সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানার পাশ্ববর্তী একটা গ্রামের ছিমছাম মানুষ মো:শহীদুল ইসলাম।গ্রামের অবস্থাসম্পন্ন কৃষক পরিবারের বড় ছেলে। পেশায় গ্রাম্য চিকিৎসক।বর্তমানে তিনি শহীদুল পাগলা নামে এলাকায় পরিচিত। এক সময়ের পরিপাটি লোকটি এখন ছেড়া-ছুড়া জামা কাপড় পরে, বিড়ি-সিগারেট মুখে ধরিয়ে পরিচিত মানুষের ভীরে হারিয়ে গেছেন।সবাই প্রায় ভুলে গেছে তাঁর অতীতকে।যখন আজকের মতো এলাকায় এতো সুন্দর চিকিৎসা সেবার সুযোগ ছিলনা এবং হয়তো তাঁর চিকিৎসা সেবা ছাড়া মাতৃগর্ভ হতে আলোর মুখ দেখতোনা যে ছেলেটি,এখন সেই ছেলেটির কাছেও তিনি শুধুমাত্র আমোদ আর উপহাসের পাত্র।ভদ্র লোকটি একসময় তার আচার-ব্যবহার ও পেশাগত কারণে এলাকার সকলের নিকট অত্যন্ত প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি ছিলেন।বেশিদিন আগের নয়, মাত্র নব্বইয়ের দশকের কথা।বিবাহীত জীবনেও লোকটি হয়তো অসুখি ছিলেন না। পারিবারীক সুখ-সমৃদ্ধি,যশ-খ্যাতির মোহ দশজনের মতো তারও ছিল।যেকারণে-তিনি তাঁর স্ত্রীকে গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রীধারী করার জন্য সলঙ্গা ডিগ্রী কলেজে ভর্তি করে দেন।এলাকার নিন্দুকেরা বিষয়টি ভালো চোখে না দেখলেও,একজন উপযুক্ত লোকের উপযুক্ত কাজে হয়তো তাঁর পরিবারের পাশাপাশি আশপাশের অনেকেই খুশি হয়েছিলেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে ভদ্র মহিলার অধ্যবসায় দেখে অবশ্যই মুগ্ধ।কষ্ট করে লেখা-পড়া শেষ করলেন এবং শেষ করলেন শহীদুল ভাইয়ের সাথে তাঁর দাম্পত্য জীবন।জানিনা, তিনি অত:পর সুখি হয়েছেন কিনা!!?? তবে, এর জের হিসাবে একসময়ের পল্লী চিকিৎসক মো:শহীদুল ইসলাম এখন পথের পাগল।বলুনতো, ছবির এই শহীদুল পাগলা মারা গেলে তার কবরে নীচের কোন এপিটাফটা লাগিয়ে দিলে সুন্দর ও স্বার্থক হবে????-
(১)ভালবাসা মোরে ভিখারী করেছ
তোমারে করেছে রাণী।।
অথবা
(২) ভালবাসা মোরে ভিখারী ও পাগল করেছে
তোমারে করেছে রাণী এবং ডাইনী।।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




