somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুই চাকার গল্প—গতি থেকে শুদ্ধতার এক নতুন যাত্রা!

২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০১৬ সাল। জীবনের প্রথম বাইক রানার ডায়াং বুলেট ১০০ সিসি হাতে আসা। সেই যে শুরু হলো বাতাসের বিপরীতে পথ চলা, তার নেশা আজও কাটেনি। প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটারের পথ চলায় এই বাইকটি ছিল আমার বিশ্বস্ত সঙ্গী। স্ত্রীকে পেছনে নিয়ে ঢাকা-খুলনা-ঢাকা কিংবা যমুনা সেতুর সেই লং ট্যুরগুলো আজও স্মৃতির পাতায় রঙিন হয়ে আছে। সেই বাইকটি ছিল শক্তিশালী, ছিল গতির উন্মাদনা।

কিন্তু জীবন সবসময় সোজা পথে চলে না। ২০২১ আর ২০২২—আমার রাইডিং জীবনের অন্ধকার দুটি বছর। পরপর দুটি বড় এক্সিডেন্ট আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল। সেই ট্রমা থেকে প্রিয় বাইকটিকে স্ক্র্যাপ হিসেবে দান করে দিয়ে ভেবেছিলাম, হয়তো দুই চাকার সাথে আমার সম্পর্ক এখানেই শেষ।

কিন্তু রক্তে যার অ্যাডভেঞ্চার, তাকে কি ঘরে আটকে রাখা যায়?

দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরলাম। তবে এবার ভিন্ন এক রূপে, ভিন্ন এক দর্শনে। গ্যারেজে এলো Honda Dream 110। রানার বুলেটের মতো অতটা শক্তিশালী না হলেও, এর স্মুথনেস আমাকে নতুন করে প্রেমে ফেলেছে। এখন আমার কাছে রাইডিং মানে কেবল গতি নয়, বরং রাইডিং মানে এক পরম প্রশান্তি।

আগে যেখানে খুঁজতাম পাওয়ার, এখন সেখানে খুঁজি ইঞ্জিনের মসৃণতা এবং জ্বালানি সাশ্রয়। বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, এই বাইকে আমি ৭০ কিমি/লিটার পর্যন্ত মাইলেজ পাচ্ছি! এখন প্রতিটি রাইড মানেই এক নতুন চ্যালেঞ্জ—কীভাবে বাইকটিকে আরও যত্নে রাখা যায়। সাপ্তাহিক চেইন লুব, এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা আর ভালো মানের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা এখন আমার নেশার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খুব শীঘ্রই আমার নতুন সঙ্গীকে নিয়ে আবার বের হবো। গন্তব্য—পদ্মা সেতু হয়ে সেই চিরচেনা খুলনা। ঝকঝকে এক্সপ্রেসওয়ে আর হোন্ডার স্মুথ রাইড—ভাবতেই এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ অনুভব করছি!

দুর্ঘটনা আমাদের থামিয়ে দিতে পারে না, বরং আমাদের আরও সচেতন হতে শেখায়। গতিতে নয়, রাইডিংয়ের আসল আনন্দ লুকিয়ে আছে ইঞ্জিনের গুঞ্জনে আর মাইলেজের নিখুঁত হিসেবে।

আবার দেখা হবে হাইওয়েতে! নিরাপদ রাইড করুন, অ্যাডভেঞ্চার উপভোগ করুন।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:০০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×