somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বই কথাঃ ০৩ - নীল পাহাড়

১৫ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগেই বলে রাখছি, এটা কোন রিভিউ নয়। শুধুমাত্র আমার নিজের অনুভূতির বর্ণনা। কেউ বই রিভিউ ভেবে পড়ে বিরক্ত হলে আমার কোন দোষ নাই।




কাহিনি সংক্ষেপঃ


শুরুটা আশির দশকে। মানিক মিত্র নামের একজন ডাক্তারকে নিয়ে। যার কেউ নেই এই পৃথিবীতে। কেউ নেই বলতে কেউই নেই। কারণ সে অনাথ। আরো ডিপলি বললে জারজ। এই মানিক মিত্রকেই নিয়ে এগিয়ে গেছে উপন্যাসিকার কাহিনি।
তার নির্ঝঞ্ঝাট জীবনে পরিবর্তন আসে যখন ডাক্তার সোবহান তাকে বদলি করে দেয় বান্দরবানে। এখান থেকেই গল্পের শুরু।
সিনিয়র ডাক্তার সোবহান সাহেবের সাথে ধন্ধের ফসল হিসেবে তাকে বদলি করে দেওয়া হয় বান্দরবনের বলিপাড়ায়। যেখানে বদলি মানেই বলি ছড়ানো।
সেখানে তার সাথে ঘটে যাওয়া, তার আশেপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়েই এগিয়েছে বইয়ের কাহিনি।


পাঠ প্রতিক্রিয়া

পাহাড় আমার খুব প্রিয়। সাথে পাহাড়ি মানুষগুলো। কিন্তু পাহাড়কে ভালোভাবে দেখা হয়নি। মানে গভীর ভাবে। দেখা হয়নি , চেনা হয়নি বলেই হয়তো পাহাড় আমাকে অমোঘভাবে টানে।

নিজের চোখে দেখা ওই পাহাড়ের গল্পটা তাই খুব করে মন ছুঁয়ে গেছে। জলেস্বরীর মাধ্যমে ওবায়েদ হকের শক্তিশালী লেখনির সাথে পরিচিত হলেও এটাই ওনার সবচেয়ে সেরা বই। অনাথ ডাক্তার মানিকের সাথে আমিও যেন আরেকবার দৌড়ে এসেছি পাহাড়ের কোলে। আসলে বইয়ে পাহাড়ের যেসব বর্ণনা ওবায়েদ হক দিয়েছেন, তার অনেকটাই নিজের চোখে দেখা বলে বইটা পড়ার পুরোটা সময় যেন আমি সত্যিই মানিক মিত্রের সাথেই ছিলাম। তাছাড়া প্রাণবন্ত বর্ণনায় তা সত্যিই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে আমার কাছে। খুব ভাল লেগেছে।

সারাজীবন বই পড়ে গেলেও একজীবনে একজন লোকের পক্ষে দশ হাজারের বেশি বই পড়া সম্ভব নয়। এটা হলো হুমায়ূন স্যারের কথা। তাই ঠিক করেছিলাম এখন আর কোন বই দ্বিতীয় বার পড়ে সময় নষ্ট করব না। খুব অল্প কিছু বই, যেগুলি আমি দ্বিতীয়বার পড়ব বলে ইরাদা করেছি, এটাও তার মধ্যেই পড়বে। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো, বইটা মার্কেট আউট।
এমন একটা বই পিডিএফ এ পড়তে হচ্ছে, বা হবে - আমার এমন আহাজারি দেখে এক বড় ভাই বিশেষ ব্যবস্থায় লেখকের কাছ থেকে আমার জন্য হার্ডকপি যোগাড় করে দিয়েছেন। লেখকের অটোগ্রাফ সহ।



এই বইয়ের কিছু কিছু লাইন আমাকে প্রচন্ডভাবে নাড়া দিয়েছিল। বই পড়ে ক্রমাগত কান্নাকাটির অভ্যাসটা ছোটবেলাতেই ফেলে এসেছিলাম। কিন্তু,
"মা এসেছিল একদিন কালো শ্লেটে। 'ম'-এর সাথে 'আ'-কার দিয়ে মা হয়েছিল।" - মানিক মিত্র যখন এই কথাটা বলে তখন বহুকাল পর চোখটা ঝাপসা হয়ে পড়েছিল।
"খাওয়ার সময় আমার ডাল আমি তোকেই দিব, তুই তোর মা দিস।"
"আমার কালি সব মায়ের নামেই ঢেলে দিতাম। ক্লাসে লেখার জন্য কালি থাকতো না। পণ্ডিত বাবু দাঁড় করিয়ে রাখতো। জানতাম না পেছনের বেঞ্চে এক জোড়া চোখ আমার জন্য জল ফেলত। ...
এই লাইনগুলি পড়ার সময় আমি সত্যিই অঝোরে কেঁদেছি। বই পড়া বন্ধ করে কিছুক্ষণ থম মেরে বসে থাকতে হয়েছে। আফসোস, সে চোখের জল যান্ত্রিক পিডিএফ বইয়ের পাতা ভেজাতে পারেনি। তবে হ্যাঁ, আরেকবার যখন পড়বো, তখন সত্যিই ভিজবে।

বই পরিচিতিঃ

বইঃ নীল পাহাড়
লেখকঃ ওবায়েদ হক
প্রচ্ছদঃ মেজর এমরান (প্রচ্ছদটা আমার খুব ভালো লেগেছে। নীল রঙের প্রতি এম্নিতেই একটা দুর্বলতা আছে, আর খোপায় গোঁজা ফুলটা তো অসাধারণ। তবে মেয়েটার পরনে নীল শাড়ি থাকলে আরো বেশি ভাল্লাগতো। তবে ব্যাকগ্রাউন্ডটা যুৎসই হয়নি।)
মূল্যঃ ১৫০ টাকা (মলাট মুল্য)
পৃষ্ঠাঃ ১১২
প্রকাশনীঃ কাকলী প্রকাশনী
প্রকাশকালঃ বইমেলা-১৫
রেটিংঃ ৪.৭৫/৫


নীল পাহাড়ের পিডিএফ লিংক
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০১৬ রাত ৯:০৭
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



মাঝে মাঝে খুব অবিশ্বাস্য ব্যাপার সহজ ভাবে ঘটে যায়।
এই যে আমি শাহেদ। শাহেদ জামাল। রমিজ উদ্দীনের ছেলে। আমাকে একটা ঘরে বন্ধী করে রাখা হয়েছে। ছোট ঘর। ঘরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×