-------------------------
জীবনানন্দ পড়ি, জীবন আনন্দে মরি।
আট আর কুড়ি যোগে ক্ষু দ্র আঠাশ,
তবুও স্বপ্নে স্মৃতি, পাহেলী নিশ্বাস।
জীবন আনন্দ রোগী, জীবনানন্দে ভুগি।
সেদিন বছর কুড়ি আগে, দাদী আমি পাশে পাশ, বেহুঁশ
উদাস। চিরল সাঁঝেলা আলো, না দেখা তরল মিশে,
ভেসে ভেসে ভেসে আসে মাগরিব আজান।
দাদী বসে ঘোলা চোখে, একদিন প্রতিদিন
ভিন দেশে চীন দেশী বাদামের ঝাঁকা কাঁখে ফেরিওয়ালা
হাঁকে ডাকে। বাইরে দেয়াল পাশে, গাছে,
টক টক, তক্ষক, থেকে থেকে
প্রথম দেখেছি আমি তাকে। আবার বছর কুড়ি আগে।
সময় সময় যোগে, যোগায় সময়।
দিন নয়, আয়ু ক্ষয় হয়।
ছবি থাকে, দিনও থাকে কোথাও কোথাও
মানুষের ছায়া থেকে মানুষ উধাও।
আমার জানালা খুলে সবুজ বাগান। উঠানের বেড়ে যাওয়া ঝিমঝিম
ঘাসে ছোট্ট শরীর নিয়ে নরম রোদের নীচে বেড়াল ঘুমায়।
তবু হায়, আট বছরের পরে, আসে কাছে, আট বছর আগের একদিন
সেই বোধ, যে আমারে ভাল চেনে, আমি যারে পারি না এড়াতে
সে আমার হাত ধরে হাঁটে। ছয়লাপ জট ধরে,
সব স্মৃতি, বিস্মৃতি, স্বপ্ন, বাস্তব। সব রঙ মুছে গেলে
পান্ডুলিপি ফিরে আসে ঘরে। পাখিরাও,
নদীদের ঘর নাই কোন। বলি আমি 'হে নাবিক কবে ফিরবেন?'
কুড়ি বছরের পরে ধানসিঁড়ি নদী তীরে একা বসে বনলতা সেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




