somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেখে এলেম বিরাট কানা

১৮ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বুয়েটের হলে এক ছেলে ছিল। যশোরের ওইদিককার। মাঝে মাঝে দৌড়ে আসত, হাতে একসেট কাগজের কর্ণারটা ধরা। কাগজগুলো চেপে ধরে আগিয়ে দিয়ে বলত, দোস দোস একটু কানা করে দেতো। প্রথম প্রথম পোলাপান একটু থতমত খেয়ে তাকিয়ে থাকত। বেশ খানিকক্ষন গবেষনার পর উদ্ধার করত যে 'কানা' মানে ছিদ্র বা গর্ত, অর্থাৎ সে কাগজে ছিদ্র করাতে চাচ্ছে। সেই থেকে তার নাম 'কানা ফয়সাল'।

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন গিয়ে আমরা তো সত্যিকার অর্থেই থ। এতো বড় ক্যানিয়ন হতে পারে সেটা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। আমরা গবেষনা করছিলাম বাংলায় গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের নাম কি দেয়া যেতে পারে? 'বিরাট গর্ত' কথাটা শুনে রাবি্ব নামের বন্ধুটার মনে পড়ে গেল 'কানা ফয়সালে'র কথা। তাই তার সম্মানেই আমরা একে 'বিরাট কানা' নামকরন করলাম।

আগের এক পোস্টেই বলেছি গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন তিনটি অংশে বিভক্ত। দক্ষিন, উত্তর এবং মাঝখান। কয়েকশত মাইল জুড়ে ছড়ানো, মাইলখানেক গভীর পর্বতমালার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে কলারাডো নদী। আমরা গিয়েছিলাম গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দক্ষিন অংশের টুরিস্ট এট্রাকশনে।

গাড়ী পার্ক করে ওখানকার লোকাল শাটল বাস ধরে বা হেঁটে হেঁটে পাহাড়ের মাইল চার পাঁচেক দেখার ব্যবস্থা। আমরা বাসে করে গিয়ে কিছুদুর পরপর স্পটগুলোতে থেমে দেখতে লাগলাম। একটু পরেই একটু একঘেয়েমী চলে আসল। সব জায়গায় তো সেই একই পাহাড়। যদি পাহাড় জয়ের জন্য যাওয়া যেত তাহলে একটা কথা ছিল। শুনলাম দুদিনের একটা ট্রেইল আছে, মাইলখানেক গভীর; ক্যানিয়নের নীচে নেমে কলারাডো নদীর জল ছুঁয়ে আবার ফিরে আসা। পথে আছে বিপৎজনক গিরীখাত, মাংশাসী পাহাড়ী বাঘ, র্যাটল স্নেক, শুকনো আবহাওয়ার কামড় আর রোমাঞ্চ। আহা আমার স্বপ্নের হাইকিং!

আরেকটা জিনিস মিস করেছি সেটা হলো হেলিকপ্টারে করে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ভ্রমন। তবে শুনলাম গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের গর্তের ভিতর নাকি নামতে দেয়না এখন। তাই কেমন যেন আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলাম। আর ঠিক চোখেও পড়েনি কোথায় সেই হেলিকপ্টার রাইড। সবকিছু মিলিয়ে আর চড়া হোল না সেটায়।

দুপুর তিনটে-চারটে নাগাদ রাবি্বর বউয়ের রান্না করা মজার খিচুড়ী খেয়ে আমরা রওনা দিলাম গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন থেকে পাশেই আছে উইলিয়ামস নামের একটা ছোট্ট শহর। সেখানে আছে আইম্যাক্স আর ন্যাশনাল জিওগ্রাফির তৈরী করা গ্রান্ড ক্যানিয়নের উপর একটি থ্রি-ডী ডকুমেন্টারী ছবির সিনেমা হল। সেটা দেখতে গেলাম। দেখলাম আসলে থ্রিডী কিছু নয়, স্ক্রিনটা এত-এত বিশাল যে মনে হয় আমরা ছবির ভিতর ঢুকে গেছি। তখন টুডি ছবিকেই থ্রি-ডী মনে হয়। যাই হোক, যদিও তেমন আহমরি তেমন কিছু নয় ছবিটা তারপরও খারাপ লাগেনি।

আধাঘন্টার ছবি দেখা শেষে আবার আমরা ফিরে চললাম গ্র্যান্ড ক্যানিয়েনের ভিতরের দিকে সূর্যাস্ত দেখার জন্য। তখন সূর্য প্রায় ডোবে ডোবে, তাই সবচে সুন্দর জায়গাটা দেখার জন্য বেশী ভিতরে দিকে যেতে পারলাম না। একটা স্পটে থেমে পটাপট কয়েকটা ছবি তুলে রওনা দিলাম ঘরের উদ্দেশ্যে। ফেরার পথে রাবি্ব আমাকে সাজেস্ট করছে, 'গিয়ে ব্লগ লিখো, দেখে এলেম বিরাট কানা'। আমরা সবাই হো হো করে হেসে উঠলাম। (ক্লোজআপহাসি)


ছবি পরিচিতি
-----------
1-4। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের বিভিন্ন দৃশ্য
5-6। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আমি ও মৌটুসী
7-8। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের আরও দৃশ্য
9। দূরে কলারাডো নদী
10। কলারাডো নদীর সামনে কাল্লু মামা
11। আমি ও মৌটুসী
12। সূর্যাস্তের সময় কাল্লু মামা
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ২:১০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাওরাত ও যুক্তি দিয়ে কথা বলুন - ইহুদীরা আত্মসমর্পন করবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:০০

গানঃ 'My Name Is Palestine' - Garth Hewitt
লিংকঃ Click This Link



জ্ঞানী মানুষ যুক্তি পছন্দ করেন। জ্ঞানী মানুষ অজ্ঞানতার বেড়াজাল থেকে নিজেকে বের করে যুক্তির মাপকাঠিতে নিজের জীবনকে সাজায় বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাময়িক পোস্ট: বিদায়ের আগে

লিখেছেন অর্ক, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৭



আমি নিজের লেখা ও অনুবাদ করা কিছু বই বের করতে চাই। এক্ষেত্রে কেউ কোনওভাবে সহযোগিতা করতে পারলে জানাবেন। গতকাল একজন নিয়মিত ব্লগারের মন্তব্যে ব্লগ বন্ধ হবার জোর সম্ভাবনার কথা জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×