সহজভাবে বললে আমরা আজ যে পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি তার একজন পর্যবেক্ষক তিনি। আমরা যে পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করছি তার ভাষ্যকারও তিনি। মিডিয়াতাড়িত নতুন পৃথিবীতে পন্য, কনিজিউমার আর নাগরিকদের নানামাত্রিক সম্পর্কের তাত্ত্বিক রূপকার ও দার্শনিক বদ্রিলার। এই সোসাইটি কীভাবে একজিন মানুষের পরিচিয় তৈরি করে? বদ্রিলার বলেন তুমি যা ক্রয় করো তা-ই তোমার আইডেন্টিটি। তাকে বলা হতো পোস্টমর্ডান গুরু। পোস্টমডার্নিজন ও পোস্টস্ট্রাকচারালিজম তিনি কাজ করেছেন। তিনিই প্রচলন ঘটিয়েছেন হাইপাররিয়েলিটি শব্দটির। যে ধারণাটির অন্তস্থলে শপিং মল, বিনোদন পার্ক, টেলিভিশন সিনেমা আর খবরের তৈরি করা ফিগারগুলো আমাদের সাধারণ জীবনের অর্থ ও প্রকৃত পরিস্থতিকে নতুন করে নির্মাণ করছে। আর যখন ইলিউশন শাসন করে তখন মানুষ রিয়েলিটির অনুসন্ধান বন্ধ করে দেয়।
তিনি এখনকার মিডিয়া বিস্ফোরণকে আখ্যায়িত করেছেন যোগাযোগের শীর্ষসুখ হিসাবে। তিনি বলেছিলেন, দস্বাধীনতা কী? স্বাধীনতা হলো হয় একটি গাড়ি কেনা নয়তো অন্য এরকটি গাড়ি কেনা। এটাই স্বাধীনতার ভান।'
বদ্রিলার বলেন, বর্তমান দগ্লোবাল' সোসাইটিতে যোগাযোগ মাধ্যমের উত্থান অর্থ বা মানের বহুবিস্তার ঘটিয়েছে। অর্থের আপন সূত্র ভিন্নকাতে প্রবাহিত হয়েছে। মার্শাল ম্যাকলুহানের গ্লোবাল ভিলেজ নয়, অন্য একটি পৃথিবীতে যেখানে অর্থ আক্রান্ত হয়েছে। সমাজ পরিবর্তিত হয়েছে জড় জনসমষ্টিতে। বাস্তবতা তার অস্তিত্বের নিজস্ব পরিচয়সূত্রগুলো হারিয়ে ফেলেছে।
সমকালীন পৃথিবীর খুব কম বিষয়ই আছে যা বদ্রিলার অ্যাড্রেস করেননি। কিন্তু খুব বেশি পাঠকের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটেনি। কারণ তার লেখা কঠিন। বিশ্লেষণের মাত্রা এতই বহুধাবিস্তৃত যে তা নিয়ে কথা বলা রিস্কি। বদ্রিলারও এ বিষয়টি নিয়ে সচেতন ছিলেন। তিনি বলেন, আমি যা লিখতে যাচ্ছি তার খুব কম খুব কমই হয়তো বোঝা যাবে। কিন্তু সেটা আমার সমস্যা।
তারপরও বদ্রিলারের যেটুকু বোঝা যায় সেটুকু না বোঝা নিশ্চয়ই আমাদের সমস্যা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



