আমরা ৭১ পরবর্তী বাংলাদেশীরা শিখেছি পাকিস্তানীদের ঘৃণা করতে কিন্তু শিখিনি নিজের মাতৃভূমি, মা, দেশটাকে ভালোবাসা। বলতে দ্বিধা নেই বিন্দুমাত্র, এই দেশে রাজনীতি নামের সত্যিই কিছু থাকলে, ভারত প্রস্তাব দেয়া তো দূর, সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল স্থাপনের চিন্তা স্বপ্ন দেখেও ভয় পেতো। এই স্বাধীন দেশের ভেতরে আমরা দুই বিভক্ত জাতি। প্রথমে পাকিস্তান বিদ্বেষী, দ্বিতীয় দলে ভারত বিদ্বেষী।
একমাত্র রাজনৈতিক আদর্শ আর মুক্তিযুদ্ধের মিথ্যা চেতনার আড়ালে একদল নিজের মায়ের বুকে ছুরি চালানোতেও কোন প্রতিবাদ করেনা। প্রতিবাদ করেনা রামপাল ইস্যুতে, নীরব থাকে সীমান্তের হত্যাযজ্ঞে। অন্যদল পাকিস্তানকে মুসলিম রাষ্ট্র আখ্যা দিয়ে ক্ষমা করে দিতে চায় ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুতে। এই বিভক্তির কারণে আমরা স্বাধীন দেশে পরাধীন আজ, স্বাধীনতা এসেছিলো কিন্তু আমরা আপ্যায়ন করার সঠিক পন্থা পাইনি এখনো।
শত্রু প্রকাশ্যই উত্তম, পাকিস্তানীরা শত্রুতার জেরে যুদ্ধ করে পালিয়েছে বহু আগে আর অন্যদিকে বন্ধুত্বের আড়ালে ক্রমাগত আঘাতে আমাদের ক্ষতবিক্ষত করছে ভারত। আমরা সবাই জানি সব। কেউ নীরব তার রাজনৈতিক আদর্শের বিরোধিতা হবে বলে, আর কেউ নীরব প্রতিবাদে ব্যক্তিজীবন ধ্বংসের ভয়ে।
আসলে আমরা সবাই স্বার্থপর, আমরা নিজেকে নিয়েই ভাবি। তিনবেলা পেটভরে খাবার খাওয়ার নিশ্চয়তা পেলেই আমরা খুশী কিন্তু ভাবিনা কতদিন এ নিশ্চয়তা থাকবে। সবদিক মিলিয়ে আমরা সবাই বন্দি। উপলব্ধি আছে, আবেগ আছে কিন্তু প্রকাশ করতে সংশয়টাই বেশী। দেড় লক্ষ বর্গমেইল নিয়ে ভাবার মতো আমি বিশেষ কেউ না; এটাই আমাদের ভাবনা। ভাসানী একাই ছিলেন, বঙবন্ধু, জিয়া সব একাই ছিলেন; একাএকা ভেবে ভেবেই পরে তারা জাতির দিশারী হয়েছিলেন।
আমরা আর কতকাল পরাধীনতার শৃঙ্খলে স্বেচ্ছায় নিজেকে বন্দি করে শুধু আফসোস করেই যাব? কতকাল বাংলাদেশকে ভালো না বেসে শুধু ইন্ডিয়া আর পাকিস্তানকে ঘৃণা করবো?

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




