somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৯)

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৯১ নবাবপুর রোডে আওয়ামী লীগের অফিসে দলীয় কর্মীদের সভা চলছে। প্রধান বক্তা স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তখন এখানেই অফিস নিয়েছিলেন। চারদিন আগেই তিনি পাকিস্তানের কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরেছেন । এর মধ্যে তিনি প্রধাণমন্ত্রী হিসেবে শপথও নিয়ে ফেলেছেন। স্বাধীন দেশ পাওয়ার আনন্দে আর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে টগবগ করে ফুটছে আওয়ামী লীগের কর্মীরা। তিনি বক্তব্য শুরু করলেন, এক পর্যায়ে তাঁর বক্তব্যে দলীয় কর্মীদের প্রতিশোধ গ্রহণের পথ পরিহার করার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, 'দালালদেরকে অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দেয়া হবে ।
দুদিন আগে ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করার পরেও তিনি গণহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়া যাবে না বলে মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন: রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের কাহিনী আমরা শুনেছি। তবু বাংলার মানুষ এত নিচে নামবে না, বরং যা মানবিক তাই করবে। তবে অপরাধীদের আইনানুযায়ী অবশ্যই বিচার হবে।
একাত্তরের ঘাতক ও দালালদের বিরুদ্ধে চরম প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য অনেকেই উত্তেজিত হয়ে ছিল। এমনকি দালালদের বিরুদ্ধে চরম প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায় থেকেও ঘন ঘন দাবি উত্থাপিত হতে থাকে। সে কারণেই শেখ মুজিব প্রতিশোধ গ্রহণের পথ থেকে সরে আসার জন্য দলীয় কর্মীদের নিরস্ত্র করতে চেয়েছিলেন ।
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রেসিডেন্ট ও সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য সদস্য ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যাযজ্ঞকে নজীরবিহীন বর্বরতা বলে উল্লেখ করে এর বিচারের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা জেনেভা কনভেনশনের সুবিধা পাওয়ার অধিকার হারিয়েছে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
তবে অবাক-বিস্ময় হচ্ছে, স্বাধীনতাবিরোধী বলে কুখ্যাত খুনি-দালালদের জনরোষ থেকে বাঁচানোর জন্য আওয়ামী লীগ সরকার ১৬ ডিসেম্বর থেকেই প্রচেষ্টা চালানো শুরু করে। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল থেকে কুখ্যাত খুনি এবং দালালদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়ায় জেলখানা। কুখ্যাত দালালদের কাছ থেকে সে সময় আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে ১১ হাজার লিখিত আবেদন পড়েছিল, তাদেরকে জেলখানায় সরিয়ে নেয়ার জন্য। এদের বিচারের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকার কালক্ষেপণ নীতি গ্রহণ করে।'
দেশে ফিরে আসার চার দিনের মাথায় আওয়ামী লীগ অফিসে তিনি দলীয় কর্মীদের প্রতিশোধ গ্রহণের পথ পরিহার করার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, 'দালালদেরকে অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে ।
২৬ এপ্রিল তিনি ভারতের ‘স্টেট্সম্যান' পত্রিকার সাংবাদিক কুলদীপ নায়ারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন: যারা গণহত্যা করেছে তাদের রেহাই দেয়া যায় না। এরা আমার ত্রিশ লাখ লোককে হত্যা করেছে। এদের ক্ষমা করলে ভবিষ্যৎ 
বংশধর এবং বিশ্বসমাজ আমাদের ক্ষমা করবে না।

বিভিন্ন মহল থেকে দালালদের বিচারের জন্য সংক্ষিপ্ত আদালতের দাবি ছিল। কিন্তু সেই দাবিকে উপেক্ষা করে ২৪ জানুয়ারি জারি করা হয় 'বাংলাদেশ দালাল (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ ১৯৭২'। এই আইনবলে যে সমস্ত কারণে ব্যক্তিবিশেষকে দালাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয় সেগুলো হলো- হানাদার বাহিনীকে সহায়তা-সমর্থন, বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া অথবা পাক হানাদার বাহিনীকে বাংলাদেশে তাদের অবৈধ অবস্থান সুদৃঢ়করণে সহায়তা করতে দেশের ভেতরে বা বাইরে অপপ্রচার চালানো কিংবা হানাদার বাহিনীর কোনো প্রতিনিধিদলে প্রতিনিধিত্ব করা বা উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ।
দালালদের বিচারের জন্য এই আইনে দুই বছরের জেল থেকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শান্তির বিধান রাখা হয়। এই আদেশ অনুযায়ী আসামির ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করার অধিকার থাকলেও ফরিয়াদীকে ট্রাইব্যুনালের বিচার্য অপরাধের জন্য অন্য কোনো আদালতে বিচার প্রার্থনার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়।
অদ্ভুতভাবে এই আইনে বলা হয়েছিল, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) যদি কোনো অপরাধ'কে অপরাধ না বলেন, তবে অন্য কারো কথা বিশ্বাস করা হবে না, অন্য কারো অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার হবে না ট্রাইব্যুনালে, অন্য কোনো আদালতেও মামলা দায়ের করা যাবে না। উল্লেখ্য, ওসিকে তুষ্ট করার মতো দালালদের আত্মীয়-স্বজনের আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল। থানার ওসিকে তুষ্ট করেই স্বচ্ছল দালালেরা বিচার থেকে মুক্তি পেয়ে যায়।
কিছুটা অসুবিধা এবং ভুল হবার সম্ভাবনা থাকলেও একটু উদ্যোগী হলে কারা কারা হানাদার বাহিনীর সক্রিয় সমর্থক ছিল, তখন তা বের করা সম্ভব ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, এ ব্যাপারটি খুব পরিচ্ছন্নভাবে করা সম্ভব হয়নি এবং গুজব ও ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছেন অনেকেই। অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় যে, এই সমস্যাটি নির্ভুলভাবে মোকাবিলা করা হয়নি এবং মিথ্যা অভিযোগের শিকার কাউকে কাউকে হতে হয়েছে।
২৮ মার্চ দালাল আইনে বিচারের জন্য সারা দেশে সমস্ত জেলায় মোট ৭৩টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। এপ্রিল মাস থেকে দালাল আইনের বিচারকাজ শুরু হয়।

ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে যে মামলার ট্রায়াল শুরু করেছিলেন, সেই মামলায় শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে সাক্ষী ছিলেন করাচির ‘ডন' পত্রিকার ঢাকার প্রতিনিধি মাহবুবুল আলম। শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে মাহবুবুল আলমকে প্রেস সেক্রেটারি নিযুক্ত করেন।
'৭১ সালে ঢাকার এপিপি অফিসের জেনারেল ম্যানেজার আবুল হাশিম ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের জনসংযোগ অফিসার। সিএসপি রফিকুল্লাহ ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সেক্রেটারি।
কুখ্যাত খুনি জেনারেল টিক্কা খানের পিএস অনু ইসলাম চাকরি পান গণভবনে। ]মোনায়েম খানের এডিসি ব্রিগেডিয়ার মশরুলকে শেখ মুজিব নিজের এডিসি পদে নিয়োগ দেন।
পাকিস্তান আমলে তাজউদ্দীন আহমদের ওপর নজরদারির জন্য একটি টিম ছিল ‘৩০৩' নামে। ওই ৩০৩ টিমের সদস্য সিএসপি মতিউল ইসলামকে বসানো হয়েছিল অর্থসচিব পদে।১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ধ্বংসলীলার সময় ঢাকা সিটির পুলিশের এসপি হিসেবে পাকিস্তান সরকারের চাকরি করেছেন ই এ চৌধুরী। স্বাধীনতার পর তিনি প্রমোশন পেয়ে ডিআইজি হন এবং গোয়েন্দা বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

আগরতলা মামলার মিথ্যা সাক্ষী তৈরি করেছিলেন পুলিশ অফিসার এ বি এস সফদর। স্বাধীনতার পর তিনি কিছুদিন জেলে ছিলেন। বিশেষ তদবিরে মুক্তি পেয়ে তিনি হয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর গোয়েন্দা প্রধান ।লে. কর্নেল এ কে এম রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সরবরাহ বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্নেল রহমানের অবদান ছিল অনেক। তখন তিনি পাকিস্তান আর্মির সামরিক আদালত ১-এর বিচারক ছিলেন।মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার বাহিনীর উপ-প্রধান ছিলেন লে. কর্নেল ফিরোজ সালাহ্উদ্দিন, যিনি রাজাকার বাহিনীর চীফ রিক্রুটিং অফিসার ছিলেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে নিযুক্ত হলেন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব পদে।

শেখ মুজিব সরকারের সেনাপুলিশের প্রধান হয়েছিলেন ক্যাপ্টেন হাকিম। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তান আর্মির ৩১ ফিল্ড রেজিমেন্টের ট্রানজিট ক্যাপ্টেন হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অপারেশন পরিচালনা করেন। আখাউড়া, তেলিয়াপাড়া এলাকার অনেক মুক্তিযোদ্ধা তার অপারেশনে শহিদ হয়েছেন।মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান আর্মির গোলাবারুদ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা পাকিস্তান আর্মির অর্ডিন্যান্স কোরের অফিসার লে. মোদাব্বের ও লে. ফরিদ স্বাধীন বাংলাদেশের পুলিশ বিভাগে উচ্চপদ লাভ করেন।
এয়ার কমোডর আমিনুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর ঢাকার প্রধান ছিলেন। স্বাধীনতার পর শেখ মুজিব সরকারের প্রশাসনে তিনি হলেন সশস্ত্র বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান।
হানাদার বাহিনীর বহু সক্রিয় দালালও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব পেল। অন্যদিকে বহু নির্দোষ ব্যক্তিকেও ক্ষমতাসীনদের ব্যক্তিগত রোষানলে পড়ে সর্বস্ব হারাতে হয়েছিল। এমনকি যে কোর্টে দালালির অভিযোগে রাজাকার, আল-বদরদের বিচার ও দণ্ডাদেশ প্রদান করা হতো সে কোর্টের হাকিম নিয়োজিত হয়েছিলেন রাজাকার সর্দার।
৩০ নভেম্বর ১৯৭৩-এ তথাকথিত সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আগে ৩১ অক্টোবর ১৯৭৩ পর্যন্ত দালাল অধ্যাদেশে অভিযুক্ত মোট ৩৭ হাজার ৪ শত ৭১ জনের মধ্যে ২ হাজার ৮ শত ৪৮ জনের মামলার নিষ্পত্তি হয়েছিল। এরমধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিল ৭ শত ৫২ জন, বাকি ২ হাজার ৯৬ জন বেকসুর খালাস পেয়ে যায়। প্রথম মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় মাত্র একজন রাজাকারকে। সেই রাজাকারের নাম চিকন আলী। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টে আপিল করে চিকন আলী।(১০) ৮ বছর ৪ মাস জেল খেটে মুক্তিলাভ করে। (১১) ১৯৭৫ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত দালাল আইনে ৭৫২ জনের সাজা হয়। তাদের মধ্যে ১৫, মতান্তরে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। ১২
এই দালাল আইনে রাষ্ট্রের হাতে যে বিপুল ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল, তার অপব্যবহার করে বহু আওয়ামী লীগ কর্মী বেপরোয়াভাবে অত্যাচার-নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেলে মেতে ওঠেন। তারাই এই আইন নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করেনবিধায় অনেক সত্যিকারের দালাল ঘুষ কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয়ের বদৌলতে আইনের নাগাল এড়িয়ে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এদের একটি বিশেষ অংশ আওয়ামী লীগ কর্মীদের সহায়তায় গা-ঢাকা দিতে সক্ষম হয়। ফলে এই আইনের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ এবং সন্দেহ দানা বেঁধে ওঠে।
তবে দালালদের বিচার যে সহজ হবে না, তা ড. আনিসুজ্জামানের সাথে তাজউদ্দীন আহমদের আলাপে বোঝা যায়। যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি প্রসঙ্গে তাজউদ্দীন আহমদ তাকে বলেন: চেষ্টার ত্রুটি হবে না, তবে কাজটি সহজও হবে না। তিনি বলেন: মার্কিনিদের চাপ আছে। তারা পাকিস্তানকে চাপ দিচ্ছে শেখ মুজিবকে ছেড়ে দিতে, ভারতকে চাপ দিচ্ছে যুদ্ধবন্দিদের ছেড়ে দিয়ে উপমহাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তুলতে। এছাড়া যুদ্ধবন্দিদের বিচার বিষয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন ইচ্ছুক নয়, ভারতও উৎসাহী নয় । এ অবস্থায় কার জোরে আপনি বিচার করবেন? আর মূল অপরাধীদের বিচার না করতে পারলে তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের বিচারের প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে যেতে বাধ্য। ১৩
পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খান বলেন, জাতি পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের সমাধান না করে সরকার সারা দেশে দালাল এবং কল্পিত শত্রুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যস্ত হয়েছেন। মনে হচ্ছে, এটাই যেন সরকারের সবচেয়ে প্রধান কর্তব্য । তিনি জাতির জন্য জরুরি সেই মুহূর্তে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার সুপারিশ করেন। তিনি দুঃখ করে বলেন, ১৯৭১ সালের আগে যারা বেপরোয়াভাবে বাংলাদেশ আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন তাদের অনেকে সরকারের উচ্চপদে আসীন হয়েছেন। অথচ মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন থাকা সত্ত্বেও যারা পাকবাহিনীকে সমর্থন দান করতে বাধ্য হয়েছিলেন, তাদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অনেকে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই আইন জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে ফেলেছে এবং এই আইনের মাধ্যমে বিচার একটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে । ১৪
দালালদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা লাভ করে রাজনৈতিক নেতারা খুব সহজেই ঘুষ ও দুর্নীতিতে আসক্ত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে এই পরিস্থিতি এমন এক স্তর পর্যন্ত উপনীত হয় যে, ধর্মপ্রাণ সরল মুসলমানদেরও এই পরিস্থিতির খপ্পরে ফেলে হয়রানি-প্রতারণা করা হয়। ফলে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ  মানুষের মধ্যে এমন একটা ধারণা বদ্ধমূল হয়ে পড়ে যে, "হিন্দু ভারতের'উস্কানীতেই এ সমস্ত কাজ চালানো হচ্ছে। ১৫

২০১৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুরনো নথি পর্যালোচনা করে প্রথম ধাপে ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই তালিকা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে অবমুক্ত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, 'যারা ৭১ সালে রাজাকার, আল-বদর, আল-শাম্‌স্‌ বা স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং যেসব পুরনো নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত ছিল, সেটুকু প্রকাশ করা হয়েছে।১৬
এই তালিকায় বিস্ময়করভাবে মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌসুলি গোলাম আরিফ টিপুর নাম প্রকাশিত হয়। বরিশালের বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ নেতা ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীর বাবা ও ঠাকুরমার (বাবার মা) নাম রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী বলেন, একদিকে তার বাবা অ্যাডভোকেট তপন কুমার চক্রবর্ত্তীর নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকার গেজেটে ৪১১৩ পৃষ্ঠায় ১১২ নম্বরে রয়েছে; অন্যদিকে নতুন প্রকাশ করা রাজাকার তালিকাতেও নাম উঠেছে তার। মনীষার ঠাকুরদা (বাবার বাবা) অ্যাডভোকেট সুধীর কুমার চক্রবর্তীর নামও রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায়। কিন্তু সুধীর কুমারের স্ত্রী অর্থাৎ মনীষার ঠাকুরমা (বাবার মা) ঊষা রানী চক্রবর্ত্তীর নাম স্থান পেয়েছে রাজাকার তালিকায় ১৭
‘এই তালিকায় রাজনৈতিক পরিচয়ে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৫২ জনকে। যদিও এই তালিকায় কিছু খ্যাতনামা জামায়াতে ইসলামী নেতার নামের পাশে দলীয় পরিচয় দেয়া ছিল না।'১৮


সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:২৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=একটি জোনাক প্রহর দেবে আমায়=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৮


গাঁয়ের বাড়ি মধ্যরাতে
জোনাক নাকি বেড়ায় উড়ে,
ঝিঁঝি নাকি নাকি সুরে
ডাকে দূরে বহুদূরে?

মধ্যরাতের নীল আকাশে
জ্বলে নাকি চাঁদের আলো!
রাতে নাকি নিরিবিলি
বসে থাকলে লাগে ভালো?

শিয়াল ডাকে হুক্কা হুয়া;
কুকুর ডাকে একা ঘেউ ঘেউ;
মধ্যরাতে গাঁয়ে নাকি
ঘুমায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাকিস্তানের বির্যে জন্ম নেয়া জারজরা ধর্মের ভিত্তিতে, বিভাজিত করতে চায় বাংলাদেশের নাগরিকদের ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৯



বাংলাদেশী ধর্মান্ধ মুসলমান,
বাঙালি পরিচয় তোমার কাছে অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য।
তুমি কি দেশে দেশে Ehtnic Cleansing এর ইতিহাস জানো? জাতিগত নিধন কী বোঝো?
বাঙালি জাতি নিধনের রক্ত-দাগ প্রজন্ম থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উৎসর্গ: ব্লগার রাজিব নূর এবং মহাজাগতিক চিন্তা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৩৬


ঢাকার শীতের সকালটা একটু ঘোলাটে ছিল। রাজিব নূর ট্রেনে চড়ে বগুড়া যাচ্ছিল। হাতে একটা পত্রিকা, মাথায় অন্য কিছু। ট্রেনের জানালা দিয়ে মাঠ, গ্রাম, আর ধোঁয়াটে আকাশ পেরিয়ে যাচ্ছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মন বাগানে ফুটে আছে রঙবাহারী ফুল=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫



তুমি তো আর করলে না যাচাই, মন আমার মন্দ কী ভালো,
প্রেম কথনে ভরালে না মন, ভালোবেসে করলে না মনঘর আলো;
মনের শাখে শাখে ঝুলে আছে মধু মঞ্জুরী ফুল,
কী মুগ্ধতা ছড়িয়ে পাপড়ির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×