somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: অনাহুত: 4র্থ পর্ব

১৮ ই জুলাই, ২০০৬ ভোর ৬:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আব্বা এলো অনেক রাত করে। ইদানিং প্রায়ই দেরী করে আসে। ভীষণ ক্লান্ত থাকে তখন। বেশীর ভাগ সময়েই আব্বার সাথে দেখা হয় না রাতে। তিতলি রণক দুজনেই ঘুমিয়ে থাকে তখন। তবে আজকের পরিবেশ আলাদা। কাল স্কুল ছুটি, আর মা ও বেশ ব্যস্তভাবে রান্না করছে তাই ওরা যে জেগে আছে এ নিয়ে কেউ মাথা ঘামায়নি।

আব্বা এসেই পাগলা হুজুরের কথা শুনলো। বেশ গম্ভীর দেখালো তাকে। এতক্ষণে তিতলি বুঝতে পেরেছে পাগলা হুজুর এ বাড়ীতে থাকুক এটা কারোই মনোঃপুত হচ্ছে না। আব্বা বসার ঘরে এলো।

- আসসালামুআলাইকুম। আমি আপনার শিক্ষক ছিলাম, আপনার বোধহয় স্মরণে নাই।

- ওয়ালাইকুম আস সালাম। মনে থাকবে না কেন? আপনি বসেন।

আব্বার সাথে একবার চিড়িয়াখানা দেখতে গিয়েছিল তিতলি। সেখানে আব্বার ইউনিভার্সিটির প্রফেসর হাবিব চাচার সাথে দেখা হয়েছিল । আব্বা তাঁকে পা ছুঁয়ে সালাম করেছিল। তিতলিকেও সালাম করতে বলেছিল। তিতলি ভেবেছিল হুজুরের বেলায়ও আব্বা তাই করবে। আর ইনি যেহেতু আরো অনেক বেশী বুড়ো, নিশ্চয়ই তাঁর সম্মানও বেশী। কিন্তু সে রকম কিছুই করলো না আব্বা। সোফায় বসে কথা বলতে লাগলো।

- এই বুঝি আপনার নাতি?

- জ্বী হঁ্যা বাবা।

- তুমি কোন ক্লাসে পড়?

কালাম কোন জবাব দিল না। মাথা নিচু করে সোফার হাতল খুঁটতে লাগলো। তিতলির বেশ রাগ হলো দেখে। বললো -

- এই তুমি ওরকম সোফার হাতল খুঁটছো কেন? ছিঁড়ে যাবে তো!

ছেলেটা ভয়ে ভয়ে হাত সরিয়ে নিল। তিতলি ভেবেছিল ওর কথা শুনবেনা ছেলেটা। যখন দেখলো একবার বলতেই শুনে ফেললো, ওর একটু মনটা খারাপই হলো এভাবে বকেছে বলে । সে কিছু না বলে চুপ করে রইল।

- কোথায় পড় বলবে না?

- কেলাস ফাইবে পড়ি।

- আচ্ছা খুব ভালো কথা। ঢাকা কেমন লাগছে তোমার?

- জে ভালো।

- আচ্ছা হুজুর। আপনারা বসেন । আমি আসছি। কিছু খেয়েছেন আপনারা?

- জি্ব বৌমা মাশাল্লা খুব বড় ঘরের মাইয়া। যত্ন কইরা খাওয়াইছে। আমি কোনদিন রেজালা খাই নাই। আইজকা খাইয়া বুঝতে পারছি এর এত নাম ডাক ক্যান।
খাসীর মাংসের রেজালা
খাইছি বইসা এক থালা

- আচ্ছা দেখি রাতের খাবারের কি বন্দোবস্ত হোল।

আব্বা উঠে এল। আব্বার পিছন পিছন তিতলিও। রান্নাঘরে মা খাবার সাজাচ্ছিল। দাদী সাহায্য করছিল মাকে। আর রেজা মামা বসে বসে গল্প করছিল। রণককে কিছুক্ষন আগেই ঘুম পাড়ানো হয়েছে।

তিতলি ঢুকতে ঢুকতে মামার হাসি শুনলো।

- আপা তোমার বাসা টা না একটা সরাইখানা।
- কি করবো বল। এভাবে কেউ চলে এলে তো আর না করতে পারি না।
-তুমি কোনদিনই না বলা শিখলে না। মনে আছে দুলাভাই মেজোভাইয়ের গায়ে হলুদের দিন কি হয়েছিল?

আব্বা মিটিমিটি হেসে বললো - মনে থাকবে না আবার! প্রথম প্রথম খুব বীরত্ব দেখিয়ে মানুষকে খাওয়াতে গেল। প্রথম ব্যাচেই সব খাবার শেষ। তখন বলে এবার তোমরা খাওয়াও। পরে চাইনিজ থেকে খাবার এনে মেহমান বিদায় দিতে হলো।

- এই তিতলি, যাতে হুজুরকে খেতে ডাক।

তিতলি ঘরে ঢুকে দেখে হুজুর খুব অবাক হয়ে টেলিভিশানের দিকে তাকিয়ে আছে।

- ওটা টেলিভিশান

- এইডাত ছবি দেহে?

- না। আল্লাহর দুনিয়াত কত কিছু দেখলাম। বড়ই তাজ্জব ব্যাপার।

- চলেন, খেতে চলেন । মা ডাকছে।

- একটু অজু করতে হইব।

- আসেন।

অজু করতে করতে হুজুর বললো -
- এইডার নাম মগ
এইডা দিয়া মুখ ধুইতে বড় ঢক।

তিতলি হেসে বললো

- ঢক মানে কি?

- ঢক মানে মজা
সন্দেশ আর গজা।

খেতে বসে কাবাব দেখে হুজুরের সে কি আহ্লাদ।

- খা কালাম। এইডা হইল নবাবী কাবাব। বাপের জন্মেও দেখস নাই।... আম্মা আল্লাহ আপনার ভালো করবে, আমি এত তৃপ্তি নিয়া কোনদিন খাই নাই।

মা শুধু একটু হাসলো আর খুব যত্ন করে হুজুরকে খাওয়ালো।

প্রকাশ: পরবাস
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×