somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাস ভেগাস ও ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্ক - 1

২১ শে মে, ২০০৬ রাত ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাস্টার্সের প্রথম সেমিস্টারটা যখন শেষ করলাম তখন ভীষন স্ট্রেসড আর টায়ার্ড। তাই সহপাঠি শিখ বন্ধু গাগান যখন প্রস্তাব করল লাস ভেগাস আর ইয়োসেমিটি ভ্রমনের তখন লুফে নিলাম প্রস্তাবটা।

লাস ভেগাস নিয়ে কি রকম ধারনা ছিল আমার সেটা আগে বলে নিই। বিভিন্ন লেখায় পড়ে, ছবিতে দেখে আমার ধারনা ছিল লাস ভেগাস - সিন সিটি, চরম পাপের জায়গা। ওখানে যারা যায় মদ খাওয়া, মেয়ে মানুষ এই নিয়ে কারবার তাদের। ভীষন বিচ্ছিরি নিশ্চয়ই ব্যাপারটা। তবু মনে মধ্যে যে বাঙালীর চোরা সহজাত আগ্রহটা ছিলনা তা নয়।

এই সুত্রে একটা ঘটনা বলে নেই। এইখানকার এক সিনিয়র আছেন। তার সাথে বেশ ঘোরা ফেরা করতাম। ভিসা হয়ে গেলেও তখনও আমার স্ত্রী আসেনি এখানে। এক উইকএন্ডে ইন্টেলের মাঠে ক্রিকেট খেলতে গেলাম ভাইয়াটার সাথে। পরে রাত 2 টা পর্যন্ত আরেকজনের বাসায় ব্যাডমিন্টন খেলে ফেরার পথে আমাকে ভাইয়াটা বলছেন চল যাবা নাকি লাস ভেগাস? আমার তৎক্ষনাত প্রতিক্রিয়া ছিল, 'কি বলেন ভাইয়া, আমি তো ম্যারেড। আমি লাস ভেগাস গিয়ে কি করব?' শুনে সেই ভাইয়া তো হাসবে না কাঁদবে বুঝছেন না। বললেন 'ম্যান, লাস ভেগাসে কি মানুষ খালি ঐসব করতে যায়?'

মূল ঘটনায় ফিরে আসা যাক। আমাদের প্ল্যানটা ছিল একরকম, প্রথমে ড্রাইভ করে সোজা লাস ভেগাস। সেখানে রাতটা কাটিয়ে পরের দিন সকালে রওনা দেব ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কের উদ্দেশ্যে। সেদিন রাতে পার্কে রাত কাটিয়ে দ্্বিতীয় দিন সকালে হাইকিং। দ্্বিতীয়দিন রাতে ওখানে একটা স্পটে ক্যাম্পিং করে তৃতীয়দিন সকালে বাড়ি ফেরত। বিরাট প্ল্যান। ঠিক করলাম ঢাকায় জানানো যাবেনা, যেতে দেবেনা তাহলে। সুতরাং চুপচাপ করে নিতে লাগলাম প্রস্তুতি। আমি তো মহা উৎসাহে এ উপলক্ষ্যে একটা ক্যামেরা কিনে ফেললাম। কিন্তু ক্যামেরা আর হাতে আসে না।

যেদিন যাব সেদিন বিকেলে আমার প্রফেসর বাঁধাল এক ফ্যাকড়া। কোন এক মিটিং এ যাবে, আমাকে আর ল্যাবের আরেকজনকে বলল তোমরা থাক আমি তোমাদের সাথে কথা বলব রিসার্চের ব্যাপারে। এদিকে আমাদের রওনা দেবার কথা বিকাল 4 টায়। সময় গড়িয়ে 5 টা - 6 টা হয়ে যাচ্ছে প্রফেসরের কোন খবর নেই। এইদিকে বন্ধুরা তাগাদা দিচ্ছে। এর মাঝে খবর পেলাম আমার ক্যামেরা চলে এসেছে। শেষে বিরক্ত হয়ে 7 টার সময় প্রফেসরকে না বলে রওনা দিলাম।

তাড়াহুড়া করে রওনা দিলে যা হয়, আমার দায়িত্ব ছিল রোড ডিরেকশন গুলো নেয়া। আমি সেগুলো বাড়িতে ফেলে চলে এসেছি। ভাগ্যিস কিছুদুর যাবার পর সেটা মনে পড়ল, আবার ফিরে এসে সেগুলো নিলাম। এত বিরাট জার্নি ম্যাপ, রোড ডিরেকশন এগুলো না নিলে পথে বেরুনোই অসম্ভব।

এই ফাঁকে একটা তথ্য দিয়ে রাখি। আমাদের প্ল্যানটা ছিল সামারের লং উইকএন্ডে। এই সময়টা আসলে অনেকেই লং ট্রিপ প্ল্যান করে। আর খুব একসিডেন্টও হয়। আমাদের সাথেই সেদিন রওনা দিল আরেকটা বড় গ্রুপ, ইন্ডিয়ানদের। ওরা দুই মাইক্রোবাসে করে যাচ্ছিল। আমাদের সাথেই মাইক্রো ভাড়া করল তারা। ওরাও যাবে লাস ভেগাস হয়ে অন্য কোথাও।

যাই হোক, যাবার পথে আবার এক ফ্যাঁকড়া। মাঝখানে রাস্তা বন্ধ। সুতরাং রোড ডিরেকশন ভেঙ্গে বেরিয়ে আবার কোনভাবে মূল রাস্তার সাথে মার্জ করতে হবে। সে মূল রাস্তা আর খুঁজেই পাইনা আমরা। প্রায় ঘন্টাখানেক চর্কির মত পাক খেয়ে খেয়ে অবশেষে উঠলাম মুল রাস্তায়।

অ্যারিজোনা থেকে লাস ভেগাস, মানে নেভাডা স্টেটে যাবার পথে পড়ে হোভার ড্যাম নামে একটা ড্যাম। একটা ড্যাম দেখতে এত সুন্দর হতে পারে আগে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। আমার ক্যামেরায় তোলা ছবি গুলো নেই। কি ভাবে হারালো সেটা পরে বলব। একটাই ছবি আছে জায়গাটার, আরেকজনের ক্যামেরায় তোলা তাও ভাল দেখা যাচ্ছেনা জায়গাটা (ছবি - 2)।

ওখানটায় আধা ঘন্টার মত কাটিয়ে আবার রওনা দিলাম লাস ভেগাসে দিকে। তখন বাজে প্রায় রাত 12টা। পাপের শহর লাস ভেগাস কি খোলা থাকবে যখন আমরা পৌছাব? নাকি সবাই থাকবে ঘুমে বিভোর? এত কষ্ট করে যাওয়াটা কি বিফলেই যাবে?

ছবি পরিচিতি
1। ইন্টারনেট থেকে পাওয়া লাস ভেগাসের ছবি
2। হোভার ড্যামের সামনে আমরা
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×