somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্য লেখার চেষ্টা

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রম্য
.
বিয়েবাড়ি
.
আটা-ময়দার দাম কেন বেড়েছে তার ইতিহাস হয়ত বিয়েবাড়িতে গেলেই বোঝা যায়। চারিদিকে এত্ত সুন্দ্রি ঘুরঘুর করছে। কেউ আটা কেউবা সুজি, আরে ভাই একটু হইলেও তো বুঝি।
বন্ধুর বোনের বিয়ে। বরযাত্রী আসবে রাতে। এখন সকাল গড়িয়ে দুপুর। আত্মীয়স্বজন অনেকে এসে ভোজসভায় যোগ দিয়েছেন। আমরা ফ্রেন্ডরা সবাই যে যার মত হেল্প করে একসাথেই খেতে বসলাম। জীবনে যত অভিজ্ঞতা হয়েছে এর মধ্যে এটা ছিল অন্যরকম।
দুপুরে সবাই মিলে খেতে বসেই বিপত্তিটা বাঁধল। দেখি আমার পাশের চেয়ারে বসা সোহাগ পাশের টেবিলে তাকাচ্ছে আর মুচকি মুচকি হাসছে। ঘটনা কি দেখার জন্যে তাকাতেই দেখতে পেলাম,
পাশের টেবিলে এক আংকেল তার ফ্যামিলিসহ বসেছেন। সাথে তেনার দুই-দুইজন গুণধর মেয়েও আছে।
হায়রে,
তখনই একটা ঘটনা ঘটে গেল। আন্টি জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢালছিল। হঠাৎ জগ গেল উলটে,
তার এক মেয়ের পাশে সব লাফাতে লাফাতে চলে গেল। তার মেয়েও তড়াং করে ঝেপে উঠে পাশে চলে গেল।
তখন পর্যন্ত সবকিছুই ঠিক ছিল। এবার মেয়েটা একটু সরে বসল। কিন্তু ভাগ্য খারাপ হলে যা হয় আরকি। এবার মেয়েটা বসছে আমার ঠিক বিপরীত পার্শ্বে। একদিম সোজাসুজি। খেতে বসে তারা আগেও গল্প করছিল, আর এখনো করছে নো প্রব্লেম। কিন্তু কথা বলছে সাথে আমার দিকে তাকাচ্ছে আর মুচকি মুচকি হাসছে। কি সাংঘাতিক অবস্থা।
কিছুক্ষণ পর দেখে মেয়ের সাথে বাবাও আমার দিকে তাকাচ্ছেন।
কিন্তু সেই তাকানোতে কেমন যেন একটা অপরাধী অপরাধী ভাব ছিল। এভাবে কেউ তাকিয়ে থাকলে কি করা উচিৎ আমি জানিনা। তাই চুপ্নকরে খাবার গিলছিলাম। কিন্তু খাবারের স্বাদ পাচ্ছিনা।
আর এদিকে তো বন্ধুরা হাসাহাসি করছে। তাদের ভাব দেখে মনে হচ্ছে , এখানে বিনে পয়সায় সার্কাস দেখানো হচ্ছে।
পাশ থেকে রিহান বলে উঠল আংকেল কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল।
.
খাওয়া শেষে বাইরে এলাম। দেখলাম আংকেল ও পিছে পিছে আসছেন। অবস্থা তো ভালো না। কি আর করা। সামনের দিকে জলদি হাটা শুরু করলাম। ঠিক যেমনটা ভেবেছিলাম তেমনটাই। আংকেলও আমার পিছু নিয়েছেন। একটি ফাঁকা জায়গাতে পৌছুতেই তিনি আমাকে ডাক দিলেন। "এই ছেলে এদিকে শুনে যাও।"
আমার মনের মধ্যে তখন ঢোল-তবলা সব বাজছিল। শুধু বুঝতে পারছিলাম হার্টবিট বাড়ছিল।
আমিও সাথে সাথে ঘুরে বললাম, "আংকেল আমাকে ডাকেছেন।"
বেঁচারা বোধহয় মনে মনে ক্ষেপে গেলেন। আমাকে কিছু একটা বলার চেষ্টা করতেই পেছনের দিকে একবার তাকিয়েই আমার দিকে দৌড়ে আসতে লাগলেন। তখন আমারেও আর পায় কে,
আমিও দৌড় আর সাথে মেয়ের বাপও দৌড়।
কে যেন বলেছিলো,
ভালো একটা জব থাকলে মেয়ের বাবা-মা, এমনকি বান্ধিবিও দৌড়ায়।
কিন্তু আমারতো পড়ালেখাই শেষ হলোনা।
আর এর মাঝেই দোড়াদৌড়ি শুরু হয়ে গেছে।
মনে মনে এটা ভেবে নিজেকে শান্তনা দিলাম।
আজ অবশ্য মেয়ের বাবা সেই কারণে দৌড়াচ্ছেনা। ঘটনা হচ্ছে অন্য কিছু।
লোকটা নিঃসন্দেহে ভালো দৌড়ায়।
সামনে আমি, আমার পেছনে আংকেল আর আংকেল এর পেছনে তিনটা কুকুর।
একটা খয়েরী , একটা কালো-সাদা, আরেকটা হলদে সাদা ।
কি ভয়ংকর তাদের চাহনি। দেখলেই হার্ট অটোমেটিক গায়েব হয়ে যাবে। এই টাইপ অবস্থা।
.
অনেক দিন দৌড়াইনা। তার উপর আজ কুকুরের তাড়া খাওয়া । জীবনে একবারেই কুকুরের দৌড়ানি খেয়েছিলাম। তখন পায়ে কামড় খেতে খেতে বেঁচে গেছি।
কুকুরের সাথে দৌড়ে পেরে ওঠার কথা নয়। কিন্তু এই কুকুরগুলো কিছুক্ষণ দৌড়ানি দিয়েই থামছে। আবার দৌড়াচ্ছে। বুঝেন অবস্থা।
সামনে একটা ছোটো-খাটো গাছ দেখে মনের মাঝে আশার বাত্তি দপ করে জ্বলে উঠল। শেষ কবে গাছে উঠেছিলাম মনে নেই। তবে আজ উঠতেই হবে।
যেই ভাবা সেই কাজ। গাছের নিচে গিয়েই এক লাফে উঠতে গিয়েই ঝামেলায় পড়লাম। যতটা সোজা ভেবেছিলাম আসলে ততটা সোজা না। কোনোমতে উঠে পড়লাম। গাছের উপরের একটা ডাল ধরে উপরে উঠে গেলাম একদম উপরে। গাছের আর উপরে উঠা যাবেনা। আপাতত বিপদমুক্ত। আমারে দেইখা মেয়ের বাপও উপরে উইঠে গেছে । কিন্তু গাছ ছোটো হওয়ায় কোনোমতে কুকুরের নাগালমুক্ত।
তিনটা কুকুর এসে গাছের নিচে বসে পড়ল। আমি আর মেয়ের বাবা গাছেই আটকা পড়লাম।
মেয়ের বাবা এবার কথা শুরু করলেন।
.
-আসলে বাবা তোমার সাথে কথা বলতে এসে এরকম হবে কখনো ভাবিনি।
- (মনে মনে কইলাম, হু আমি ভেবেছি। আরও ভাবছিলাম পুকুরের মধ্যে ঝাপ দিব, কিন্তু হয়নি।)
একটু হেসে বললাম, কার ভাগ্যে কখন কি আছে কেউ জানেনা। কিন্তু কি কথা বলবেন বলে বলছিলেন?
- তখন খাবার টেবিল এ আমার মেয়ে আসলে তোমার দিকে ওভাবে তাকাচ্ছিল না।
ওর চোখে একটু প্রব্লেম। তাই এরকম হয়েছে। অন্য কিছু ভেবোনা। আমি এই কথাটা বলার জন্যেই এসেছিলাম
.
এত্ত সুন্দর একটা ভালোবাসার গল্পের অকাল মৃত্যুতে আমার মাথায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ল। কোনোমতে নিজেকে সামলিয়ে বললাম, ইটজ ওকে আংকেল।
পকেটে হাত দিতে দেখি মোবাইল নেই। মনে পড়ল, মোবাইল আমার ফ্রেন্ড এর রুমে চার্জে লাগিয়েছি।
আংকেলের মোবাইল নাকি তার ছোট ছেলের কাছে। কি আর করা এই জনমানব শূন্য জায়গায় আস্তে আস্তে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। আর আমরা গাছে বসে আছি। আংকেল নাকি ভালো গান গাইতে পারেন। একবার শুনাতে বলতেই এই যে শুরু করেছে আর শেষ হয়নি। গান চলতেই আছে, একটা শেষ হচ্ছে তো আরেকটা চলছে।
কত্ত কষ্টের মধ্যে আছি বুঝাতে পারবনা। মাহফুজুর এর গান শুনালেও শুনতাম। কিন্তু আর শুনতে মন চাইছেনা। থামতে বলতেও পারছিনা। সাথে এখন শুরু হয়েছে মশার কামড়। গাছের নিচে কুকুরগুলো শুয়ে আছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে বিয়ে বাড়িতে যথেষ্ট খেয়েছে। আহা,
সবাই বিয়ে বাড়ি নিয়ে ব্যস্ত। আর আমরা গাছের উপর বইসা আছি ।
এরকম সন্ধ্যায় এরকম গান শোনার সময় কি করতে হয় তা আমার জানা নেই।
আপাতত শুধু শুনেই যাচ্ছি,
আর মাঝে মাঝে বাহ বাহ বলছি।
জীবন সুন্দর।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামায়াতের দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ রাজনীতি

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৮


১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী ‘জামায়াতে ইসলামী’ গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধার্মিক কে অনুসরণ করুন ভন্ডকে নয় ।

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮

আমরা প্রায়ই নিজেদের ধর্মপ্রাণ জাতি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি। কিন্তু প্রশ্ন হলো ধর্ম কি সত্যিই আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে পারছে, নাকি কিছু অসভ্য মানুষ ধর্মকে নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যাপাসিটি চার্জের পর এবার নজর খাম্বায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৩


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই । বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালান কিংবা যেসব পরিবারে কেবল একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আছেন, তাদের মাসে প্রিপেইড মিটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৯



কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদটি সংবিধানের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই বেশি হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×