somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধকালীন বেতার : স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র

৩০ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ৩:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


1971 সালে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে কেবল মুক্তিবাহিনীর যোদ্ধারাই নয়, বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষই কোন না কোন ভাবে যুদ্ধ করেছে। বেতার কর্মীরাও তেমনি মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা বেতার কর্মীরা মুক্তিবাহিনী ও দেশবাসীর মনোবল দৃঢ় রাখতে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র থেকে গান, কথিকা, যুদ্ধের সংবাদ ইত্যাদি প্রচার করতেন। দেশবাসী রেডিও সেটের সামনে বসে মন্ত্রমুগ্ধের মতো তা উপভোগ করতো। তখন রেডিও শুনতে হতো লুকিয়ে, যাতে রাজাকার বা পাকিস্থানী বাহিনী জানতে না পারে। রেডিও সহজলভ্য ছিলনা বলে বহুমানুষ একসাথে বসে একটি রেডিও শুনতে হতো।

1971 সালের 25 মার্চ মধ্যরাতে পাক বাহিনী ঢাকা দখল করে নিলে রেডিও পাকিস্থান সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সেসময় চট্টগ্রামে অবস্থানরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ইপিআরের (ইস্ট পাকিস্থান রেজিমেন্ট) বাঙালি সদস্যরা চট্টগ্রাম শহর ও কালুরঘাটে অবস্থিত রেডিও পাকিস্থানের আঞ্চলিক কেন্দ্রটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এর নাম দেয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। এই বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের পক্ষে তার প্রেরিত স্বাধীনতার ঘোষণাটি 26 ও 27 মার্চ বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান ও মেজর জিয়াউর রহমান কয়েক দফায় প্রচার করেন। 26 মার্চ থেকে 29 মার্চপর্যন্ত এই বেতার কেন্দ্রটির অনুষ্ঠান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

30 মার্চ পাক বাহিনীর বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বেতার কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। 31 মার্চ এর ট্রানসমিশন ভবন থেকে 1 কিলোওয়াট ট্রানসমিটার বিচ্ছিন্ন করে প্রথমে পটিয়ায় ও পরে আগরতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। 3 এপ্রিল পুনরায় এর কার্যক্রম শুরু হয়।

ইতিমধ্যে ঢাকা সহ দেশের অন্যান্য আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সীমান্ত অতিক্রম করে এই কেন্দ্র চালু করেন এবং এর নাম রাখা হয় 'স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র'। এর কার্য্যালয় স্থাপিত হয় কলকাতার থিয়েটার রোডের একটি স্বল্প পরিসর বাড়িতে। এটি 1971 সালের 25 মে আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে।

মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস এই বেতার কেন্দ্র থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত হয়েছে নানা উদ্দীপনা মূলক অনুষ্ঠান। যেমন- চরমপত্র, অগি্নশিখা, রক্তস্বাক্ষর, বজ্রকন্ঠ, দর্পণ, জাগরণী, ঐকতান, ইংরেজী ও বাংলা খবর। এর মধ্যে চরমপত্র ছিল অত্যধিক জনপ্রিয়। এতে রণাঙ্গণে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ সাফল্য ও বিজয়ের খবর আঞ্চলিক ভাষায় বিশেষ ভঙ্গিতে প্রচার করা হতো এবং পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের খবর ব্যঙ্গ রসাত্মকভাবে প্রচার করা হতো। চরমপত্রের ভাষা এবং উচ্চারণ ভঙ্গি একদিকে শ্রোতাদের অফুরন্ত আনন্দ দিতো এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় মনোবল আরও শক্তিশালী করতো।

আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অবদান অনস্বীকার্য। এই বেতার কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট শিল্পী, সাহিত্যিক, বেতারকর্মী ও প্রকৌশলী মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যে ভূমিকা পালন করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তা এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়রূপে বিবেচিত এবং স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রগঠনে তাদের অবদান অতুলনীয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবীপ্রসাদ যাত্রা

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২১


আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। চট্টগ্রামের মোমিন রোডের রুচিশীল বই বিপণি কথাকলির বুকশেলফে চোখ বুলাচ্ছিলাম । হঠাৎ একখানি বইয়ের ওপর এসে থমকে গেল আমার চোখ । "ক্ষুদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×