somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার জীবনের লেখা প্রথম উপন্যাসের শেষ অংশটুকু হতে সংকলিত অংশ।

১২ ই জুন, ২০১৫ রাত ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৭১।
কনকনে ঠান্ডায় উঠোনের এক কোণে শূন্য দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন রাহাতের মা। পাশেই নিরব হয়ে দাঁড়িয়ে বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট্ট শুকনো নদীটির দিকে তাকিয়ে আছে রাহাতের বন্ধু আবদুল। তার চোখ মুখ ভাবলেশহীন।
ক্ষাণিক পরেই রাহাতের মা আবদুলকে জিজ্ঞেস করলেন, "বাবু কি শনিবারেই এসে যাবে?"
নিজেকে বহু কষ্টে সামলে আবদুল বলল, "রাহাতের একটা চিঠি আছে খালাম্মা।"
"কেন? চিঠি কেন? বাবু তো কাল বাদে পৱশু এসেই যাচ্ছে|"
কোনো কথা না বলে জামার পকেট থেকে জীর্ণশীর্ণ একটা চিঠি বের করল আবদুল্লাহ।
ভাঁজ খুলে তার চোখের সামনে মেলে ধরলো। অনেক জায়গায় লেখনির কালিও উঠে গেছে চিঠিটার। মনে হয়, কখনো পানিতে ভিজেছে চিঠিটা।
এক ঝাঁক আগ্রহ আর আতংক নিয়ে রাহাতের মা আবদুল্লাকে বললেন, "কি লিখেছে?"
অনিচ্ছা সত্ত্বেও চোখের পানি চেপে ধরে চিঠিটা শব্দ করে পড়া শুরু করলো আব্দুল্লাহ।

"১৪ আগস্ট, ১৯৭১
ভৈরব বাজার,
মোমেনশাহী।
শ্রদ্ধেয় আম্মা,
প্রথমেই আমার লাখো কোটি সালাম নেবেন। জানি না আপনি কেমন আছেন। ছেলেকে শত্রুর মুখে ঠেলে দিয়ে জানি আপনারা ভালো থাকতে পারবেন না। তবুও আল্লাহ আপনাদের ভালো রাখুক।
আম্মা, প্রত্যেকটা নিশ্বাসে আপনার কথা আমার মনে পড়ে। কিন্তু উপায় নেই, কুরুক্ষেত্রের মাঠে আমি তরবারি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। মাঠ ছাড়বার জো টুকু নেই আমার নিকট। মানুষ নামক পাকিস্তানি জানোয়ার গুলোর সাথে আমার যুদ্ধ।
আজও মনে ঐ সন্ধ্যার কথা, যেদিন টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছিলো। মনে পড়ে আজও, ঢাকা থেকে এসে যখন আপনার হাতে মাছের ডিমের ভোনা দিয়ে ভাত খাচ্ছিলাম, ঘরের প্রদীপের শিখাটা তখন বাইরের বাতাস খানিকটা ঘরে ঢোকায় কাঁপছিলো। হন্তদন্ত আব্বা ঘরে ঢোকে বললেন আমাকে যে মুক্তিযোদ্ধে যেতে হবে। তখনই যেন কি এক অজ্ঞাত কারণে বিষম খেয়ে যাই। আপনার মনে আছে মা, আপনি যখন পানিটা আমাকে খেতে দেন......to be continued... the next part will be written on my next post..
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১২:৫৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×