somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জঁ বদ্রিলারের সাক্ষাৎকার (হাসিবের জন্য)

১৫ ই মার্চ, ২০০৭ ভোর ৪:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সবচেয়ে আলোচিত ফ্রেঞ্চ দার্শনিক হিসেবে আপনি কি সেখানকার নাগরিক অসন্তোষ পরিস্থিতি বিষয়ে ভেতরকার কোনো তথ্য দিতে পারেন? কোন বিষয়টি তরুণদের একটি প্রজন্মকে বাকী দেশের বিরুদ্ধে দাড় করিয়ে দিয়েছে?

এটা আরও খারাপ খারাপ ও খারাপের দিকে যাবে। অনেক দিন ধরে তুলনামূলকভাবে সৌহার্দ্যমূলক সহাবস্থান বা সহঅসত্দিত্ব ছিল। কিন্তু ফেঞ্চরা মুসলিমদের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এখন তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দেশ হিসেবে আমাদের আত্মপরিচয়ের জৈবিক চেতনাতেই বিচ্ছেদ ঘটে গেছে।

সম্ভবত এটা অভাবনীয়। গত বছর যখন ফ্রেঞ্চ সরকার সরকারি স্কুলে মাথার আচ্ছাদন বা হিজাব ও সব ধরনের ধর্মীয় পোশাক নিষিদ্ধ করলো তখন ভীষণ অবাক হয়েছিলাম আমরা।

হ্যা। আমেরিকায় ইমিগ্রেশনের ইতিহাস আরও লম্বা। আমেরিকা জাতিগত সম্প্রদায়গুলোর দ্বারা নির্মিত। তারা একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করলেও আমেরিকা এখনও আমেরিকাই। ইউনাইটেড স্টেটস-এ কোনো আমেরিকান বাস না করলেও আমেরিকা আমেরিকাই থাকবে। ফ্রান্স শুধু একটি দেশ, কিন্তু আমেরিকা একটি ধারণা।

আপনি কি বলতে চান আমেরিকা গণতন্ত্রের আদর্শ রূপকে উপস্থাপন করে?

না। ক্ষমতার ছদ্মবেশের (সিমুলেশন) আদর্শ।

এই 76 বছর বয়সেও আপনি কি আপনার বিখ্যাত থিওরি সিমুলেশন ও সিমুলাক্রামের কথা বলে চলেছেন? যে থিওরি অনুসারে মিডিয়া ইমেজগুলোকে বাস্তবের চেয়ে বাস্তব ও গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়।

আমাদের সব মূল্যবোধই ছদ্মবেশ আচ্ছাদিত। স্বাধীনতা কি? আমাদের স্বাধীনতা আছে হয় একটি গাড়ি নয়তো অন্য আরেকটি গাড়ি কেনার। এটা হলো স্বাধীনতার ভান।

অর্থাৎ স্বাধীনতার প্রসার ঘটাবার জন্য আমেরিকা ইরাক আক্রমণ করেছে এটা আপনি বিশ্বাস করেন না?

আমরা যা চাই তা হলো আমরা যে ভাড়ামো ও পরিহাসের মধ্যে আছি তাতে সবাইকে টেনে আনতে। একই ভানের মধ্যে সভ্যতার বাকী অংশকে যুক্ত করতে। এর মাধ্যমে পুরো পৃথিবীটাই কৃত্রিম হয়ে পড়ে।আমরা সবাই ক্ষমতাধর হয়ে যাই। এটা একটা খেলা।

আপনি যখন বলেন 'আমরা', তখন কার কথা বোঝাতে চান? আপনার নতুন বই দি কন্সপিরেসি অফ আর্টে আপনি আমেরিকার ওপর যথেষ্ট খড়গহস্ত ছিলেন।

ফ্রান্স হলো আমেরিকান সংস্কৃতির বাইপ্রোডাক্ট। আমরা গেস্নাবালাইজড। আমরা সবাই এর মধ্যে আছি। যখন ইরাক যুদ্ধ প্রসঙ্গে জ্যাক শিরাক জর্জ বুশকে না করেন তখন সেটা একটা মায়া। ফ্রেঞ্চরা আলাদা এটা বোঝাতেই এটা করা হয়। কিন্তু ফ্রেঞ্চদের মধ্যে আলাদা কিছু নেই।

সত্য হলো। ফ্রান্স ইরাকে সৈন্য পাঠায়নি। অগণিত বাস্তব সৈন্য। যারা তাদের পরিবার ও রাষ্ট্রের কাছে বাস্তব।

তা তো বটেই। আমরা এই যুদ্ধের 'বিরুদ্ধে' কারণ এটা আমাদের যুদ্ধ নয়। কিন্তু আলজেরিয়ার ক্ষেত্রে একই ঘটনা ছিল। আমরা যখন আলজেনিয়ান যুদ্ধ লড়েছি তখন আমেরিকা সৈন্য পাঠায়নি। ফ্রান্স ও আমেরিকা একই পক্ষ। পক্ষ তো একটাই।

লোকে ফ্রেঞ্চ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে কানত্দ হয়ে পড়েছে, একথা কি খুব সরলীকরণ হয়ে যায় না?
ফ্রেঞ্চ বুদ্ধিজীবীতা বলে আর কিছু নেই। আপনি যাদের ফ্রেঞ্চ বুদ্ধিজীবী বলছেন তারা মিডিয়ার দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেছে। তারা টেলিভিশনে কথা বলে, প্রেসে কথা বলে। কিন্তু তারা আর নিজেদের মধ্যে কথা বলে না।

আপনার কি মনে হয় আমেরিকায় বুদ্ধিজীবী আছে? আমারদের কাছে সুসান সনটাগ ও নোয়াম চমস্কি ছিলেন। কিন্তু ফ্রেঞ্চশভিনিজমের আমরা শুধু নিজেদেরকেই গণ্য করি। বাইরে থেকে কি আসছে তার দিকে আমরা মনোযোগ দেই না। যা নিজেরা আবিষ্কার করি তাকেই শুধু গ্রহণ করি।

আপনি কি সুসান সনটাগের বন্ধু ছিলেন?

মাঝে মাঝে আমাদের দেখা হতো। কিন্তু শেষবারেরটা ছিল ভয়াবহ। আমি বাসত্দবের অস্তিত্ব আছে এটা মানি বলে তিনি টরান্টোতে একটা কনফারেন্সে আমাকে ধুয়ে দিলেন ।

আমেরিকান লেখকদের কোনো লেখা আপনি পড়েছেন?

আমি বহু আমেরিকান লেখকের লেখা পড়েছি। জন আপডাইক, ফিলিপ রথ, ট্রুম্যান কাপোটে। ফ্রেঞ্চ ফিকশনের চেয়ে আমেরিকান ফিকশন আমার বেশি ভাল লাগে।

সম্ভবত ফ্রেঞ্চ সাহিত্য ফ্রেঞ্চ দর্শনের খপ্পড়ে পড়েছে।

দুঃখজনকভাবে ফ্রেঞ্চ সাহিত্য নিজে থেকেই ক্ষয়ে গেছে। ফ্রেঞ্চ তত্ত্বের মরার একে অপেক্ষা করতে হয়নি। এটা নিজে থেকে মরে গেছে।

আমাদের এখানে কেউ কেউ মনে করেন কলা বিষয়ক অনেক পাঠক্রম ডিকন্সট্রাকশন ও অন্যান্য ফ্রেঞ্চ থিওরির প্রভাবে গোলস্নায় গেছে।

এটা হলো ফ্রেঞ্চদের একটা উপহার। তারা আমেরিকানদের এমন একটা ভাষা দিয়েছে যার দরকার ছিল না তাদের। এটা হলো স্ট্যাচু অফ লিবার্টির মতো। কারও জন্যই ফ্রেঞ্চ তত্ত্বের দরকার নাই।

অনুবাদ : মাহবুব মোর্শেদ
সাক্ষাৎকারটি নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়েছিল।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:২২
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন ইকারুস: জেনেভার ছায়া

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বালি অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে যখন আরিয়ান, তানভীর ও বর্ষা ফিরে এলো, তখনো বাইরের আকাশ থমথমে। বালি থেকে উদ্ধার করা ৬০% ডেটায় একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরাগের বুকে আমার ছোট ভাইদের লাশ ২০২৪-এর উপহার ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



২০২৪ আমাদের নতুন করে শত্রু মিত্র চিনতে শিখিয়েছে। আমি কোনো করুনা, সান্ত্বনা কিংবা বিচারের দাবি নিয়ে আজকের এই ক্ষুদ্র পোস্ট লিখতে চাই না।শুধু সময়ের স্বাক্ষী হিসেবে একটু আচর কেটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্রিকেটের রাজাকার ট্যাগ পাচ্ছেন বুলবুল আহমেদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এবার বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

বাধ্যতামূলক ভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়ন করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে অবশ্যই নবায়ন করতে হতে পারে।
বর্তমানে আইন অনুযায়ী এনআইডি নবায়নের সুযোগ থাকলেও সেটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যে-সব সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার সম্ভাবনা একেবারেই নাই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২

এ দলটি ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৮ ও ২০২২ সালে তারা মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×