somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এম. এ. হায়দার
কল্পনাই সুন্দর; কল্পনা ইজ ওয়ান্ডারফুলnএকা থাকি, লিখি... লেখার মাঝে নিজেকে খুঁজি। শব্দের শহরে খালি পায়ে হেঁটে বেড়াই... দুনিয়াদারি ভাল লাগে না। ওয়ান্ডারফুল লাগে না। “কল্পনাই সুন্দর, বাস্তবের বেল নাই”- এইরকম একটা ভাব ধরার চেষ্টা করি। বই পড়া আর ল

সেদিন শ্রাবণ মাস (উপন্যাস) (পর্ব-২)

০২ রা জুলাই, ২০১৪ সকাল ৮:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জান্নাত বাইরে উঁকি দিয়ে দেখল, বিশাল একটা মাছ ওজন করা হচ্ছে। মাছটাকে ঘিরে বেশ লোক জমেছে। সে পান্থকে দেখতে পেল। তার বাবা- শওকত সাহেব ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছে আর ব্যস্ত ভঙ্গিতে কি কি যেন বলছে।

হঠাৎ সে শুনতে পেল, ‘মেয়েরা কই? ওদেরকে ডাকো। এদিকে মজার একটা ঘটনা ঘটছে আর ওরা কিছু টেরই পাচ্ছে না, এটা কেমন কথা?’

শুনতে পেয়ে জান্নাত চট করে ভেতরে ঢুকে গেল। তার হৃৎপিন্ড হালকা লাফাচ্ছে।

পান্থ দরজার কাছে এসে থেমে দাঁড়াল। ডাকল, ‘জান্নাত ,এই জান্নাত।’
একটু ইতস্তত করে ঘরে ঢুকল সে। ঢুকেই জান্নাতকে দেখতে পেল।

‘তোমরা দুই বোন কি বলো তো? বাইরে এত সাংঘাতিক একটা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে আর তোমরা ঘরে বসে রয়েছো?

জান্নাত কিছু একটা বলতে নিয়েও বলতে পারল না। ব্যাপারটা সে আগেও লক্ষ করেছে। পান্থ ভাইয়া সামনে এস দাঁড়ালেই তার কেমন-কেমন যেন লাগে। স্বাভাবিক একটা কথা বলতেও বিব্রত বোধ করে।

সে কোনমতে বলল, ‘বাইরে কি হচ্ছে?’
পান্থ দ্রুত বলল, ‘তোমরা তো দেখি কিছুই জানো না। ব্রেকিং নিউজ। চিতল মাছ ধরা পড়েছে। রাজ-চিতল।’

জান্নাত অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে। মানুষটা কত সহজ ভঙ্গিতেই না কথা বলছে! সে কেন পারে না?

‘কারেন্টলি মাছটাকে ওজন করা হচ্ছে। দেখবে এসো। তোমার আপুকে ডাকো।’
‘আপু দেখবে না।’
‘দেখবে না কেন?’
‘আপুর এসব ভাল লাগে না।’
‘তাহলে চলো, তোমাকেই দেখাই।’

তারা যখন কাছাকাছি গেল, ওজন করা শেষ হয়ে গেছে। ইদরিস সাহেব হাসি-হাসি মুখে বললেন, ‘আন্দাজ মোটামুটি ঠিকই ছিল। রেঞ্জের মাঝামাঝি পড়েছে।’
শওকত সাহেব জান্নাতের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘মাছটা দেখেছিস? বড় না?’
‘হুঁ।’
‘শাহানা কোথায়?’
‘ঘরে।’
‘ঘরে কি করে?’
‘কিছু না।’
‘ডেকে নিয়ে আয়, যা।’
‘আসবে না।’
‘আসবে না কেন?’
‘এসব ভাল লাগে না আপুর।’
‘অবশ্যই ভাল লাগবে।’
পান্থ বলল, ‘ডেকে নিয়ে আসো। দেখে যাক একবার। এইরকম মাছ তো আর প্রতিদিন দেখা যায় না।’
জান্নাত কিছু বলল না।
পান্থ কিছুক্ষণ পর বলল, ‘আচ্ছা, মাছটার ওজন কত হতে পারে বলো তো?’
সে বলল, ‘জানি না।’
‘গেস্‌ করো। দেখি তোমার প্রেডিকশন কেমন।’
জান্নাক একমুহূর্ত ভেবে নিয়ে বলল, ‘বিশ কেজি?’
‘উঁহু। হয় নি। তেত্রিশ। তেত্রিশ সের। তোমার প্রেডিকশন তো দেখা যাচ্ছে মোটেও ভাল না। হা হা হা।’
পান্থ শব্দ করে হাসতে লাগল ।

***

আরিফ ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঠিক কিভাবে কখন সে ঘুমিয়ে পড়ল নিজেও তা বুঝতে পারে নি। সে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। জায়গাটা কোথায় তা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।

‘বাসটা কোন পর্যন্ত যাবে?’
প্রশ্নটা করল সে তার পাশে বসা ভদ্রলোককে। ভদ্রলোক সাথে অনেক বোঁচকা-বুঁচকি নিয়ে এসেছেন। দুই একটা বোঁচকা সিটের নিচ দিয়ে ঢুকিয়ে রাখতে হয়েছে এবং তিনি সহজে পা রাখতে পারছেন না।

‘কিছু বললে?’
‘এই বাসটা কোন পর্যন্ত যাবে?’
‘যাবে তো তারাকান্দি পর্যন্ত। তুমি তো ভুয়াপুরে নেমে যাবে, ঠিক না?’

আরিফ কিছুটা বিরক্ত হল। সে কোথায় যাবে সেটা তার ব্যাপার। লোকটার কি? তারাকান্দি কি বেশি দূর? সেখানে নেমে ব্যাক করলে কেমন হয়? নতুন কোথাও যেতে ইচ্ছা করছে। অচেনা কোথাও, যেখানে সে আগে যায় নি।

তার পকেটে রাখা সেলফোন বেজে উঠল। সে চট করে পাশের
ভদ্রলোককে বলল, ‘আমরা এখন কই?’

‘করোটিয়া ক্রস করছি। ভুয়াপুর খুব একটা দূরে না।’
বাসটা মৃদু একটা ঝাঁকি খেল। চশমাটা পড়ে যাচ্ছিল। আরিফ চশমাটা ঠিকমত সেটা করল। ভুয়াপুরের খবর কে জানতে চেয়েছে?

সে কলটা রিসিভ করল,‘হ্যালো, বাবা।’
‘হ্যালো, আরিফ?’
‘বলো।’
‘পৌঁছেছো?’
‘বাবা, বলেছি তো নেমে কল করব।’
‘এখন কোথায়?’
‘করোটিয়া।’
‘ভুয়াপুরে নেমে কিন্তু কল করবে।’
‘আচ্ছা।’
‘ফোন করেছিলাম আরেকবার- ধরো নি কেন?’
‘ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম; খেয়াল করি নি।’
‘বামপাশ দিয়ে যান... সোজা।’
‘কিছু বললে?’
‘না, না। তোমাকে না। তুমি ঠিকঠাক আছো তো?’
‘ঠিকই আছি। তুমি তখন ফোন করেছিলে কেন?’
‘এমনি...’

হাইসাহেব আরও কিছু হয়তো বলতে যাচ্ছিলেন আরিফ তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘বাবা, এমনি-এমনি ঘনঘন ফোন করবে না।’
‘কেন? বিরক্ত লাগে?’
আরিফ একটা মুহূর্ত অপেক্ষা করে বলল, ‘হ্যাঁ, বাবা।’

কয়েক মুহূর্তের জন্য ওপাশ থেকে কোন কথা শোনা গেল না। লাইনটা কি কেটে গেল?
‘হ্যালো, বাবা?’
‘হ্যাঁলো... হ্যাঁ, আচ্ছা। আর এমনি এমনি বিরক্ত করব না।’
আরিফ কি বলবে তা বুঝতে পারল না। এভাবে কথাটা বলা মনে হয় উচিত হয় নি।
‘আচ্ছা, এখন রাখি।’

সে লাইন কেটে দিয়ে শূন্য দৃষ্টিতে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইল। বিকেল হয়ে গেছে। বাইরে চমৎকার সব দৃশ্য। বিকেলের আলোটা এত ভাল লাগছে!

পাশে বসে থাকা ভদ্রলোক দাঁত দিয়ে একটা আখ ছোলার চেষ্টা করছেন। এতক্ষণ তো আখ দেখা যাচ্ছিল না।

‘ছেলে, তুমি আখ খাবে?’
‘জ্বি না।’
‘একটা খাও। দাঁত শক্ত হবে। দাঁত শক্ত হওয়ার প্রয়োজন আছে।’
‘আপনি খান। দাঁত শক্ত করুন।’
‘তুমি তো ভুয়াপুর নামবে, তাই না?’
আরিফ একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, ‘জ্বি।’

কিছুক্ষণ পর সে কি মনে করে বলল, ‘ব্যাগটা আমার সাইডে রাখুন। আপনার পা রাখতে কষ্ট হচ্ছে।’

ভদ্রলোক কৃতজ্ঞ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালেন।
‘তুমি তো খেলে না। আখটা কিন্তু মিষ্টি ছিল।’


(চলবে...................................................)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×