somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভি মি. নোবডিঃ বিজ্ঞান, দর্শন আর আধ্যাত্মিকতার এক জটিল সমীকরণ

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কেমন হইব যদি বুঝতে পারেন আপনার সব অপূর্ণ স্বপ্ন, আশা, ইচ্ছা-আখাঙ্কা, স্বাদ-আহ্লাদ অতীতে পূরণ হইছে, এখনো হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হইব? যদিও সময়ের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের ভাগাভাগিটা একটা ইল্যুশন মাত্র। তবে সেইটা অন্য আলোচনা। ধরেন আপনি বুঝলেন যে আপনি শুধু ঘর নামক এক ছোট্ট খাঁচায় একটা মিজারেবল লিটল শীটি লাইফ লিড করার সেই সাধারন মানুষটা না।আপনি একি সময়ে অনেক জায়গায় বিচরন করেন, একি সাথে অনেক গুলা জীবন অতিবাহিত করতেছেন। আপনি একি সময়ে মৃত আবার জীবিতও। আপনি সেই ব্যাক্তি যেইটা আপনি হইতে চাইছিলেন, একি সময়ে আপনি সেই ব্যাক্তি যেইটা আপনি হইতে চান নাই। কিন্তু দুঃখের বিষয় হইল যেইটা আপনি হইতে চান নাই শুধু সেই ব্যাক্তিটারেই আপনি ফিল করেন, অন্যটা না। কেন এমনডা হয়? এইসব প্রশ্ন বা কথাবার্তা পাগলের প্রলাপ মনে হইলেও বিজ্ঞান ঠিকি এইসব নিয়া চিন্তা করে আর মাথা খাওজায়। কোয়ান্টাম ফিজিক্সের একটা এক্সপেরিমেন্টে দেখা যায়, যখন কোন পার্টিকেলকে শুট করা হয় তখন এইটা মানুষের চোখের দৃষ্টির উপর ভিত্তি কইরা ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করে। যখন কেউ তাকাইয়া থাকে তখন নরমাল আচরণ করে, কিন্তু না তাকাইলে এইটা একি সময়ে অসংখ্য কপি হইয়া সকল সম্ভাব্য রাস্তা দিয়া গমন করে যা আপনার একি সময়ে অনেক গুলা জীবন অতিবাহিত করার ব্যাপারটাকে সাপোর্ট করে, যদিও আপনার জীবনের বিষয়ডা এখনো প্রমাণ হয় নাই। বিজ্ঞানী শ্রডিঞ্জার একটা বিলাই নিয়া এক্সপেরিমেন্ট কইরা দেখাইছিল যে বিলাইডা একি সময়ে মৃত ও জীবিত দুইটাই। এই থিওরিটারে বলা হয় “শ্রডিঞ্জারস ক্যাট”। তাছাড়া জাপানী বিজ্ঞানী মিশিও কাকুর স্ট্রিং থিওরি আর প্যারালাল ইউনিভার্সের আইডিয়া উপরোক্ত প্রশ্ন গুলারে আরও শক্ত কইরা দেয়।

আসেন এইবার মুভিতে যাই। মুভির নাম মি. নোবডি হওয়ার কারন মুভির কেন্দ্রীয় চরিত্রটা আপনি নিজেই আর আপনি আসলে কেউ না। আপানারে মানুষ যেই নামে ডাকে সেইটা আপনার আসল নাম না, আপনার আসল নাম হইল মি. নোবডি। যেহেতু আপনি কেউনা তারমানে আপনি সবকিছু। তাই উপরোক্ত পাগলের প্রলাপের মত কথাবার্তার সবগুলাই আপনার জীবনে ঘইটা থাকে। ভাবতাছেন এইগুলা উল্টা পাল্টা কি কইতাছি? মুভিটা দেইখা এইসব কথা বার্তা গুলা মিলাইয়া লওয়ার ভার আপনার উপর বর্তাইল। মুভির প্লটটা অত্যন্ত জটিল। কারন পুরা সাবজেক্ট ম্যাটারটাই জটিলতর। তবে বিষয়ডা একি সাথে অনেক মজার আর থ্রিলিংও বটে। মুভিতে দেখায় কিভাবে একজন মানুষ অনেকগুলা পসিবল লাইফ একি সাথে লিড করে। মুভিতে আপনি স্ট্রিং থিওরির এপ্লিকেশন খুইজা পাইবেন। পাইবেন জটিল দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক জীবন তত্ত্ব। দেখবেন অসাধারন সিনেমাটোগ্রাফি। মুভিটা পালটাইয়া দিতে পারে আপনার কনভেনশনাল জীবন দর্শন।আপনারে নিয়া যাইতে পারে জীবনেরও পেছনে আরেক জীবনে। মুভিটা শুরু হয় একটা ছোট্ট পোলার বাপের সাথে থাকবো না মায়ের সাথে থাকব এইরকম দ্বিধান্বিত চয়েস মেকিং এর কনফিউশন নিয়া। পরে দেখা যায় পোলাডা এট দ্যা সেইম টাইম বাপের লগে ও মায়ের লগে দুই জায়গাতেই থাকে। এইখানে দার্শনিক এপ্লিকেশনটা হইল আমাদের জীবনের চয়েস মেকিং নিয়া। আমাদের জীবন প্রায় সময়ই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয় যা আমাদের জীবনের কোর্স পালটাইয়া দেয়। এইসব মোড় নেয়ার মুহূর্ত গুলাতে আমরা চয়েস মেকিং করতে গিয়া কঠিন দ্বিধার মইধ্যে পরি। শেষমেশ একটা ডিসিশান নিয়া নেই। কিন্তু এই ডিসিশানটারে নিয়া সারা জীবন রিগ্রেট করি। ভাবি, যদি অন্যভাবে নিতাম তাইলে তো অন্য রকম হইত। আহারে কেন নিলাম না! মুভিটা এই আফসোসটারে আপনার জীবন থাইকা দূর কইরা দেওয়ার চেষ্টা করছে। মুভির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চুম্বকীয় ডায়লগ হইল, “Every path is the right path. Everything could've been anything else. And it would have just as much meaning.” অর্থাৎ জীবনে সঠিক পথ ভার্সেস বেঠিক পথ বলে কিছু নাই। সব পথই সঠিক। আপনি জীবনে কোন পথে গেলেন সেইটা ব্যাপার না। আধ্যাত্মিকতা এইখানে বলে, পথটা ব্যাপার না, ব্যাপার হইল আপনি যেই পথে গেছেন সেই পথ উপভোগ করছেন কিনা, উপলব্ধি করছেন কিনা জীবনের গভীরতাকে। সবকিছুই যেকোন কিছু হইতে পারত। এবং জীবন যেদিকেই যায় তা সমান অর্থ ও গুরুত্ব বহন করে। সুতরাং আপনার বর্তমান জীবন নিয়া আফসোস করার কিছু নাই। জীবনের পথে হাঁটেন, হাসেন আর মাঝে মাঝে জিরান। উপভোগ করেন জীবনকে। কিন্তু কর্পোরেশণের কথায় দৌড়াইয়েন না। তাইলে হাপাইয়া পরবেন।

মুভির নন লিনিয়ার স্টোরি লাইন আপনার মেজাজ গরম কইরা দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে একটু ক্লোজলি দেখেলেই বুঝবেন পুরা স্টোরিটা কতটা টুইসটেড আর মজার। দর্শন, আধ্যাত্মিকতা আর সাইন্স এই তিনটা জিনিসের স্বাদ পাইবেন এই মুভিতে। অভিনয় শিল্পী গুলার অভিনয় দেইখা মুগ্ধ না হইয়া পারবেন না। পরিচালকরে স্যালুট এইরকম একটা মুভি বানানোর লাইগা।

আমার রেটিং ১০
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:১৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×