somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহফুজ
আমি হচ্ছি কানা কলসির মতো। যতোই পানি ঢালা হোক পরিপূর্ণ হয় না। জীবনে যা যা চেয়েছি তার সবই পেয়েছি বললে ভুল হবে না কিন্তু কিছুই ধরে রাখতে পারিনি। পেয়ে হারানোর তীব্র যন্ত্রণা আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে।

ইয়াবা : দমন অসম্ভব

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৩:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শিরোনাম দেখে নিশ্চই কিঞ্চিৎ অবাক হয়েছেন। নেগেটিভ এপ্রোচ নিয়ে স্টার্টিং দেখে বিরক্তি বোধও করবেন স্বাভাবিক। তবে আমি চেষ্টা করবো শিরোনাম নিয়ে আপনাকেও কিছুটা দ্বিধান্বিত করতে বাস্তবতা ব্যাখ্যা করে।

ইয়াবা কি সেটা ইদানীং সবারই জানা হয়ে গেছে ; তবুও একটু বলি। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার তার বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসকদের এমন কিছু তৈরী করতে বলেছিলো যেটার মাধ্যমে সৈন্যবাহিনী প্রচুর শক্তি পাবে, উদ্যমী হবে, ক্লান্ত হবেনা। অনেক গবেষণার মাধ্যবে তখন তৈরী হয় হিটলার ড্রাগস বর্তমানে যা বিভিন্ন পর্যায় এবং সংষ্কারের পথ মাড়িয়ে ইয়াবা ট্যাবলেটের রূপ লাভ করেছে। বাবা নামেই বাংলাদেশে পরিচিতি বেশী ইয়াবার। ইতিহাসের খুনী হিটলার মারা গেলেও হিটলারের ধ্বংসযজ্ঞ ঠিকই চলছে তার রেখে যাওয়া এই ইয়াবা নামক অভিশাপে। যুদ্ধের সময় কিংবা পরবর্তীতে হিটলার ড্রাগস বলা হতো ইয়াবা কে।

এবার আসি কেন নির্মূল অসম্ভব সে প্রশঙ্গে-
মনে করি এক তরুন, যার নাম অভি। ইয়াবা তার ফেভারিট ড্রাগস। ভয়াবহ রকম আসক্ত হয়ে গিয়ে অভি একদিন উপলব্ধি করলো, এই মরণ নেশা শুধু তার নয়, আরো যারা আসক্ত তাদেরকেও ছাড়াতে হবে। কিন্তু কিভাবে? চিন্তাভাবনা করে সে একটা রাস্তা বের করলো। তার যুক্তি হচ্ছে, ইয়াবার সহজলভ্যতাই এর বিস্তারের প্রধান কারণ। যদি ইয়াবা না পাওয়া যায় তাহলে তো কেউ তা খাবেনা কিংবা নেবেনা। সে একটা তালিকা তৈরী করলো। এপর্যন্ত সে যতো জায়গা থেকে ইয়াবা কিনেছে তার তালিকা এবং তার জানা মতে কারা সেখান থেকে ইয়াবা এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্য নেয় তাদের তালিকা। মোটকথা সে বলতে গেলে একটা আর্টিকেলই করে ফেললো এর উপর। তারপর পুলিশের সাথে গোপনে যোগাযোগ করলো একদিন। পুলিশ তাকে বাহবা দিলো খুব, তার স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি রেকর্ড করে রাখলো। সবশেষে অভির ঠিকানা, পরিবারের পরিচয়, প্রয়োজনীয় যোগাযোগের মাধ্যম নোট করে তাকে বিদায় দিলো।

অভি সেদিন রাতে বাসায় এসে খুব শান্তির একটা দিলো। নিজের প্রতি নিজের একটা শ্রদ্ধাবোধ তৈরী হয়েছে তার। সুন্দর এক আগামীর স্বপ্নে বিভোর হয়ে ঘুমালো অভি।

পরদিন সকালে, অভি তখনো ঘুম থেকে উঠেনি। তার মা এসে তাকে ডেকে তুলে বললেন, অভি বাসায় পুলিশ এসেছে। তোর সাথে কথা বলতে চায়। অভি ভাবলো গতকালকের বিষয়টা নিয়ে নিশ্চই কোনো কথা। হাত মুখ ধুয়ে খুব স্বাভাবিক ভাবেই ড্রইং রুমে গেলো সে। পুলিশ, তবে সে যাদের আশা করেছিলো তারা না! তাকে দেখেই সিনিয়র অফিসার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি অভি?
-জ্বি স্যার।
-তোমার বাসা সার্চ করতে এসেছি।
-কিন্তু স্যার, আমি তো গতকাল....
-চুপ কোন কথা না, তোমার ঘর থেকেই শুরু হবে। সেন্ট্রি যাও,ভালো করে দেখবে কিছু পাওয়া যায় কি না।
দুই সেন্ট্রি অভির মাকে ঘর দেখিয়ে দিতে বলে উনার সাথে গেলো।
-তুমি চুপ করে এখানে বসে থাকো।
-স্যার আপনারা ভুল করছেন।
-বললামনা একদম চুপ।
মিনিট দুয়েক পরেই সেন্ট্রি দুইজন ফেরত এলো।
-স্যার পেয়েছি, পেয়েছি!!

মেকি একটা উত্তেজনা ওদের চোখেমুখে। একটা পলিথিনের ছোট প্যাকেট এগিয়ে দিলো অফিসারের দিকে। অভির সামনে সেটা খোলা হলো। অভি বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে আছে। ভাবছে সত্যি কি ঘটছে এসব না কল্পনা। সেই প্যাকেটে ৫ টা ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেলো! অভির মাকে যেন নিস্তব্ধতা ঘিরে ধরেছে, নির্বাক তাকিয়ে আছেন তিনি।

সবচাইতে বেশী অবাক হয়েছে অভি। সে ১০০ ভাগ নিশ্চিত এই ট্যাবলেট তার নয়, প্রায় এক সপ্তাহ ইয়াবার আস্তানাগুলোর ধারেকাছেও যায়নি অভি।

-এই অবস্থা তাহলে? নিজের ঘরে ইয়াবা রেখে সাধু সাজতে চাও। নিজে খাও আবার অন্যের শাস্তি চাও। কি, ব্যবসা করো ইয়াবার, নিজের ব্যবসা চাঙ্গা করার ফিকির তাই না?

-আল্লাহর কসম স্যার এগুলো আমার না।

চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে অভির, সাথে তার মায়েরও।

-কসম যা করার থানায় গিয়ে করবে, চলো।
টেনে হিচড়ে নিয়ে যাওয়া হলো অভিকে।

মামলা ঠুকে দেয়া হলো অভির বিরুদ্ধে, ইয়াবার ব্যবসায়ী উল্লেখ করে।

কেন আর কিভাবে এমন হলো আইডিয়া করতে পারছেন পাঠক? যে সমাজ থেকে ইয়াবা উৎখাত করতে চাইলো তার ঘরে ইয়াবা আসলো কিভাবে? অথচ সে তো সপ্তাহখানেক হলো ইয়াবা নিচ্ছেনা! সে কিভাবে বনে গেলো একরাতে ইয়াবার ব্যবসায়ী।

আসলে ইয়াবা কিংবা মাদক লেনদেনের প্রতিটা স্পট প্রশাসনের দেখা এবং জানা। প্রশাসনের নখদর্পণেই চলে এই মরণের আমদানিরপ্তানি, বেচাকেনা ইত্যাদি। প্রশাসন সেখানে বাঁধা না দিয়ে বরং মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা প্রদান করে মাসিক কিংবা বিভিন্ন টাইপের, বড় অংকের টাকার বিনিময়ে। বোকা অভি সেটা বুঝতে পারেনি। তার সহজ সরলতার কোন মূল্য দেয়নি পুলিশ প্রশাসন। সে যে তথ্য দিয়েছিলো তা জানানো হয় সকল ইয়াবা ব্যবসায়ীদের। অত:পর ব্যবসায়ীদের নির্দেশে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে, ছোট একটা নাটক সাজিয়ে তাই পুলিশ অভিকে গ্রেফতার করে।

এবার পাঠক, আপনারাই বলুন পরিস্থিতি যখন এই পর্যায়ে তখন কিভাবে সম্ভব মাদক প্রতিরোধ? আপনি যতই সচেতন হোন, সাহসী হোন, প্রতিবাদী হোন, যে কোনো অপরাধ দমনে প্রশাসন, বিশেষ করে পুলিশের সাহায্য আপনাকে নিতেই হবে। তখন পুলিশ তাদের স্বার্থ রক্ষায় আপনার অভিযোগ অনুযায়ী পদক্ষেপ না নিয়ে উলটো আপনাকেই বিপদে ফেললে কি করার থাকে?

দিনকে দিন মাদকদ্রব্য বিশেষ করে ইয়াবা যে অপ্রতিরোধ্য গতিতে বিস্তার হচ্ছে তাতে আমি ভয়াবহ এক বাংলাদেশের চিত্র দেখতে পাচ্ছি। অতিসত্বর সামাজিক, প্রশাসনিক, পারিবারিক, ব্যক্তিগত এবং জাতীয় পর্যায়ে ইয়াবার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই হবে; নয়তো দেশটা ধবংস হবে, মাতৃভূমি হারাবে তার গরিমা, ঐতিহ্য আর ইতিহাস। যুক্তি,পরামর্শ করে প্লিজ যে যেখানে আছেন সেখান থেকেই কৌশলে কিছু করার চেষ্টা করুন। পরিবারের সকল সদস্য, ছাত্র, চাকুরীজীবী, কোনকিছুতে ব্যর্থ এবং প্রায়সময় একাএকা বদ্ধঘরে পড়ে থাকা সদস্যদের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন। বন্ধুবান্ধবদেরদের চলাফেরা কিংবা আচারব্যবহারের হঠাৎ পরিবর্তনের তথ্য তার পরিবারকে জানান। কেউ টাকা পয়সা ধার চাইলে, বারবার প্রশ্ন করুন, কেন টাকার দরকার, এইসব ছোটছোট এওয়ার্নেসগুলো হয়তোবা বড় রকমের সাহায্য আনতে পারে। আর দীর্ঘায়িত করছিনা, কষ্ট করে পড়ুন, ভাবুন, যুক্তি দেখান নিজে নিজেকেই, তারপর শেয়ার করুন কি করণীয় সবার ইয়াবার ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে মুক্তি লাভের জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৩:২৯
৮টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×