দেশের ভবিষ্যতের কান্ডারী দেশের যুব সমাজ মাদকের নেশা, নৈতিক অধঃপতন আর দলীয় স্বার্থে অপব্যবহারের ফলে অধপতিত হচ্ছে। বারবার বিষয়টি নজরে আনা হলেও কোন সরকারই দেশের যুবসমাজকে সংরক্ষণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি বরং বিষয়টি থেকেই উপেক্ষিত।
যুবসমাজ দেশের অর্থনীতির মূল হাতিয়ার এবং এদের উপরই দেশের উন্নয়ন বহুলাংশে নির্ভর করে। কিন্তু বাংলাদেশে এযাবতকালে কোন সরকারই সদিচ্ছা নিয়ে এদিকে নজর দেয়নি। দেশের আপামর জনসাধারণের মাঝে অর্ধেকের ও বেশী সংখ্যক তরুণ থাকলেও সরকার এদেরকে উন্নয়নের পথে আনার বদলে রাজনৈতিক ভাবে তারুণ্যের শক্তির অপব্যবহার করছে। যে বয়সে তরুনরা শিক্ষা অর্জনে ব্রতী হওয়ার কথা সে বয়সে তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থেকে নিজেদের মেধার অপচয় করছে। দলগুলো দেশের ভবিষ্যতের কথা একটুও না ভেবে শুধুমাত্র দলীয় স্বার্থে যুবসমাজকে ব্যবহার করছে। বহু দরিদ্র মেধাবী তরুন আর্থিকভাবে লাভবান হবার আশায় এ পথে পা বাড়ায়। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের কার্যক্রম ইদানীং বেশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা ধর্মের কথা বলে ভূলিয়ে ভালিয়ে তরুন মেধাবীদেরকে শিবিরে নাম লিখিয়ে নিচ্ছে। হলে হলে গোপনে তারা তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল তরুনদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাদেরকে দিয়ে ব্যক্তিস্বার্থে কাজ করানো হচ্ছে। বি,এন,পি আওয়ামী লীগ এই দলগুলোও ক্যাম্পাসে শক্তির মহড়া দিতে ব্যবহার করে তরুন শিক্ষার্থীদের। বিগত কয়েক বছর ধরে জঙ্গী শব্দটি বাংলাদেশে ব্যাপক ব্যবহৃত একটি শব্দ আর জঙ্গী হামলাকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই তরুণ শিক্ষার্থী।
যুবসমাজের অবক্ষয়ের পেছনে মাদকের ভূমিকাও কম ভয়াবহ নয়। মাদকের বেচা-কেনা অনেকটাই সহজলভ্য বলে তরুনরা সহজেই মাদকাসক্ত হচ্ছে। দেশের যুবসমাজ ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে অবক্ষয়ের চূড়ান্তে। তাই যুবসমাজকে ধ্বংস থেকে বাঁচাতে সরকারকে অবশ্যই কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। কারিগরি শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। জঙ্গী ও শিবিরের প্রলোভন রোধে সরকারের উচিৎ দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া ও ছাত্র রাজনীতিতে উচ্চাভিলাষী ছাত্রনেতা ও নামধারী ছাত্রদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় সমাজ, সরকার সবার আন্তরিক চেষ্টা প্রয়োজন। বর্তমান সরকার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তা বাস্তবায়নের শুরুতেই তাদেরকে যুবসমাজকে উন্নয়নের প্রকৃত পথে আনার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষাঙ্গন যাবে যুবসমাজকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে সাহায্য করে তার লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে দলীয় কদর্য রাজনীতি বন্ধ করা উচিৎ। সরকার এবারের বাজেটেও যুবসমাজের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা কার্যকর করতে হবে। দেশের যুবসমাজকে ভয়াবহ ক্ষতি থেকে বাঁচাতে তাদেরকে পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধা দিয়ে নৈতিকতা ও আত্মমর্যাদা মেধাসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে। সরকার ও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যেন শুধু বড় বড় বুলিতে আবদ্ধ না থেকে যুবসমাজকে সত্যিকার অর্থেই সংরক্ষনে উদ্যোগী হন সেটাই প্রত্যাশা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

