somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রিক্সা: একটি হাস্যরসীয় বিশ্লেষন - 1

১৬ ই আগস্ট, ২০০৬ দুপুর ২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখার শিরোনাম দেখিয়া বুদ্ধিমান পাঠক মাত্রেই বুঝিতে পারিবেন ইহার লেখক নেহায়েতই ব্যবসাবুদ্ধিসম্পন্ন এবং তাহারই প্রতিফলন ঘটিয়াছে শিরোনামে। রিক্সা আবার কিমতে হাসির ব্যাপার হইতে পারে তাহা লইয়া গবেষনা চলিতে পারে। তবে মাঝারী বুদ্ধির কেউ কেউ ঠিকই বুঝিতে পারিবেন এই লেখার উদ্দেশ্য কিছুই নয়, কেবল ব্লগের সংখ্যা বাড়ানো ছাড়া।

রিক্সা কিভাবে আমাদের বাঙ্গালী রক্তে মিশিয়া আছে সে কথা বলা বাহুল্য। বাঙ্গালী নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আজন্ম রিক্সাওয়ালার সুঠাম দেহের প্রগাঢ় সুগন্ধ সহ্য করিয়া রিক্সা চড়িয়া অভ্যস্থ বিধায় দেশে বিদেশে কিংবা বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে তাহাদের খাপ খাওয়াইয়া চলিতে কোন সমস্যাই বোধ হয় না। আর বন্ধুর সাথে ঢাকার বন্ধুর রাস্তায় রিক্সায় চলাচল করিয়া অভস্ত্য বিধায় পৃথিবীর কোন রাস্তাই তাহাদের নির্বান্ধব করিতে পারে না। রিক্সাওয়ালার সাথে দর কষাকষি কিংবা একটাকা ভাড়া কম দেবার জন্য যুদ্ধ আমাদিগকে সত্যিই মহান যোদ্ধা জাতির সম্মান দিয়াছে। তাহার সহিৎ আর অন্যান্য উপকারের মধ্যে রহিয়াছে বিভিন্ন রিক্সা দুঘর্টনা জনিত কারনে রিক্সা হইতে লম্ফ দিয়া নামার কসরৎ। এই সমস্ত কারনে আমরা কেহই এই রিক্সাকে ভুলিতে পারিনা। আর তাই রিক্সার মত যানবাহন পৃথিবীর অন্যান্য দেশে দেখিবা মাত্র আমাদের মুখ হইতে আপনা আপনি বাহির হইয়্যা আসে, "এই রিক্সা যাইবা?"

তবে যত যাহাই বলুন, প্রেমিক পুরুষ মাত্রই জানেন রিক্সার মূল্য কি। রিক্সা বিনা তাহাদের প্রেম বোধকরি অপূর্ণ্যই থাকিয়া যাইত। ঘন্টাচুক্তিতে ঢাকায় রিক্সায় চড়েন নাই এমন প্রেমিক জুটি ঢাকায় মেলা বিরল। দুজনে শান্তিতে একটু কোন পার্কে গল্প করিবেন কিংবা মধুর ঝগড়া? পথকলিদের যন্ত্রনায় সেটি হবার যো নেই। এরশাদ সাহেব তো ইহাদের পথকলি নাম দিয়াই খালাস হইয়া গিয়াছেন। এই পথকলিদের যন্ত্রনায় পার্কে তো প্রেমের ফুল ফুটবার জো নেই, তাই একমাত্র ভরসা সেই রিক্সা। রিক্সাওয়ালা ভাইকেও তাই কিছু বলিতে হয়না। কোন জুটি আসিয়া তাকে বলিলেই হইল, "এই রিক্সা যাইবা?", অমনি সে তাহার পান, বিড়ি খাওয়া সুগঠিত দাঁতের বিজ্ঞাপন দেখাইয়া চলা শুরু করিবে। সেই সাথে আপনি পাবেন আপনাদের দুজনের আলোচনার মাঝখানে তার সুচিন্তিত কিছু মতামত। কোথায় আর পাবেন এসব আমাদের প্রানের দেশ বাংলাদেশ ছাড়া!

তবে বাঙ্গালী রমনী মাত্রে স্বীকার করিবেন যে তাহাদের সেীন্র্দয্যের কিছু অবদান কিন্তু আসে এই রিক্সাওয়ালাদের কাছ হইতেই। যেসমস্ত বুদ্ধিমান পাঠক এখনও সাধু বাংলায় লেখা স্থুল রসিকতা পূর্ণ এই লেখাটি পড়িতেছেন তাহারা প্রশ্ন করিয়া বসিবেন, "কিভাবে?" তাহাদের আমি বলিব আপনি প্রথমে আমাকে 'বাঙ্গালী সৌন্দর্য্যের' সংজ্ঞাটা দিন। বেশী দূর যাইতে হইবে না বাংলাদেশী ছবির নায়িকাদের বর্ননা দিলেই চলিবে। কিংবা কোন বাংলা খবরের কাগজ হইতে পাত্রী চাই বিজ্ঞাপন দেখিয়া বলিলেই চলিবে। আমি হলফ করিয়া বলিতে পারি এই বিষয়ে কেউ দ্বিমত পোষন করিবেন না যে বাঙ্গালী সুন্দরীর দুটো বিষয় থাকা জরুরী, এক. ফ্যাকাসে গায়ের রঙ, দুই. যথেষ্ট পরিমান স্নেহ। এই স্নেহ কোথায় কোথায় বেশী থাকিলে স্নেহের পাত্রী হওয়া যায় সে বৃত্তান্তে আমি সযত্নে এড়াইয়া গেলাম বলিয়া ক্ষমা প্রাথর্ী। যারা এই পর্যন্ত আমার সাথে একমত পোষন করিয়া আসিয়াছেন তারা নিশ্চয়ই এই ব্যাপারেও একমত পোষন করিবেন যে রিক্সাওয়ালা না থাকিলে রোদে পুড়িয়া আমাদের রমনীরা নিতান্তই কাল্লু কুট কুট এবং স্নেহ বঞ্চিত হইতেন। যারা আমার সাথে একমত পোষন করেন নাই তাহাদের আমার কিছু বলার নাই, হয় তাহারা রিক্সা-সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত নন কিংবা দেশপ্রেমে দেশের কোন খারাপ কিছু সহ্য করিতে পারেন না।

([link|http://www.somewhereinblog.net/mahbubblog/post/16647|Pj
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৩:৩৩
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০



প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা তোমার স্কুল বন্ধ। তুমি তোমার নানা বাড়ি গেছো। এবার অনেকদিন থাকবে নানা বাড়ি। নার্সারি থেকে কেজি ওয়ানে উঠলে। বেতন বেড়েছে। খরচ বেড়েছে। আমি নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×