somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবিতা অনুবাদঃ শবাধারের গান— জন কিটস

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তুমি
তুমি এখনো নিস্তব্ধতার সেই অক্ষত নববধূ,
তুমি মৌনতা আর ধীর সময়ের পালক সন্তান।
তুমি ইতিহাসবেত্তা, তোমার গায়ে অরন্যের ইতিহাসের
নিখুদ খোঁদাই। তুমি সেই ইতিহাসবিদ,
যে পুস্পময় ভ্রমণের কথা আমার মিত্রাক্ষর কবিতার চেয়ে
মিষ্টি করে প্রকাশ করতে পারেনা।
তবু তোমার গায়েই আমি হাজার বছরের
ইতিহাস পড়ি। কত গল্পে ভঁরা চিত্রকল্পে খচিত
তোমার ঐ শরীর! কে ঐ পাতার আগায় বারবার
ফিরে আসা কিংবদন্তী, জানতে চায় তোমার চিত্রকল্পকে?
পল্লী স্বর্গের উপত্যকায় ঐসব আকৃতিগুলো কি মানুষের নাকি ঈশ্বরের?
নাকি উভয়ের? তাঁরা কেমন মানুষ আর ঈশ্বর?
কুমারীরা কেন এত বিতৃষ্ণ? কিসের এত ছুটাছুটি?
কিসের বাঁশি আর খঞ্জনী বাজে? কিসের এত অদম্য আনন্দোচ্ছাস?

যে সুর শোনা যায় তা মধুর,
কিন্তু সে সুর অশ্রুত তা যে আরও মধুর!
অতএব তুমি বাজাও, তুমি বাজাও তোমার বাঁশীর নরম সুর,
যে সুর আমার রক্ত-মাংসের কানে নয়, বাজবে আত্মার কানে।
যে সুরের তাল নেই, লয় নেই, আওয়াজও নেই।
যৌবন বসে আছে ঐ গাছের নিচে,
তুমি তো পারবেনা তোমার সুর থামাতে, না পারবে গাছটাকে ছাড়তে।
সাহসী প্রেমিকাটিও কখনো, কক্ষনও পারবেনা তোমাকে চুমু খেতে,
যদিও সে লক্ষ্যের অতি নিকটে, দুঃখ করনা। কারন
সে তো আর চলে যাচ্ছেনা, যেতে পারেও না। যদিও তুমি
আশীর্বাদপুষ্ট নও। তবু তোমার ভালোবাসা টিকে থাকবে চিরকাল,
টিকে থাকবে তোমার প্রেমিকা।

আহ! গাছের ডালে সুখের নৃত্য! এই গাছের পাতা ঝরার নয়,
এই বসন্ত অন্তহীন। তুমি সুখি গায়ক, অপরিশ্রান্ত! বাজছে অন্তহীন
নতুন সুর। আহ! সুখের ভালোবাসা, ভালবাসার সুখ!
আবিরাম ঊর্ধ্বশ্বাস, চির তরুণ। সকল মনুষ্য আবেগের ঊর্ধ্বে।
এতে হৃদয় ভঁরে যায় বিষাদে, বিতৃষ্ণায়।
যেন পোড়া কপাল, মরুর বুকে তৃষ্ণায় ঝলসানো জিহ্বা।


কারা আসছে ঐ বলির অনুষ্ঠানে? ঐ যাজক কি নতশিরের গরুটা নিয়ে আসছে
কোরবানি দিতে? প্রাণীটা কি জানে সে একটু পরেই বলি হতে যাচ্ছে?
কি এই নদীর পাঁড়ের জনশূন্য শহর? শহরের সবাই কি সেই বলির অনুষ্ঠানে গেছে?
তোমার এই শহর, এই রাস্তা, চির নীরবতায় ডুবে থাকবে। কে করবে এই শহরের গল্প?
কেন তোমার চিত্রকল্প জনশূন্য হয়, তাঁরা আর ফিরে আসতে পারেনা?


আহ! তোমার চিত্রকল্পের সেই চিলাকৃতি, কুমারীর ছড়াছড়ি,
অরন্য শাখা, নিষ্পিষ্ট গাঁজা। তুমি নিরব রও আমাকে অনন্ত
চিন্তার সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে। যখন এই প্রজন্ম নষ্ট হয়ে বুড়ো হয়ে যাবে,
তখনও তুমি দুর্ভাগ্যে ঠায় দাড়িয়ে রবে, চির তরুণ।
তারপর তুমি ইতিহাস বলবে, অন্য কোন বন্ধুকে, অন্য কোন পুরুষকে।
পৃথিবীতে তুমি যা জানো এবং একমাত্র যে কথাটি জানা প্রয়োজন—
“সুন্দরই সত্য, সত্যই সুন্দর”।

১০/০২/২০১৬

মুলঃ ওউড অন অ্যা গ্রেইশান আর্ন
লিংকঃ http://www.poetryfoundation.org/poem/173742
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৫৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×