somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এম. এ. হায়দার
কল্পনাই সুন্দর; কল্পনা ইজ ওয়ান্ডারফুলnএকা থাকি, লিখি... লেখার মাঝে নিজেকে খুঁজি। শব্দের শহরে খালি পায়ে হেঁটে বেড়াই... দুনিয়াদারি ভাল লাগে না। ওয়ান্ডারফুল লাগে না। “কল্পনাই সুন্দর, বাস্তবের বেল নাই”- এইরকম একটা ভাব ধরার চেষ্টা করি। বই পড়া আর ল

সেদিন শ্রাবণ মাস (উপন্যাস) (পর্ব-১)

২৮ শে জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘনঘোর বর্ষায়
সে কথা শুনিবে না কেহ আর
নিভৃত নির্জন চারিধার
দু’জন মুখোমুখি গভীর দুখে দুখি
আকাশে জল ঝরে অনিবার
জগতে নাহি যেন কেহ আর

শ্রাবণে বরিষণে নিভৃত গৃহকোণে
দু’কথা বলি যদি কাছে তার
তাহাতে আসে যাবে কিবা কার?

(বর্ষার দিনে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)


...................................................................................................


আরিফ তার বাবার কাজ-কারবারে যথেষ্ট বিরক্ত হচ্ছে। বিরক্ত হবার পেছনে যুক্তিযুক্ত কারণ আছে।

আরিফ এ বছর ঢাকা কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পরীক্ষা দিয়েছে। গত মাসে তার বয়স আঠারো পূর্ণ হয়েছে। এর অর্থ সে এখন প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজে নিজে চলার ক্ষমতা তার আছে। সে এই জিনিসটা কোনমতেই তার বাবাকে বোঝাতে পারছে না।

আরিফের বাবা মো: আব্দুল হাইসাহেব সত্যিই কিছূটা বাড়াবাড়ি করছেন। ছেলেকে তিনি বাসে চড়িয়ে দিয়েছেন, বাস ছাড়তে মনে হচ্ছে কিছুটা দেরি হবে। তিনি সহজে বাস থেকে নেমে যাবেন- এইরকম মনে হচ্ছে না। ছেলের সিটের পাশে বসে তিনি একটার পর আরেকটা প্রশ্ন করে যাচ্ছেন। প্রশ্নের ফাঁকে ফাঁকে নানান উপদেশ দিচ্ছেন। প্রশ্ন আর উপদেশ ছাড়া একটা বাক্যও নেই।

আরিফ ধৈর্যশীল এবং যথেষ্ট শান্ত-শিষ্ট ছেলে। সে শান্ত গলায় ধৈর্য ধরে একটার পর একটা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। উপদেশ জাতীয় শব্দ শোনার পর ‘আচ্ছা, ‘ঠিক আছে’ এ ধরনের বাক্য বলছে।

‘আরিফ, বাবা, পানির বোতল নিয়েছো?’
আরিফ শান্ত গলায় বলল, ‘হ্যাঁ।’
‘পিপাসা লাগলে সাথে সাথে পানি খাবে।’
বাক্যটাই এমন যে শুনে আরিফের বিরক্তি লাগল। পিপাসা লাগলে সে তো পানি খাবেই। এটা আবার বলে দিতে হবে কেন?
সে বিরক্তি চেপে বলল, ‘ঠিক আছে।’
‘সিটটা ভাল হয়েছে। কি বলো?’
আরিফ মনে মনে ভাবল, সিট তো সিটই। সিটের আবার ভাল-মন্দ কি? মুখে বলল, ‘হ্যাঁ, ভাল।’
আব্দুল হাইসাহেব খুশি-খুশি ভঙ্গিতে বললেন, ‘সিটের একটা ব্যাপার আছে। সব সিটে বসে কিন্তু আরাম পাবে না। যেমন ধরো, চাকার ওপরের সিট। রাস্তায় হালকা উঁচু-নিচু থাকলে সিট বাউন্স খাওয়া শুরু করবে... এক্সট্রা চশমা নিয়েছো তো বাবু?’

আরিফ এবার প্রচন্ড বিরক্ত হল। ইন্টার-পাস্‌ড্‌ একটা ছেলেকে ‘বাবু’ বলার মানেটা কি? তার বাবা তাকে কি ভাবে? সে তো এখন বড় হয়েছে। কে জানে হয়তো বাবা-মাদের কাছে সন্তানরা হয়তো চিরদিন কচি খোকা-খুকীই থাকে। সে জবাব দিল, ‘হ্যাঁ, নিয়েছি।’
‘এক্সট্রা একটা চশমা সবসময় সাথে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। ধরো কোনভাবে একটা চশমা গেল হারিয়ে। চশমা ছাড়া তো তুমি ভাল দেখতেও পাও না্, তখন কি করবে? চোখ বুজে বসে তো আর থাকবে না। নতুন একটা চশমার ব্যবস্থা করতে ছোটাছুটি করতে হবে। একটু সচেতন থাকলে এসব ঝামেলা এড়ানো যায়।’

চশমা সংক্রান্ত আলোচনা শেষ হবার পর হাইসাহেব নতুন আলোচনা শুরু করলেন। আরিফের জায়গায় অন্য কোন সাধারণ ছেলে থাকলে এই আলোচনা তার ভাল লাগার কথা।

‘দেশের বাড়িতে গিয়ে কিন' আবার রাত জেগে পড়াশুনা করবে না। তোমার তো পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এখন এত পড়াশুনার দরকারটা কি? কিছূদিন ঘুরে-বেড়িয়ে বিশ্রাম নেবে। ব্রেইনকে রেস্ট দেওয়ার দরকার আছে।... এ দুনিয়ায় টেনশনের কিছু নাই। সব সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা মত হবে। টেনশনের কোন ভাত নাই। কিছু কিছু মানুষ মনে করে ‘জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ’ এই তিনটা জিনিস আল্লাহ্‌ নিজের হাতে রেখেছেন। তা ঠিক না। আল্লাহ্‌ সবকিছুই নিজের হাতে রেখেছেন। সাফল্যের জন্য শুধু দুইটা জিনিস দরকার- তকবির আর তকদির। নিজের চেষ্টা প্লাস আল্লাহ্‌র রহমত। নিজের কাজ শেষ হওয়ার পর বাকিটা আল্লাহ্‌ ভরসা। কথা বুঝতে পারছো?
‘হুঁ।’
‘দুয়েক সপ্তাহের জন্য হলেও পড়াশোনা আলমারিতে তুলে রাখবে। পড়াশোনার সময় তো সারা জীবনই থাকবে। এই সময়টা সারা জীবন থাকবে না। এই বয়সটা হল ঘুরে বেড়ানোর বয়স। আমাদের সময় আমরা কত ঘুরেছি! আজকালকার ছেলেমেয়েরা সেই সুযোগ পাচ্ছে না। দু:খজনক।... ক্যামেরাটা নিয়েছো?’
‘না।’
‘না কেন? সুন্দর সুন্দর দৃশ্য দেখে ছবি তুলে রাখবে না? স্মৃতি হিসেবে থাকল। আমাদের সময় তো এত সুবিধা ছিল না।’
‘মোবাইলে ক্যামেরা আছে। তুলে রাখব।’
‘শীতের কাপড়-চোপড় নিয়েছো কিছু?’
‘আরিফ হেসে ফেলল। এখন তো শীতকাল না। বর্ষাকাল।’
হাইসাহেব তাড়াতাড়ি বললেন, ‘ও আচ্ছা, তাই তো। ভুলেই গিয়েছিলাম। বৃষ্টিতে ভিজে-টিজে ঠান্ডা লাগাবে না।’
‘লাগাব না।’
‘বাস মনে হচ্ছে ছেড়ে দেবে। আমি তাহলে নামি, কেমন?’

আমি তাহলে নামি বলেও তিনি নামলেন না। ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘দেশের বাড়িতে সবাই আছে। তোমার ভাল লাগবে। ভাল থাকবে, কেমন?’
‘আচ্ছা।’
‘কোন কারণে ভাল না লাগলে আমাকে জানাবে। ফোন করবে।’
‘ঠিক আছে। বাবা, বাস মনে হচ্ছে এখন ছেড়ে দেবে। তুমি নামো।’

নামার আগে হাইসাহেব আরিফের পাশের সিটে বসা ভদ্রলোকটির সাথে দু-চার কথা বললেন এবং ‘ছেলেটাকে একটু দেখবেন’ বলে তারপর নামলেন।

আরিফ যেন কিছুটা হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। সে চেপে রাখা দীর্ঘশ্বাস ধীরে ধীরে ছাড়ল।
বাস ছাড়ি-ছাড়ি করছে এবং কিছুটা চলতে শুরু করে দিয়েছে এমন সময় আরিফ জানালা দিয়ে তাকিয়ে বাবাকে দেখতে পেল।

চারপাশে নানা ধরনের শব্দ হচ্ছে। সেই শব্দ ছাপিয়ে তিনি ব্যস্ত গলায় বললেন, ‘ভুয়াপুর নেমে সাথে সাথে একটা ফোন দেবে।’
আরিফ বলল, ‘ঠিক আছে, করব।’
‘বাস ছেড়ে দিচ্ছে। এখন বলো- ফি আমানিল্লাহ।’
আরিফ শান্ত গলায় বলল, ‘ফি আমানিল্লাহ্‌।’

***

শওকত সাহেব অনেকদিন হল এত বড় মাছ দেখেন নি। সাইজ দেখে যা মনে হচ্ছে এর ওজন অন-ত মণখানেক তো হবেই। এক মণ মানে হল চল্লিশ সের। কেজির হিসাবে কত? কেজি আর সেরে মাঝে কনভার্সনটা কিভাবে হয়?

শওকত সাহেব বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব। তিনি তার পরিবার নিয়ে ছুটি কাটাতে এসেছেন তার শ্বশুরবাড়ি। উদ্দেশ্য নিরিবিলি কিছু সময় কাটানো। সারা জীবন তিনি কাটিয়েছেন নানান হাউ-কাউয়ের মধ্যে। সচিব হবার পর তো ক্যাচাল আরও বেড়েছে। সাধারণ লোক মনে করে ক্ষমতা হাতে থাকা বুঝি বিরাট কোন আনন্দের ব্যাপার। আসল ব্যাপার মোটেও সেরকম না। ক্ষমতা হাতে থাকা মানেই নানান ক্যাচাল।

গত কিছুদিন ধরে তিনি অবশ্য এসব থেকে দূরে আছেন। এবং ক্ষমতাবান হবার অনেক ধরনের যেসব মজা আছে তা উপভোগ করতে শুরু করেছেন।

যেমন, ফলদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইদরিস সাহেবের কথাই ধরা যাক। এই লোক আগে তাকে তেমন পছনদ করত না। আসলে সেইরকম পরিচয়ও ছিল না। দেখা হলে- ভাইসাহেব, স্লামালিকুম, কেমন আছেন, আছি একরকম- মূলক দু’চারটা কথা-বার্তা হত।

এখননকার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। গ্রামে আসার পর থেকেই এই লোকটা খাতির-যত্ন করছেন। একেকদিন একেকটা জিনিস নিয়ে হাজির হচ্ছেন। নিয়ে এসে হাত কচলে বলছেন- ‘গরিব মানুষ বলে বেশি কিছু করতে পারলাম না।’

আজকে ‘অল্প কিছু’ যা করেছেন তা হল এই মাছ। সুবিশাল সাইজের চিতল। শওকত সাহেব উৎসুক দৃষ্টিতে মাছটাকে জরিপ করছেন।

ইদরিস সাহেব বললেন, ‘ভাইসাহেব, মনে কিছু নিবেন না। আপনার জন্য বড়সড় একটা চিতল মাছানার ব্যবস্থা করব- এরকম সংকল্প ছিল। বড়সড় চিতল প্রায়ই ধরা পড়ে। কিনতু প্রয়োজনের সময় কোন কিছুই ঠিকমত পাওয়া যায় না।’
শওকত সাহেব বাধা দিয়ে বললেন- ‘এটা তো বেশ বড় চিতল।’
‘না। এটা বেশি একটা বড় না। এক মণের বেশি ওজন হলে সেই চিতলকে বলে গিয়ে...’

ইদরিস সাহেব এমনভাবে মাথা চুলকাতে লাগলেন যেন আগামি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চিতল মাছের নাম মনে না করতে পারলে বিপর্য়য়ের আশংকা আছে।

এই সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার অ্যাসিস্ট্যান্ট কথাটা ধরিয়ে দিল- ‘রাজ-চিতল।’ এই কাজটা সে যথেষ্ট আনন্দের সাথে করছে।তার নাম বজলুর রহমান। ডাকনাম বজলু। সে সবসময় ইদরিস সাহেবের সাথে সাথে থাকে। অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে সে অপটু। ইদরিস সাহেব তাকে নানানরকম নির্দেশ দেন যার কোনটাই সে ঠিকমত করতে পারে না। সবকিছুতেই লেজে-গোবরে করে ফেলে এবং এই কারণে ইদরিস সাহেব তার উপর যথেষ্ট বিরক্ত থাকেন।

‘কারেক্ট... রাজ-চিতল।’ ইদরিস সাহেব বললেন। ‘এইটা রাজ-চিতল না।’
শওকত সাহেব বললেন, ‘এক মণ হবে না?’
‘এক মণ হবে না। তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশ রেঞ্জে আসতে পারে। সেরের হিসাবে। চোখের আন্দাজে বললাম। পঁয়ত্রিশ এর বেশি হবে না।’

ইদরিস সাহেব পান চিবোতে চিবোতে কথা বলছেন। এমনিতে অন্য কেউ বেশি কথা বললে শওকত সাহেব তা সহ্য করতে পারেন না। কিন্তু এই লোকটা তাকে উপলক্ষ করে এতবড় একটা চিতল নিয়ে এসেছেন- ব্যাপারটাতে তিনি আনন্দ বোধ করেছেন। রাজনীতি যারা করেন, তাদের তোষামোদে সন্তুষ্ট হওয়া ঠিক না। কিন্তু তিনি আপাদত রাজনীতি দূরে সরিয়ে রেখেছেন এবং যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে চিতল মাছের গল্প শুনছেন।
ইদরিস সাহেব পান চিবোতে চিবোতে বললেন- ‘বুঝলেন ভাইসাহেব, ইচ্ছা ছিল, মাছটা নিজে ওজন করব। পাল্লা আনতে পাঠালাম বজলু শালাকে।’

অ্যাসিস্ট্যান্ট বজলু কিছুটা নড়ে-চড়ে দাঁড়াল। ‘বজলু শালা’- কথাটা মনে হয় সে পছন্দ করতে পারে নি।

‘এই শালা একটা গর্দভের গর্দভ। এত বড় একটা মাছ- এটা কি আর যে সে পাল্লায় ওজন করা যায়, আপনি বলেন? এইটুকু একটা পাল্লা নিয়ে সে হাজির।’ ইদরিস সাহেব হাত দিয়ে সাইজ দেখালেন।

বজলু কিছুটা নড়া-চড়া দিয়ে বলল, ‘অত ছোট কিন্তু ছিল না।’

ইদরিস সাহেব খেঁকিয়ে উঠলেন, ‘চুপ! বেয়াদব। মুরুব্বিদের কথার মাঝে কথা বলবে না।... বুঝলাম ছোট ছিল না, কিন্তু মাছের সাইজ তো তুমি দেখবে। টেংরা মাছ আর চিতল মাছ তো আর এক না।’

শওকত সাহেব বললেন, ‘থাক! ওজন করা লাগবে না।’

‘এইটা আপনি কি বললেন? অবশ্যই ওজন করতে হবে। মানুষ জিজ্ঞেস করলে বলতে হবে না! একটা ব্যাপার আছে। পাল্লা পাথর আনতে লোক পাঠিয়েছি। এখনও আনছে না কেন কে জানে! কোন লোক কোন কাজের না।'

ইদরিস সাহেব পানের পিক ফেলে গজগজ করতে লাগলেন।

***

পান্থ একটা কাজ সেরে ফিরছিল। এমন সময় উঠোনে চিতল মাছটা দেখতে পেল। সেখানে একটা ছোট-খাটো একটা ভিড় জমেছে।

সে কাছে গিয়ে চিৎকার করে উঠল, ‘ওয়াও! এত্তোবড় মাছ! হট এ প্লিজেন্ট সারপ্রাইজ! ওয়েট কত?’

পান্থ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স কমপ্লিট করেছে। হিসাব অনুযায়ী তার মাস্টার্স করার কথা। সে হিসাব অনুযায়ী চলছে না। তাকে দেখে মনে হচ্ছে না, মাস্টার্স করার কোন ইচ্ছা তার আছে। অনার্স শেষ করার পরপরই সে গ্রামের বাড়িতে চলে এসেছে। গত তিনমাস ধরে এখানেই আছে এবং এই তিনমাসেই জায়গাটার সাথে এমনভাবে মিশে গেছে যেন সে সারাজীবন এখানেই থাকত।

এই সময়টুকুতে সে যা করেছে তা হল- এদিক সেদিক নানান জায়গায় টো-টো করে ঘুরে বেড়িয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছে। ছোট-খাটো যে কোন কাজ সে খুব আগ্রহ নিয়ে করছে এবং তাকে দেখে মনে হচ্ছে এসব কাজ করে সে যথেষ্টই আনন্দ পাচ্ছে। তার নিজের ধারণা গত বিশ বছর লেখাপড়া করে সে যা শিখতে পারে নি,এখানে তা সে তিনমাসে শিখতে পেরেছে।

মাছটার দিকে তাকিয়ে সে আনন্দে শিস বাজিয়ে উঠল, ‘জটিল জিনিস তো!’

শওকত সাহেবের নিজেরও আগ্রহ আছে ওজন করার ব্যাপারে। তিনি পান্থকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘পান্থ, বাবা, দেখো তো কোন বাটখারার ব্যবস্থা...’

পুরো বাক্যটা শেষ করার আগেই পান্থ বলে উঠল, ‘বাটখারা! বাটখারা লাগবে না?’
‘হ্যাঁ। বড় সাইজের। দেখো জোগাড় করতে পারো কিনা?’

পান্থচুটকি বাজিয়ে বলল, ‘না পারার কিছু নেই। বাটখারার খোঁজ আমার কাছে আছে। আমি ব্যবস্থা করছি। যাব আর আসব।’

শওকত সাহেব নিশ্চিন্ত হলেন। যে কোন কাজ পান্থকে দিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া যায়। সে করিৎকর্মা ছেলে। সে করতে পারে না এমন কাজ কমই আছে। এটা পার্সোনালিটির ব্যাপার। বারাক ওবামা পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি। কিন্তু অনেক কাজই আছে তিনি করতে পারবেন না। যেমন পান্থ চোখ বুজেও সাইকেল চালাতে পারে। বারাক ওবামা নিশ্চয়ই চোখ বুজে সাইকেল চালাতে পারবেন না।

তাছাড়া সে হাসি-খুশি ছেলে। তার সাথে দুইটা মিনিট কথা বললেও মন ভাল হয়ে যায় বিশেষ করে এই কারণে ছেলেটাকে তার অত্যন্ত ভাল লাগে। এইরকম একটা ছেলেকে সবাই পছন্দ করবে সেটাই স্বাভাবিক।

***

জান্নাত শুয়ে শুয়ে একটা বই পড়ছে। বইয়ের নাম ‘সেই সব দিন’। খুব রোমান্টিক উপন্যাস। সে খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ছে। ইন্টারেস্টিং একটা পয়েন্টে ছিল এইসময় শাহানা বলে উঠল, ‘বাইরে এত চেঁচামেচি কিসের?’ তার বোন শাহানা অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ে।

জান্নাত খুব বিরক্ত হল। সে এ বছর এস.এস.সি পরীক্ষা দিয়েছে। এস.এস.সি পরীক্ষার পর তিন মাসের মত বন্ধ পাওয়া যায়। সেই বন্ধ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। আর কিছুদিন পরই কলেজে উঠে যেতে হবে। মজার মজার বইগুলো পড়ার সময় তখন আর থাকবে না।

সে বিরক্ত কণ্ঠে বলল, ‘আপু, কথা বলিস না তো! সুন্দর একটা বই পড়ছি।’
শাহানা বলল, ‘কি বই পড়িস?’
‘কি বই তা জেনে তোর কোন কাজ নেই।’
‘প্রেমের বই নাকি?’
‘হুঁ।’
‘দিনের বেলা উপন্যাস পড়তে ভাল লাগে?’
‘উপন্যাস সবসময়ই পড়তে ভাল লাগে।’
‘দে তো, আমি একটু পড়ি।’
‘তুই পরে পড়িস।’
জান্নাত বইটা রেখে দিল।
শাহানা প্রসঙ্গ পাল্টে বলল, ‘বাইরে এত হৈ চৈ কিসের?’
‘আমি কি করে বলব হৈ চৈ কিসের?’


(চলবে..........................)
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×