somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের স্বাধীনতার আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র (জর্জ হ্যারিসন)

১২ ই জুন, ২০১৪ সকাল ১১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এ দেশের মাটির বুকে বাংলার মুক্তিপাগল মুক্তিযোদ্ধারা যখন পাক সেনাবাহিনী ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত তখন আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটিতে সারা বিশ্বের সামনে বাংলাদেশ বাংলাদেশ বলে চিৎকার করে ওঠেন যে মানুষটি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র সেই মানুষটির নাম জর্জ হ্যারিসন।বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বর্বরতার বিরুদ্ধে সারা বিশ্বকে সচেতন করে দেওয়া এবং ভারতে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশি রিফিউজিদের ত্রানের ফান্ডের জন্য তিনি ও ভারতের সঙ্গীতজ্ঞ রবিশংকর যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করে একটি কনসার্টের।ঐতিহাসিক সেই কনসার্টের নাম ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।১লা আগষ্ট, ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এক দিনে সারা বিশ্বকে জানিয়ে দেয় বাংলাদেশের নাম।সেই ঐতিহাসিক কালের সাক্ষী হতে কনসার্টে উপস্থিত হয়েছিলেন ৪০,০০০ দর্শক।জর্জ হ্যারিসন, রবি শংকর, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রিস্টন, লিওন রাসেল, ব্যান্ড ব্যাডফিঙ্গার এর মতো বিখ্যাত গায়ক ও ব্যান্ড গান পরিবেশন করেন এই কনসার্টে।জর্জ হ্যারিসন পরিবেশন করেন তার বিখ্যাত গান ‘বাংলাদেশ’।

‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এর সরাসরি গানগুলো নিয়ে ১৯৭১ সালেই একটি বেস্টসেলিং লাইভ অ্যালবাম মুক্তি পায়।এই কনসার্টকে ভিত্তি করে ১৯৭২ সালের বসন্তে মুক্তি পায় একটি কনসার্ট ফিল্ম।এই বেনিফিট কনসার্টের মাধ্যমে আয় করা হয় ২৪৩,৪১৮.৫১ মার্কিন ডলার যা ইউনিসেফের মাধ্যমে বাংলাদেশে ত্রানকার্যে ব্যবহার করা হয়।হয়।১৯৭১ সালে জর্জ হ্যারিসনকে কেন তার মেধা এবং সময় ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এর জন্য ব্যায় করলেন এই প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দেন, “আমার এক বন্ধু আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো আমি সাহায্য করতে পারবো কিনা।”

মজার ব্যাপার হচ্ছে একাত্তর বা বাহাত্তরেই শেষ হয়ে যায়নি ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এর প্রভাব।।ঐতিহাসিক এই কনসার্টের ৪০ বছর পর ২৬শে জুলাই, ২০১১ সালে আই টিউনসের ব্যানারে ‘বাংলাদেশ’ গানটি সহ এই কনসার্টের অন্যান্য গানগুলো নিয়ে একটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়।উক্ত অ্যালবামে আরও সংযোজিত হয় ‘বাংলাদেশ’ গানটির একক স্টুডিও রেকর্ড।৩০শে জুলাই থেকে ১লা আগষ্ট পর্যন্ত ৭২ ঘন্টা ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এর একটি ফিচার ফিল্ম দুইটি ওয়েবসাইট http://www.georgeharrison.com এবং http://www.theconcertforbangladesh.com এ প্রচার করা হয়।‘জর্জ হ্যারিসন ফান্ড ফর ইউনিসেফ’ উক্ত অ্যালবাম এবং ফিচার ফিল্মের প্রকাশনা উপলক্ষ্যে একটি ‘মান্থ অফ গিভিং’ অনুদান প্রচারনার আয়োজন করে যেই ফান্ড দিয়ে আফ্রিকার দুর্গত অঞ্চলে জরুরী ত্রানকার্য পরিচালনা করা হয়।

এই মহান সঙ্গীতশিল্পী ১৯৪৩ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারী ইংল্যান্ডের লিভারপুলে জন্মগ্রহন করেন।তিনি একাধারে গায়ক, সঙ্গীত পরিচালক, লেখক, অভিনেতা এবং চলচ্চিত্র পরিচালক ছিলেন।তিনি গিটার, ইউক্যালিলি, হারমনিকা, ম্যান্ডলিন, কি-বোর্ড, বেহালা ও সেতারে পারদর্শী ছিলেন।১৯৫৮ সালে মিডিয়া জগতে তার বিচরন শুরু। দ্যা বিটলস, দ্যা কোয়ারিম্যান, ট্রাভেলিং উইলবারিস, ধানি হ্যারিসন, রবি শংকর ও এরিক ক্ল্যা্পটন এর মতো বিখ্যাত ব্যান্ড ও গায়কের সাথে তিনি কাজ করেন।দ্যা বিটলস ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট হিসেবে তিনি বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন করেন।বিটলসের বিখ্যাত গান ‘হিয়ার কামস দা সান’, ‘সামথিং’ ও ‘হোয়াইল মাই গিটার জেন্টলি হুইপ্স’ তিনি পরিচালনা করেন।১৯৬০ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের মরমিবাদ তাকে প্রচন্ড আকর্ষন করে।দ্যা বিটলস এর মাধ্যমে পুরো পশ্চিমা বিশ্বকে তিনি ভারতের বাদ্যযন্ত্র সেতারের সাথে পরিচিত করেন।দ্যা বিটলস ব্যান্ড ভেঙে যাবার পরে তিনি একজন সফল একক গায়ক হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেন এবং পরবর্তিতে ব্যান্ড ট্রাভেলিং উইলবারিস এর সদস্য হন।রোলিং স্টোন ম্যাগাজিনের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ১০০ গিটারিস্টের তালিকায় তার অবস্থান ১১ নাম্বারে। তার প্রথম স্ত্রী মডেল প্যাটি বয়েড এবং দ্বিতীয় স্ত্রী রেকর্ড কোম্পানী্র সেক্রেটারী অলিভিয়া ত্রিনিদাদ এরিয়াস যার গর্ভে জন্মগ্রহন করেন তার একমাত্র পুত্র সন্তান ধানি হ্যারিসন।১৯৮০ সালে তাঁর আত্নজীবনী ‘মি মাইন’ প্রকাশিত হয়।পৃথিবীর অমর মানুষদের তালিকায় স্বগর্বে নিজের নাম লিখিয়ে নিয়ে ২০০১ সালে এই মহান স্বপ্নদ্রষ্টা দুরারোগ্য লাংস ক্যান্সারে মৃত্যুবরন করেন।

তথ্যঃ http://www.wikipedia.org, http://www.jeorgeharrison.com এবং http://www.theconcertforbangladesh.com
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×