লাওশে চা দোকান
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
চীনের একটি প্রবাদ আছে বেশ কয়েক কাপ সুন্দর মদ খেলেই বন্ধুতে পরিণত হওয়া যায় আর সেই সাথে এক কাপ সুগন্ধি চা খেলে মন হবে নেশায় মদির । চা সংস্কৃতি হচ্ছে চীনের সুউজ্জ্বল সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক সংস্কৃতির একটি অংশ । এখন তাহলে আমরা পেইচিংয়ের একটি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন চা দোকানে গিয়ে চীনের চা সংস্কৃতির কথা বন্ধুদের জানিয়ে দেই ।
পেইচিংয়ের সবচেয়ে বিখ্যাত চা দোকানের অন্যতম লাওশে চা দোকানটিতে অতিথিগণ আসার সঙ্গে সঙ্গেই চীনা পাঞ্জাবী এবং চীনা টুপি পরা পরিবেশকরা পেইচিংয়ের আঞ্চলিক ভাষায় আন্তরিকতার সঙ্গে অতিথিদের স্বাগতম বলে অভ্যর্থনা জানায় । অতিথিরা পেইচিং-এর চা দোকানের পরিবেশকদেরকে "সিয়াও'আর" বলে ডাকেন । লাওশে চা দোকানের নাম চীনের বিখ্যাত লেখক লাওশের সম্মানে তার নামে নামকরণ করা হয়েছে । ৪০ বছর আগে লাওশে চীনের নাট্য ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত নাটক --চা দোকান নাটকটি লিখছিলেন । এ নাটকের মধ্য দিয়ে সে কালের পেইচিং-এর সমাজিক অবস্থার পুঙ্খানু পুঙ্খভাবে ফুটে ওঠে । এর বহুদিন গত হয়ে গেছে । লাওশে'র নাটকে বর্ণনা অনুযায়ী সেই চা দোকান আর খুঁজে পাওয়া যায় না । তবে পেইচিং-এর লাওশে চা দোকানটিকে প্রাচীনকালের নাটকের মত করেই পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে । পর্যটকরা এখানে এলে এখন অনুভব করতে পারেন প্রাচীনকালের সুন্দর পরিবেশকে ।
প্রাচীনকালে পেইচিং-এর অধিবাসীদের সবচেয়ে জনপ্রিয় চা ছিল চামেলি চা । তা হল চামেলি ফুলের সুগন্ধ এবং সবুজ চা মিশিয়ে তৈরী এক ধরনের চা । এর রঙ পরিস্কার, সুগন্ধও খুব বেশি । আপনারা লাওশে চা দোকানে সেই ঐতিহ্যিক চামেলি চা খাওয়ার পাশাপাশি চা এবং ফুল দিয়ে তৈরী আর এক ধরনের বিশেষ চাও খেতে পারেন । পরিবেশকরা গ্লাসে গরম পানি নিয়ে তার মধ্যে সামান্য চা পাতা ছড়িয়ে দেন , সঙ্গে সঙ্গে চা পাতার ভেতর থাকা ফুলগুলো আস্তে আস্তে ফুটে উঠতে শুরু করে । খুব সুন্দর লাগে দেখতে । লাওশে চা দোকানের পরিচালক ইউ চিং বলেছেন, এ ধরনের চা হচ্ছে তাদের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন চা, যা বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরী করা হয়ে থাকে ।
সাধারণত আমরা ১৬০টিরও বেশি ছোট চা পাতাকে সরু সুতো দিয়ে নানা ধরনের টাটকা ফুলের সঙ্গে বেধে নিই। এর মধ্যে রয়েছে চামেলি , ক্যামেলিয়া এবং লিলি ফুল । নিয়মিতভাবে এই ফুলের চা খেলে তা শরীরের সুস্থতা বজায় রাখাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে । বিশেষ করে নারীদের জন্য নানা ধরনের ফুল চামড়ার সৌন্দর্য্যকে মসৃণ ও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে । এখানে অতিথীরা চা খাওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করতে পারেন । প্রতিদিনই এখানে অনেক চমত্কার অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয় । যেমন চীনা অপেরা, দড়াবাজি, ছায়া পুতুল দ্বারা অভিনীত নাটক এবং চীনা কুংফু । অনুষ্ঠান দেখা ও চা পানের সময় আপনারা অবশ্যই চা দোকানের পরিবেশকদের বিশেষ কুংফু দেখে নেবেন । অন্যান্য চা দোকানের চেয়ে এ দোকানের পরিবেশকদের হাতের তাম্র চা পাত্রের মুখটি প্রায় ১ মিটার লম্বা । তারা সহজেই এ চা পাত্রের গরম পানি ভরে নিয়ে তা অতিথিদের পরিবেশন করে থাকে ।
পরিবেশক স্যু তা ওয়েই বলেছেন, তা হচ্ছে প্রাচীনকালে পেইচিং-এর চা দোকানের ঐতিহ্য, এ ধরনের চা-এর পাত্রগুলো ভালভাবেই পানির তাপমাত্রা বজায় রাখতে পারে । লম্বা মুখওয়ালা চা পাত্র সাধারণত :গ্রীন টি মানে সবুজ চা খাওয়ার জন্যে ব্যবহার করা হয় । কারণ চা পাত্রে থাকা পানির তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড আর গ্রীন টি প্রস্তুতের জন্য তাপমাত্রা থাকতে হবে ৮০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড ।৯০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডের গরম পানি ১ মিটার লম্বা মুখের চা পাত্র থেকে কাপে ঢালার পর, পানির তাপমাত্রা সঠিকভাবে ৮০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড হবে । এভাবে তৈরী চা আরো সুস্বাদু লাগে ।
লম্বা মুখের চা পাত্র ছাড়া বড় পেয়ালার চা হচ্ছে প্রাচীনকালে পেইচিংয়ের চা দোকানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ । বড় পেয়ালা চা হল বড় পেয়ালায় রাখা এক ধরনের সস্তা চা । লাওশে চা দোকান হচ্ছে বর্তমানে পেইচিংয়ের একমাত্রা বড় পেয়ালায় চা বিক্রি করা চা দোকান । জানা গেছে, লাওশে চা দোকানের প্রতিষ্ঠাতা ইন শেং সি সর্বপ্রথম ২ সেন্ট দামে বড় পেয়ালায় চা বিক্রির জন্য চা দোকানটি প্রতিষ্ঠা করেন । যদিও এ ধরনের বড় পেয়ালার চা-এ কোনো মুনাফা নেই, কিন্তু ইতিহাস মনে রাখার জন্য লাওশে চা দোকানে অব্যাহতভাবে এ ধরনের চা বিক্রি করেন এবং এর দাম মাত্র ২ সেন্ট ।
সূত্র: চীন আন্তর্জাতিক বেতার
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে ফিরে আসো

সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?
আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন
“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।
দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।
ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন
মঞ্জুর চৌধুরীর ছোট গল্প "নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি"
নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি
মঞ্জুর চৌধুরী
নীরা কথাটা বিশ্বাস করতে পারছে না। তাঁর স্বামী আরমানের আরেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল? এই আরমান কিনা সবসময়ে আবৃত্তি করতো "এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ, আমি কি... ...বাকিটুকু পড়ুন
গল্পঃ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী

আমাদের সেই পুরনো ভিটেটার অস্তিত্ব এখন আর নেই। তবে বুকের গহীনে ভিটেমাটির মায়াটুকু ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। কত স্মৃতি, কত গান, কত গল্প-কোলাহল, মান- অভিমান ! চাইলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।