে......(পর্ব ৫)

০৫ ই নভেম্বর, ২০১২ ভোর ৪:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেঘা বুঝতে পারলো না অয়ন কেনো তাকে বারান্দায় আসতে বললো। মেঘা বারান্দায় গিয়ে দেখলো অয়ন দারিয়ে আছে, বেশ চিন্তিত।

"কি হলো? কোনো সমস্যা? " জিগেশ করে মেঘা।

"বিশাল সমস্যা, একটা হেল্প করবা? " বলে অয়ন।

"কি হেল্প? " বলে মেঘা

"আমার ফোন টা খুজে পাচ্ছি না, কল করো তো আমার নাম্বার এ" বলে অয়ন।

"কিন্তু আমি তো তোমার নাম্বার জানিনা। " বলে মেঘা

"হায় রে টিউব লাইট রে, আমি তোর নাম্বার চাইলাম বেটি " বিরক্ত হয়ে বলে অয়ন।

"এই, তুই করে বলবা না অসভ্যদের মতো। আর আমি কোন দিক থেকে বেটি?" বলে মেঘা

"তুমি কি বলতে চাইছো তুমি মেয়ে না? হাহাহাহাহাহাহা..... ওহ্ পরী" বলে হাসতে হাসতে রুমে চলে যায় অয়ন।

মেঘা কিছুই বুঝতে পারেনা। বেটি মানে তো মহিলা। মেঘা তো মহিলা না। সে কখন বললো যে সে মেয়ে না? সে তো বললো সে বেটি না। রুমে চলে এলো সে, ল্যাপটপ বন্ধ করে দিলো, শুয়ে পরলো সে।

পরদিন সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠে সে। একটা ফোন কল তার ঘুম ভাঙায়। সে ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখে মমোর ফোন।

"উম, হ্যালো.." বলে মেঘা

"কিরে এখনো ঘুমাস? কখন আসবি? " জিগেস করে মমো।

"আরে আসবো রে, উঠলাম মাত্র, ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে তারপর আসি? "

"ঠিক আছে ওয়েট করছি কিন্তু" বলে মমো ফোন রাখে

মেঘা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে ব্যগ গুছিয়ে না্স্তার টেবিলে চলে যায়।

"আম্মু, বাবা কে বলো জলদি রেডি হতে, আমি এখনই বের হবো।" বলে মেঘা

"তোমার বাবা তো সকাল সকাল চলে গেছে" উত্তর দেয় মেঘার মা

"সে কি!! আমি না বাবা কে বললাম আমাকে ফুপির বাসায় ড্রপ করবে? " বলে মেঘা

"তার কাজ ছিলো জরুরী, তাই চলে গেছে, বলেছে তোমার জন্যে গাড়ি পাঠাবে। "

গাড়ির হর্নের আওয়াজ শুনতে পায় মেঘা।

"ওইযে, গাড়ি চলে এসেছে" বলে মেঘার মা

"ওকে মা আমি আসি, অরূপ বাই"

মেঘা দ্রুত নীচে নেমে আসে। সে অয়ন কে খুজতে থাকে, কিন্তু আজ অয়ন কে দেখেনি সে , তার গাড়িও নীচে রাখা নেই, মেঘা ধরে নেয় অয়ন চলে গেছে হসপিটালে। সে গাড়িতে বসে দ্রুত রওনা হয়ে যায় ফুপুর বাড়ির উদ্দেশ্যে।

বিয়ে বাড়ি মানেই রমরমা অবস্থা। পুরো বাড়ি খুব সুন্দর করে লাইট দিয়ে সাজানো হয়েছে, রাতে নিশ্চই অনেক সুন্দর লাগবে দেখতে, ভাবে সে। বাসায় ঢোকা মাত্র চিৎকার করে তাকে জরিয়ে ধরে মমো। মেঘাকে দেখে সে যে কতোখানি আনন্দিত তা তার চোখে স্পশ্ট পরিলক্ষিত।

"কই চল, আলপনার কাজ শেষ করতে হবে। মেলা কাজ বাকি" বলে মেঘা মমো কে।
মেঘা জামা বদলে আলপনা করতে বসলো। সারাদিন জুরে সে ও তার অন্যান্য কাজিনরা মিলে আলপনা চমৎকার রঙিন আলপনা করে ফেলে। মেঘা মমো কে বলে "দেখেন তো ম্যাডাম পছন্দ হয় কিনা? "

"তুই আলপনা করবি আর তা পছন্দ হবে নে? এটাও কি সম্ভব? " বলে হেসে ফেলে মমো, সাথে মেঘাও হাসে।

"এবার তোর হলুদের স্টেজ এর পালা, দেখি, কি হাল, ভেন্যু তে যাবো। "
মেঘা ওর বাকি কাজিনদের সবাই কে নিয়ে ভেন্যুতে চলে যায়। সেখানে মেঘা আরেকটু কারুকাজ করে নেয় মেঘা। বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে আসে। শুরু হয়ে যায় মেহেদির উৎসব। মমোর ইচ্ছে তার হাতে বিয়ের প্রথম মেহেদি লাগিয়ে দেবে। মেঘা মমোর হাত জুড়ে মেহেদি লাগিয়ে দেয় মেঘা। আনন্দ মুখরিত সময় অতিক্রম করে।
রাত ১০টা বেজে গেছে। মমো ও মেঘা রাতের খাবার সেরে ফেলে। মেঘা খুব ক্লান্ত। বিশ্রামহীন দিন গেছে তার। মমোর সাথে মমোর রুমে রয়েছে সে। মেঘা শুয়ে পরলো। মমোর সাথে গল্প করছিলো সে, হঠাৎ তার ফোনে একটা কল এলো। আননোন নাম্বার। সে ভাবে, তার ফোনে কোনো আননোন কল তো আসার কথা না, তাও এতো রাতে। সে ফোন ধরে নীচু গলায় বললো-

"হ্যালো?"

"তুমি ঘুমাও নি এখনো? এভাবে রাত জাগা কি ঠিক? " খুব পরিচিত একটা কন্ঠ মেঘার মনে হয়।

"কে?? " মেঘা হীম হয়ে আসে। তার ভেতর মৃদু কম্পন অনুভব করে সে।

আমি তোমার একটা ফ্যান। না না এসি "

"অয়ন? " জিগেস করে মেঘা?

"হাহাহাহা চিনলে কি করে? " বলে অয়ন।

"এরকম জঘন্য কল টাইমিং তোমার ছাড়া আর কারো হতে পারে না। " বলে মেঘা।

"পরী, তুমি কি ডিসটার্বড কিছু নিয়ে? " জিগেস করে অয়ন

" তুমি কি ঘড়ির দিকে তাকিয়েছিলে কল করার আগে? এই সময়ে কেউ কাউকে কল করে?" বলে মেঘা

"তুমি রাগ করেছ পরী? সরি। আচ্ছা তুমি ঘুমাও। গুড নাইট " বলে অয়ন ফোন কেটে দেয়

মেঘা পানি খেয়ে নেয়। সে ঘামছে। নাহ্ মেঘা জা ভেবেছে তা না।
হঠাৎ তার মনে পরে, ফোনে তো অয়ন ছিলো। সে ভাবে অয়ন এর সাথে বেশ বাজে করে কথা বলে ফেলেছে। সকালেই সে অয়নকে ফোন করবে।

সকালে উঠে সে ব্যস্ত হয়ে পরলো হলুদ এর অনুষ্ঠানের সাজ সজ্জা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে। সব গুছিয়ে মমোকে পার্লারে নিয়ে জায় সে। গাড়িতে বসে তার মনে পরে অয়নকে তো ফোন করা হয়নি। পরক্ষনেই সে ভাবলো এখন ব্যস্ততার ভেতর ফোন করাটা উচিৎ হবে না।
পার্লার থেকে সবাই সেজে গুজে সোজা হলুদের ভেন্যুতে চলে গেলো।মমোর হলুদ সন্ধ্যা চলছে।

ব্যপক আনুষ্ঠানিকতা ও উদ্দিপনার ভেতর দিয়ে গেলো মমোর হলুদের অনুষ্ঠান। মমোর হলুদ সন্ধ্যা নিয়ে মেঘার যতো স্বপ্ন ছিলো তার পূর্তি হয়েছে। মেঘা অনেক আনন্দিত। এতো আনন্দের মাঝে সে অয়নকে ভুলে গেছে।

বিয়ের দিন চলে এলো। মেঘা খুব উৎসুক। সকাল থেকে সে মমোকে নিয়ে ব্যস্ত। অনেক কিছু দেখছে সে। এই নিয়ম, সেই নিয়ম। যৌক্তিক, অযৌক্তিক সব নিয়ম দেখছে সে ও ভরপুর আনন্দ নিচ্ছে সবকিছুর। অধীর অপেক্ষিত সেই সময় চলে এলো, মেঘার অতি প্রিয় বোন মমোর বিয়ের ক্ষন...
খুব সুন্দর দেখাচ্ছে মমোকে, ঠিক অপসরী। মেঘা নিজেকে নিয়েও অনেক সন্তুষ্ট। যতো যাই হোক, এতো বছরের চিন্তা ভাবনা, পরিকল্পনা তার, ঠিক যেনো কল্পনার বাস্তব প্রতিচ্ছবি দেখটে পাচ্ছে সে।
বর চলে আসে, বিয়ের অনুষ্ঠান যথারীতি চলতে থাকে। মেঘা হঠাৎ মনে করে অয়নের কথা, ওকে তো সরি বলা হয়নি। অয়নের কথা ভাবতে ভাবতে মেঘা কারো সাথে ধাক্কা লাগে। মেঘা খুব অবাক হয় অয়নকে তার সামনে দেখে।

"wait, এটা কি coincident নাকি তুমি আমাকে follow করছো? " বলে মেঘা

"i guess তোমাকে follow করছি " হেসে জবাব দেয় অয়ন

"হাহাহা তাই? তো তুমি এখানে কি করে?" জিগেস করে মেঘা

"আমি এখানে কি করে? উমমমম...ব্যস তোমাকে খুজতে খুজতে চলে এলাম। " হেসে বলে অয়ন।

" উফ seriously বলো না" বলে মেঘা।

"বর বাবার বন্ধুর ছেলে। বাবা মা এসেছে তাই আমাকেও আসতে হয়েছে। আমি আসতে চাই নি কিন্তু এখন মনে হচ্ছে না এলে আমারই ক্ষতি হতো। " বলে অয়ন

" অয়ন, কিছু সময় flirt বন্ধ রাখতে পারোনা?, bye the way, brideআমার বোন, i mean আমার কাজিন। "

"ওহ্ তাই নাকি? তো এসব নিয়েই ব্যস্ত ছিলে এই কয়েকদিন? "

"হ্যাঁ," মেঘার মনে পরে গত পরশু রাতের কথা, সে কিন্চিৎ লজ্জিত হয়।

"উম, অয়ন, আমি সেদিন রাতের ব্যবহারের জন্য খুব sorry। i was too tired, sleepy as well কি বলেছি বুঝতে পারিনি। please don't mind"

" তুমি এখনো এসব মাথায় ধরে রেখেছো? রাত গাই, বাত গাই, বুঝেছো? আর ভুল আমারই ছিলো, আমি অসময়ে ফোন করেছি। বাদ দাও। এক কাজ করো, আমাকে কিছু food serve করো, আমি hungry" বলে হেসে দে্য অয়ন।

" হাহাহাহা ঠিক আছে, এসো আমার সাথে। " বলে মেঘা।

মেঘা অয়নকে তার সব কাজিন দের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়, মমোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। এভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান চলতে থাকে।
অনুষ্ঠান শেষে মেঘা তার বাবা মায়ের সাথে বাড়ি ফিড়ে আসে। প্রচন্ড ক্লান্ত সে, এসেই ঘুমিয়ে পড়ে।

ঘুম ভাঙে মেঘার, মোবাইল এর ঘরির দিকে তাকিয়ে দেখে সে কেবল সকাল ৬টা বাজে। সে উঠে পরে। মেঘার ঠিক করে আজ সকালের নাস্তা সে বানাবে। আজ মেঘার মন খুব ভালো। অফিস, ভার্সিটির কোনো চাপ নেই, এখনো তার হাটে ৩ দিনের ছুটি আছে। এই ৩ দিন সে তার পরিবারের সাথে কাটাবে।সবচেয়ে আনন্দিত সে মমোর বিয়ে নিয়ে। যা যেভাবে চিন্তা করেছিলো সব সেভাবেই হয়েছে। ভাবতে ভাবতে সে ফ্রেশ হয়ে গেলো। রান্নাঘরে গিয়ে সকালের নাস্তা তৈরী করে ফেললো সে। নাস্তা টেবিলে সাজিয়ে সবাইকে ডাকলো। মেয়ের হাতের তৈরী নাস্তা দেখে মেঘার বাবা মা খুব খুশি। সবাই একত্রে নাস্তা করলো।
নাস্তা সেরে মেঘা মমোকে ফোন দিতে চাইলো, কিন্তু সে ভাবলো, এখন মমো বিবাহিতা। যখন তখন ফোন করাটা ঠিক হবে না। সে ভাবলো অয়নকে ফোন করা যায়। গতকাল ব্যস্ততার মাঝে তার সাথে ঠিক করে কথা বলা হয়নি। সে অয়নকে ফোন করে, অয়নের ফোন ভয়েজ মেইলে ট্রান্সফার করা। মেঘা একটা মেসেজ লিভ করে। আধ ঘন্টা পর মেঘার ফোনে অয়নের কল আসে।

"হ্যালো? " বলে মেঘা

" আরে বাবা, মেঘা জী, আমায় স্মরিলেন তাও প্রাতঃকালে, কি মোনে করিয়া? " অয়ন বলে।

"তোমার ভাঙা সাধুভাষা বন্ধ করো, গুরুচন্ডালী দোষ করছো" বলে মেঘা

"অধম আপনার সানিধ্যে এলে গুরুচন্ডালি শিষ্যচন্ডালি সব দোষ উন্মোচন করে কি আর করার। " হেসে বলে অয়ন।

" oh god, যাই হোক, কেমন আছো বলো" বলে মেঘা

" ভালো but আমি বেশ surprised তোমার মেইল পেয়ে। আশা করিনি তুমি আমাকে ফোন করবা। " বলে অয়ন।

" আসলে কাল ব্যস্ততার জন্য তোমার সাথে তেমন কথা বলতে পারিনি so i thought...."

" you thought আমাকে sorry বলবে, তাই তো? " জিগেশ করে অয়ন।

"ঠিক sorry না, এমনিই ফোন করেছি। " বলে মেঘা

" oh i see। anyway আমি হসপিটাল যাচ্ছি, i'll be driving. can i call you back? "

"অবশ্যই। কেনো না? ভালো থেকো" বলে মেঘা ফোন রাখে।

সারাদিন কেটে যায়। উদ্দীপনাহীন একটা দিন কাটে মেঘার। সে ভাবলো, নাহ্ ঘরে শুধু বসে থাকাটা খুব বিরক্তিকর। কিছু করা দরকার। সন্ধ্যার পর কফি খেতে খেতে টিভি চ্যানেল shuffle করছে সে। তখন সে অয়নের কল দেখতে পেলো ফোনে।

" yes" হাসিমুখে কল ধরে বলে মেঘা।

" কেমন আছো পরী? " জিগেস করে অয়ন

"আমি তো ভালই আছি। তোমার কি খবর? " বলে মেঘা

" খুব tired। আজ বেশ খাটুনি গেছে। " বলে অয়ন।

" oh i see!!! " বলে মেঘা.

" oh by the way তোমাকে একটা কথা বলতে ভুলে গেছি। " বলে অয়ন

"সেটা কি? " জিগেস করে মেঘা।

" তোমাকে গতকাল বেশ ভালো লাগছিলো দেখতে। " বলে অয়ন

" ওহ্ thank you। " বলে মেঘা

" পরী you know something চাপাবাজিতে i'm too good" বলে হাসতে থাকে অয়ন।

" are you sure তুমি চাপাবাজি করছো? " বলে মেঘা

" দুষ্টামি করছি বাবা, you were looking gorgeous" বলে অয়ন।

তাদের কথোপকথন চলতে থাকে। নি্ঃসন্দেহে অয়নের ব্যক্তিত্ব মেঘারে আকৃষ্ট করে। মেঘা অয়নের সানিধ্য পছন্দ করতে শুরু করে। তাদের ভেতর বন্ধুত্ব তৈরী হয়ে যায়। এভাবেই কেটে যায় দিনের পর দিন।

*****১ বছর পর*****

মেঘা অফিসে যাচ্ছে, অয়ন তাকে ফোন করলো।

"পরী আজ অফিসের পর কোথও যাচ্ছো?"

" না তো, কেনো? "

"তাহলে তখন আমি তোমাকে অফিস থেকে pick করছি okay? " বলে অয়ন

" ঠিক আছে কিন্তু এত তারা কেনো বুঝলাম না " বলে মেঘা

" তারা আছে, surprise, তখনই দেখবে। i'll see you then " বলে অয়ন ফোন কেটে দেয়।

অফিস সেরে মেঘা দেখে অফিসের বাইরে দাড়িয়ে আছে অয়ন।

"তোমাকে এরকম বিদ্ধস্ত লাগছে কেনো? " জিগেশ করে মেঘা।

" কারন আমি বিদ্ধস্ত। হসপিটাল থেকে সরাসরি এসেছি আবার যেতে হবে। সো কথা কম বলো গাড়িতে বসো কুইক। "

মেঘা কিছু বুঝতে পারে না, সে গাড়িতে উঠে বসে।

"অয়ন আমরা কোথায় যাচ্ছি? " জিগেশ করে মেঘা

" Paris, Eiffel Tower দেখতে। সমস্যা? বিরক্ত হয়ে বলে অয়ন

"এভাবে বলছো কেনো? " জিগেশ করে মেঘা।

" পরী আমি outing এর plan করেছি, that's it। চুপচাপ বসে থাকো।যেখানে যাচ্ছি জায়গাটা তোমার খুব পছন্দ হবে।

" অয়ন, আজ আমি আমার সতীত্ব নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবো তো? " বলে মেঘা

" bad joke মেঘা. একদম impractical " বলে অয়ন

মেঘা বুঝতে পারে অয়নকে এখন জিগেস করে লাভ নেই। ও কিছু বলবে না।
বলার হলে বলে দিত। গত এক বছর ধরে দেকছে সে অয়ন কে। অয়ন এরকমই।
ঘন্টা দু এক পর অয়ন মেঘাকে নিয়ে তার গন্তব্যে পৌছায়। মেঘা গাড়ি থেকে বের হয়। সে অবাক হয়ে যায়। অসাধারন সুন্দর জায়গা। ঠিক যেনো শিল্পীর আঁকা ক্যানভাসে কোনো ছবি। কাশফুলের বাগান....তা পেরিয়ে নদী। মেঘা ও অয়ন কাশবন পার হয়ে নদীর পাড়ে গেলো।

"wow চমৎকার জায়গা।" বলে মেঘা

" তোমার ভালো লেগেছে পরী? " জিগেস করে অয়ন

"ভালো মানে? অসাধারন!!!! " বলে মেঘা

"তোমাকে এখানে কেনো নিয়ে এসেছি জানো? " বলে অয়ন

"কেনো? " জিগেস করে মেঘা

" তোমাকে আমি কিছু বলতে চাই। actually confess করতে চাই"

"আমিও তোমাকে কিছু বলতে চাই" বলে মেঘা

" ঠিক আছে, ladies 1st, আগে তুমি বলো" বলে অয়ন

"অয়ন তুমি আমার অনেক ভালো বন্ধি, তাইনা?" বলে মেঘা

"তোমার সন্দেহ আছে কোনো? " বলে অয়ন

" আমি তোমাকে এখন যা বলবো ওটা শোনার পর ভুল বুঝোনা আমাকে। " বলে মেঘা

অয়ন চিন্তিত হয়। "পরী ব্যপারটা কী বলোতো " বলে অয়ন

"রাগ করবে না তো? জিগেশ করে মেঘা।

" পরী please tension দিও না, বলো কি হয়েছে " বলে অয়ন

"আমার...................."

"তোমার? " বলে অয়ন

"আমার আসলে....."

"তোমার আসলে? " বলে অয়ন

" আমার অনেক ক্ষুধা পেয়েছে, কিছু খেতে হবে। হাহাহাহা " অট্টহাসি তে হেসে ওঠে মেঘা

"পরী এটা কেমন ফাজলামি? তুমি যানো আমার হার্ট বেশ কিছু বিট মিস করেছে। বাদরামীর ও সীমা থাকে।" বলে অয়ন

"তোমার সাথে থাকতে থাকতে একটু আধটু বাদরামি আমিও শিখেছি। " বলে মেঘা।
মেঘা বুঝতে পারে এই ফাজলামিটা অয়নের একদম পছন্দ হয়নি। সে অয়নকে বলে।

" আচ্ছা sorry বাবা, কান ধরলাম, আর এমন করবো না। কিন্তু আমি মিথ্যা বলিনি। i'm hungry "

" lunch time হয়ে গেছে। আমি lunch নিয়ে এসেছিলাম। চলো খেয়ে নেই" বলে অয়ন।

দুজন একসাথে গাড়িতে খাবার খেয়ে নিলো। খাবার খেয়ে অয়ন মেঘাকে বললো " অয়ন চলো নদীর পাড়ে বসি। "

"ঠিক আছে চলো" বলে অয়ন

নদীর পাড়ে বসে তারা দুজন। মেঘা নির্বাক হয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে থাকে।

"আমি একজনকে ভালোবাসি। " বলে মেঘা।

" কিন্তু আমি তো জানতাম কয়েকজন কে ভালোবাসো তুমি । তোমার আব্বু আম্মু, অরূপ....... "

"যাহিন। ওর নাম যাহিন। " অয়নকে খন্ডিয়ে বলে মেঘা।

"এটা তোমার কোন কাজিন এর নাম? আমি আগে তো শুনি নি? বলে অয়ন।

"অয়ন আমি সিরিয়াস। " বলে মেঘা

" please পরী, over acting হয়ে যাচ্ছে এখন" বিরক্ত হয়ে বলে অয়ন

"অয়ন আমার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখো। তোমার মনে হচ্ছে আমি মিথ্যা বলছি? " বলে মেঘা

মেঘার অশ্রুসজল চোখ অয়নকে বাকরুদ্ধ করে ফেলে।

" যাহিন মমোর husband ফাহাদ ভাইয়ার ফ্রেন্ড। পরিচয়ের ৬মাসের ভেতর আমাদের affair হয়ে যায়। আমি ওকে অনেক ভালোবাসি। অনেক।"

" ২ বছর একে অপরের সাথে ছিলাম আমরা। ও আমাকে অনেক ভালোবাসতো। একদিন হঠাৎ ও আমাকে না জানিয়ে London চলে গেলো। আমি অনেক ওর সাথে যোগাযোগ এর চেষ্টা করেছি। পারিনি। ২মাস পর ও আমাকে মেইল করে এটা জানিয়ে যে ও London এ settled হয়ে গেছে। আমি যেন ওর সাথে যোগাযোগ এর চেষ্টা না করি। ওকে যেন ভুলে যাই। নতুন করে জীবন গোছাতে শুরু করি। আচ্ছা অয়ন তুমিই বলো, এভাবেই কি ভালোবাসার মানুষটাকে ভুলে যাওয়া সম্ভব? "

মেঘা কেঁদে ফেললো। বুঝতে পারলো না কি বলবে, বা কি করবে।

"অয়ন আমি আজ অবদি বুঝিনি আমার কি অপরাধ ছিলো যার শাস্তি আমাকে যাহিন দিয়েছে। আমার মনে প্রশ্ন আছে, ও কেনো আমাকে ছেরে চলে গেলো। আমি অনেক খুজেছি এই প্রশ্নের উত্তর, কিন্তু কোনো জবাব পাইনি"

" তুমি কখনই ওকে ভুলতে চাইবে না? জিগেশ করে অয়ন।

"আমি ওকে ভোলার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু কেনো জানি তা সম্ভব হচ্ছে না। আর কখনো হবে কিনা, আমি জানিনা " বলে মেঘা

অয়ন নির্বাক হয়ে বসে থাকে।

চোখ মুছে ফেলে মেঘা। নিজেকে সামলে নেয়। " যাই হোক, sorry আমি......
anyway তুমি কিছু বলতে চাইছিলে। বলো। " বলে মেঘা

"আমি তোমার ফোন নাম্বারটা তোমার অফিস থেকে collect করেছিলাম" বলে অয়ন।

"তা কিভাবে? " জিগেস করে মেঘা

" তোমাদের স্টেশনের sound engineer আমার এক পরিচিত বড় ভাই, তাই খুব কঠিন ছিলো না নাম্বার পাওয়া। হাহাহাহাহা" হেসে ওঠে অয়ন

"ব্যস? এই টুকুই বলার ছিলো? " বলে মেঘা।

"তুমি কি expect করছিলে? " বলে অয়ন।

" অয়ন তুমিও না" হেসে ফেললো মেঘা

যা অয়ন বলতে এসেছিলো তা আর বলা হলো না মেঘা কে। না বলাই রয়ে গেলো তার কথা....................


চলবে......
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×