দুঃখের খবরে ভারাক্রান্ত মুখ আবশ্যিক
নকল শোকের ভারে গম্ভীর তারা তবু
ব্যক্তিগত সুখ কিছু
(খবরের সাথে যারা সম্পৃক্ত না
আবার হতেও পারে, তবে তাহা অন্য ভাবনা)
ছলকায় পিছলায় হায় চোখের, ঠোঁটের কাছাকাছি।
টুটাফুটা যাবতীয় ব্যক্তি অনুভূতি
প্রসাধন স্তরে স্তরে চাপা পড়ে থাকে।
খবরের অনুভূতি নাই।
তবু দিগ্ভ্রান্ত শ্রোতৃকুল ব্যগ্র সদাই,
কোন পথে চরা হবে, সেইদিকে করা হোক
অঙ্গুলিনির্দেশ, তাই শোক নয়, লেশমাত্র
প্রস্ফুটিত নান্দনিক খাবরিক মুখে।
টিভির পর্দায় দেখি সুনামিতে, ভূমিকম্পে চাপা-খাওয়া লাশ
মার্কিন রাষ্ট্রপতির এই মর্মে সহৃদয় দুঃখ প্রকাশ
আমার বাগানে আহা বিকালের রোদে খেলে পাতারা বাতাসে
ফুলের সুবাস আসে ঘরে, টিভিতে দেখায় এক কঙ্কালপ্রায়
অর্ধনগ্ন কালো শিশু মাটি থেকে খুদ খুঁটে খায়,
আনমনা চায়ের কাপে দুঃখিত চুমুক দিতে দিতে, ভাবি
মানুষের কাছে যেতে হবে।
সেই রাতে স্বপ্ন দেখি আমি...
মেঘেদের গায়ে গায়ে বাঁধা আমার জানালা, সাত আসমানের কাছাকাছি
বিহ্বল সেখানে আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়েছি
নীচে পাতালের কাছে মাটির উপরে, চেয়ে চেয়ে আকাশের দিকে
মুখ করে, সারবাঁধা হাড্ডিসার ভুখা মানুষের ভিড় হাত পেতে আছে।
উদ্ভাসিত মুখে মম খবর পাঠিকা সম ভারাক্রান্ত দয়াদর্্র হাসি।
পেলব পাখায় চড়ে, নেমে আসি ধীরে ধীরে, মানুষের কাছে।
লুনা রুশদী: 03/01/2006
প্রকাশ: কালের খেয়া - সমকাল 03/03/06
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



